শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৭ এম
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, পরিবেশ ও নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর একমাত্র টেকসই সমাধানও মিয়ানমারের ভেতরেই নিহিত। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।
সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে, অদূর ভবিষ্যতে এটি কেবল এই অঞ্চলে নয়, পুরো বিশ্বে চরম মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রসঙ্গ তুলে ধরে এরপর তিনি বলেন, অভিবাসনপ্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন এবং অভিবাসীরা তাদের জন্মভূমি ও অবস্থানরত দেশ—উভয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার সর্বদা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, "আমি বাংলাদেশের সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে যারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহীদ, এবং আহতদের প্রতিও আমি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই।"
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় জীবনের প্রথম ভাষণ প্রদানের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
ড. খলিলুর রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনার সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় আমি আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।" তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।" তিনি স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বীর ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের প্রতি তিনি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।" চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।"
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "একইভাবে, আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য।
হাদিস অনুযায়ী, নামাজ মুমিন এবং অমুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষের পাপ এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাল, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো-
ফজর- ভোর ৪: ৩৪ মিনিট
জুমা- দুপুর ১১: ৫৪ মিনিট
আসর- দুপুর ৪: ১২ মিনিট
মাগরিব- সন্ধ্যা ৫: ৫৭ মিনিট
এশা- রাত ৭: ১০ মিনিট
সূর্যাস্ত: ৫.৫২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বিশেষ ভূমিকা না থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের জন্য দেশের জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা নেই, তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশের ওপর পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ COP-31 (কপ-৩১)-এ ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।
তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের বন্যা ও খরার প্রভাব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে, পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ