১১:২৮ এম
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, সেনা ও নৌবহর মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গালফ নিউজও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দ্য সিলভা
গত সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে দুই পক্ষ স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা শুরু হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ম্যালোনির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিও নির্বাচনে চাপের মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: গ্যাবনে আট মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ম্যালোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে ওয়াশিংটনকে বিপুলসংখ্যক নৌসামরিক সম্পদ নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে। তাই কূটনীতি অথবা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান প্রয়োজন।
শুক্রবার ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চাইলে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সম্ভব। তবে তিনি ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করা হবে, নাকি দেশটিকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন।
এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হতে পারে। ইসরাইলে মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে এমন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ব্যারাকের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার বেশ কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। একই সঙ্গে, ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে পাকিস্তান : তালেবান
ক্যাম্পবেল জানান, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে আগের হামলার মতো শক্তি প্রদর্শন করেছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে নতুন হামলা ঠিক কখন শুরু হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন বলে মনে করেন ক্যাম্পবেল। তাঁর মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দেওয়াই যদি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এত বিস্তৃত সামরিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ক্যাম্পবেল আরও বলেন, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্প কম। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অভিযানে হাজার হাজার, এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কয়েক দশ হাজার সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এত বড় বাহিনী নিরাপদে মোতায়েন করার মতো জায়গা বর্তমানে সীমিত।
আরও পড়ুন: ১০ মাস নির্বাসনের পর ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো
ম্যালোনির মতে, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন অভিযান শুরু হলে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে—এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে সামরিক অভিযান বাড়ালেই সংঘাতের সমাধান হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। ম্যালোনির মতে, শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষের হামলা বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন