মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৯ পি.এম
চাঁদপুর পৌরসভার নবাগত পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী সকল পক্ষের মতামত ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাকে ভিত্তি করে চাঁদপুরের সর্বস্তরের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর পৌর পাঠাগার মিলনায়তনে আয়োজিত নগর সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, "চাঁদপুর পৌরসভার সেবার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মূল্যবান পরামর্শ ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে আমরা এগোতে চাই। নগরবাসীর বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি টেকসই ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।"
এ সভাটি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খিসার দক্ষ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নানা পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক বি এম হান্নান, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিক আলম পলাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, আইনজীবী ইখতিয়ার উদ্দিন শিশু, চাঁদপুর শহর মহিলা দলের সভানেত্রী জোহরা আনোয়ার হীরা, সাধারণ সম্পাদক নাহিদা রহমান সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌসি আক্তার ইশিতা, সমাজকর্মী তানিয়া ইসলাম এবং কে এম সালাউদ্দিনসহ অন্যান্য গুণীজনেরা।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা চাঁদপুর পৌরসভার বিদ্যমান নানা সংকট তুলে ধরেন। পৌর এলাকার ভগ্ন সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করা, বর্ষার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শহরের প্রাণকেন্দ্রে তীব্র যানজট নিরসন, অবৈধ দখল থেকে ফুটপাত উদ্ধার, মশার কামড় ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের মতো জরুরি বিষয়গুলো সভার আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
উন্মুক্ত এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেন। নবাগত পৌর প্রশাসক দেবাশীষ চৌধুরী সহানুভূতির সঙ্গে সবার মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুততম সময়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব রেড ক্রিসেন্ট বরিশাল ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবগঠিত যুব কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কমিটিটি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরের যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ থেকে অনুমোদন লাভ করেছে।
নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে বরিশাল ইউনিটের যুব স্বেচ্ছাসেবকদের মানবিক কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বেচ্ছাসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নতুন কমিটির সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে Red Crescent Youth, Barishal Unit।
সংশ্লিষ্টরা নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে কাজ করে রেড ক্রিসেন্টের সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষি ও কুষকদের ভাগ্য উন্নয়নে গঠিত প্রাথমিক কৃষি সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় সংগঠন। এই নির্বাচন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত তিন সদস্যের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বখতিয়ার আলম। সদস্য হিসেবে ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ ই আলম এবং পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প কর্মকর্তা গোলাম হোসেন। নির্বাচনী ফলাফলে সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া সভাপতি, এইচ এম মনসুর আলী সহ-সভাপতি এবং মোঃ আবদুল সালাম, মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান, মোঃ মহসিন তালুকদার ও মিনহাজুল আলমকে তিন বছরের জন্য সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
গত রবিবার নব নির্বাচিত কমিটির উপর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রাথমিক সমিতির সদস্যদের কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, স্বল্প সুদে উৎপাদন মৌসুমে ঋণ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ, সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দেশে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের কার্যক্রম গতিশীল করতে ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভাড়াটিয়া চুক্তিনামার শর্ত লঙ্ঘন করে বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মার্কেটের সাতটি দোকান জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ভাড়াটিয়াগণ চুক্তিনামায় উল্লেখিত শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানগুলোকে অন্যদের কাছে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় হস্তান্তর করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বারবার নোটিশ প্রদান করেও ব্যর্থ হলে গত সোমবার দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালান মাদ্রাসার দোকান ঘর অবৈধভাবে দখলে রাখা মধ্যস্বত্ত্বভোগী নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন। এই অপপ্রচারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বাঙ্গড্ডা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাঙ্গড্ডা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই, খোরশেদ আলম, মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী। বক্তারা বলেন, ভাড়াটিয়া নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিগত সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তোপের মুখে পড়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পায় যে, মাদ্রাসা নথিতে উল্লেখিত টাকার ছেড়ে কয়েক গুণ বেশি জামানত ও ভাড়ায় ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। পরে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যের সত্যতার ভিত্তিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট থেকে দোকান ঘরগুলো উদ্ধারের নির্দেশনা প্রদান করেন তৎকালীন মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুর রহমান মাদ্রাসার ৯৬ নং সভার রেজুলেশনে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে, একই বিষয়ে বর্তমান সভাপতি ডক্টর হেদায়েতুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০৯ নং সভার রেজুলেশনে একই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সভাপতিদের নির্দেশনায়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ ভাড়াটিয়াদের বারবার নোটিশ প্রদান করে, কিন্তু ভাড়াটিয়াগণ সাড়া না দেয়ায় সর্বশেষ তালা ঝুলিয়ে দেয়। বক্তারা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খোরশেদ আলম, আমজাদ হোসেন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডি সদস্য আব্দুল গফুর মজুমদার-সহ মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষার্থী বৃন্দ ও এলাকাবাসী। অপপ্রচারের ঘটনায় অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেনকে দোকানে গিয়ে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, "বিষয়টি আমি জেনেছি। মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয়রা বসে সমাধান করতে পারলে ভাল। আমার কাছে আসলে কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রামু সহিংসতার ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। এই সময়ের মধ্যে বৌদ্ধদের মধ্যে সম্প্রীতি ফিরে এসেছে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাশৈলীতে নির্মিত বিহারগুলোতে পূণ্যার্থীদের পাশাপাশি বেড়েছে পর্যটক আকর্ষণ। বর্তমানে পুজাপার্বন ও ধর্মীয় উৎসবে অন্য ধর্মালম্বীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গন। সম্প্রীতিতে ফিরে আসায় বৌদ্ধরা খুশি। কিন্তু মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা নিরীহ লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশের দায়েরকৃত এসব মামলার বিষয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই বিদ্যমান। রাজনৈতিক দলের নেতাদের টার্গেট হিসেবে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে পুলিশ অসংখ্য নিরীহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়েছে। আবার বিভিন্ন এলাকার লোকজন পুলিশকে ম্যানেজ করে এসব মামলায় ফাঁসাতে নাম জড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনায় বৌদ্ধ সম্প্রদায় কোনো মামলা করেনি। তবে পুলিশের দায়েরকৃত বিতর্কিত মামলাগুলোতে আদালতে বছরের পর বছর হাজিরা দিয়ে নিরীহ লোকজন চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সাক্ষীর অভাবে এসব মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়ার পরও ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি মামলারও নিষ্পত্তি হয়নি। বারবার নোটিশের পরও সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ হওয়ার পথে। অর্থাৎ, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন থমকে গেছে।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহার এবং বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ও ৪১টি বসতঘর পুড়ে যায়। ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহারসহ অর্ধশত বৌদ্ধ বসতঘর। এতে কয়েক শত বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পুড়ে যায়। ঘটনার পরপরই পোড়া মন্দিরে নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এই নারকীয় হামলার বিচারপ্রক্রিয়া ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। সাক্ষীর অভাবে বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভয়াল রাতে দুষ্কৃতিকারীদের আগুনে বসত ঘরে পুড়ে যায় এডভোকেট সুমথ বড়ুয়ার ঘর। তিনি জানান, বর্তমানে পুলিশের দায়েরকৃত মামলাগুলোতে অনেক নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। যা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাই তিনি একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এতে নিরীহ লোকজনের হয়রানি বন্ধ হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধদের আক্ষেপ ও অভিযোগ হলো মামলার আসামী এবং সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে। বৌদ্ধরা মনে করেন, মামলার আসামী এবং সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেয়া হয়েছিল, তাদের নাম যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে সাক্ষীর তালিকায় থাকা অনেকেই জানেন না যে তাদের নাম সেখানে রয়েছে। এই কারণে ১৪ বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়ার অচলাবস্থা নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ বিদ্যমান।
রামু সহিংসতার সেই কালো রাতের ঘটনা স্মরণ করে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পরিচালক শীলপ্রিয় থের বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের বৌদ্ধ বিহারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সম্পদ ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সেই সময়ে কিছু দুর্বৃত্তের একটি রাত ছিলো। ঘটনার স্মরণে এখনও চোখ দিয়ে জল বাহির হয়ে আসে। কঠিন সময় গেছে আমাদের। দুর্বৃত্তরা আমাদের বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ পল্লী পুড়িয়ে দিয়ে অনেক ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, আমরা হারিয়ে যাওয়া দিনের চেয়ে বর্তমানে অনেক সম্প্রীতি ভোগ করছি। এখন আমাদের সম্প্রীতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা রামুবাসিরা সম্প্রীতিতে আছি। আগামী দিনেও আমাদের এ সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর ১২ বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘর, পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফে ৭টি বৌদ্ধ বিহার, ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পুড়ে যায় এসব মন্দিরে থাকা হাজার বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক সব নিদর্শন। লুটপাট ও ভাংচুর করা হয় আরো ৬টি বৌদ্ধ বিহার, অর্ধশত বৌদ্ধ বসতঘরে। এ ঘটনার পর দায়ের করা হয় ১৯টি মামলা। এর মধ্যে রামুর আটটি মামলায় ৪৫৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে রামু থানায় জনৈক সুধাংশু বড়ুয়ার করা মামলাটি দু’পক্ষের আপস মীমাংসার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হয়।
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, রামু সহিংসতার ১৪ বছরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে এসেছে। রামুর বৌদ্ধরা পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার। কিন্তু রামুর ঘটনার মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিলেও একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।
বৌদ্ধদের অভিযোগ, ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামু ও উখিয়া-টেকনাফে বৌদ্ধপল্লীতে চালানো নারকীয় হামলার ১৮ মামলার একটি বিচারও শেষ হয়নি। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় দায়ীরা কেউ শাস্তি পায়নি এখনও। ঘটনার পর বিভিন্ন মামলায় ৯৯৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় আটকরা সবাই এখন জামিনে মুক্ত। অনেকেই বিদেশে চলে গেছে। ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করেছে সরকার। দীর্ঘ ১৪ বছরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আবারও ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন রামুর বৌদ্ধরা।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, কয়েকটি মামলায় স্বাক্ষীরা আসলেও অনেক মামলায় স্বাক্ষীরা এখনো সাক্ষ্য দিতে আসেননি। সাক্ষীরা যদি যথাযথ সাক্ষ্যদান করেন, তাহলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করা যাবে এবং ঘটনার সত্য উদঘাটন হবে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামু ট্র্যাজেডির ঘটনায় ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার ছবি ট্যাগকারী উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে সপরিবারে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে এ ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রামুতে বৌদ্ধ বিহার পোড়ানোর দিন থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন উত্তম বড়ুয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ