শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০২ এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং ধারাবাহিক সেবাকে কেন্দ্র করে তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকছে আরও শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী এবং পেশাদার ধাত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সুস্থ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন, তা হলো- চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এমন একটি ব্যবস্থায় যাওয়া, যেখানে রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
এখানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপ : প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে একীভূতকরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বক্তৃতাকালে ডা. জুবাইদা রহমান আজ বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) ব্যবস্থা রূপান্তরে চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গ্রাম থেকে শহরে ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে। এর সঙ্গে থাকবে আরও শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ও শিশুরা।
জুবাইদা রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং তাদের বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে একীভূত করা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু তাদের সংখ্যা বাড়ানো নয়। আমরা তাদের বহুবিধ পেশাজীবীর সমন্বয়ে গঠিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে একীভূত করতে চাই এবং গর্ভধারণের আগের সময় থেকে শুরু করে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী ও নবজাতকের সেবা পর্যন্ত ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি বলেন, আলোচনায় উপস্থাপিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পুরো যাত্রায় ধাত্রীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন সেবার কাঠামো থেকে একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুবাইদা রহমান বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে এবং প্রয়োজন হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থায় বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মিডওয়াইফ নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে পারে- উন্নততর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর সুফল।
তিনি বলেন, ‘নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও কাছাকাছি আনতে ও নিজস্ব অর্থে স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ উদ্যোগ উন্নয়নকে মানুষের কেন্দ্রস্থলে রেখে প্রতিরোধ, মর্যাদা ও প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- নারীরা যেন মাতৃত্বের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা পান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন সেবার জন্য আলাদা আলাদাভাবে যেতে না হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নারীর বাসস্থানের কাছাকাছি তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার ধাত্রীর সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।’
জুবাইদা রহমান বলেন, নিজ নিজ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপযোগী সমাধান তৈরি করার পাশাপাশি দেশগুলো যেন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘পেশাদার ধাত্রীরা জীবন রক্ষা করেন। এখন আমাদের কাজ হলো এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা তাদের কার্যকরভাবে, সমতার ভিত্তিতে এবং টেকসইভাবে এ কাজ করার সক্ষমতা সৃষ্টি করবে।’
তিনি বলেন, আলোচনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার।
আলোচনায় সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
সুইডেন সরকার ও ইউএনএফপিএ’র অংশীদারিত্বে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টায় শুরু হওয়া ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক নানা ইস্যু তুলে ধরছেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভাষণ দেন। এর মধ্যে রয়েছে—১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার এই ক্ষতবিক্ষত দেশকে মেরামতের জন্য ‘থ্রি আর’ কৌশলে এগোচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হবে, যা দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন; অর্থাৎ ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে সরকার কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।
সরকার তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। তাই নারীদের সরকারী পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি জানান, নারীদের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়; অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়। যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং নাগরিকের কাছে পৌঁছে। ইতোমধ্যে, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারের পরিকল্পনায় প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’— এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে। একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারপ্রধান বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।
তিনি বলেন, কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে, কোভিড বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করে চলছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে— সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ......সবার জন্য বাংলাদেশ’।
এ সময় বিশ্ব মানবতার প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, পরিবেশ ও নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর একমাত্র টেকসই সমাধানও মিয়ানমারের ভেতরেই নিহিত। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।
সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে, অদূর ভবিষ্যতে এটি কেবল এই অঞ্চলে নয়, পুরো বিশ্বে চরম মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রসঙ্গ তুলে ধরে এরপর তিনি বলেন, অভিবাসনপ্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন এবং অভিবাসীরা তাদের জন্মভূমি ও অবস্থানরত দেশ—উভয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার সর্বদা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ