ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে হামলার ইঙ্গিত


মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-নৌবহর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানে হামলার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, সেনা ও নৌবহর মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গালফ নিউজও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আবারও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দ্য সিলভা

গত সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে দুই পক্ষ স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলা শুরু হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যালোনির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। এ ছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিও নির্বাচনে চাপের মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: গ্যাবনে আট মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ম্যালোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে ওয়াশিংটনকে বিপুলসংখ্যক নৌসামরিক সম্পদ নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে। তাই কূটনীতি অথবা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান প্রয়োজন।

শুক্রবার ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চাইলে সংঘাত দ্রুত শেষ করা সম্ভব। তবে তিনি ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করা হবে, নাকি দেশটিকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন।

এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হতে পারে। ইসরাইলে মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে এমন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ব্যারাকের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার বেশ কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। একই সঙ্গে, ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন: ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে পাকিস্তান : তালেবান

ক্যাম্পবেল জানান, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে আগের হামলার মতো শক্তি প্রদর্শন করেছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে নতুন হামলা ঠিক কখন শুরু হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন বলে মনে করেন ক্যাম্পবেল। তাঁর মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দেওয়াই যদি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এত বিস্তৃত সামরিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

ক্যাম্পবেল আরও বলেন, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্প কম। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অভিযানে হাজার হাজার, এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কয়েক দশ হাজার সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এত বড় বাহিনী নিরাপদে মোতায়েন করার মতো জায়গা বর্তমানে সীমিত।

আরও পড়ুন: ১০ মাস নির্বাসনের পর ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো

ম্যালোনির মতে, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন অভিযান শুরু হলে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে—এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সামরিক অভিযান বাড়ালেই সংঘাতের সমাধান হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। ম্যালোনির মতে, শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষের হামলা বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতের আগে ইউরোপে রেকর্ড সর্বনিম্ন গ্যাস মজুদ, সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


শীতের আগে ইউরোপে রেকর্ড সর্বনিম্ন গ্যাস মজুদ, সংকটের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে ইউরোপ শীত মৌসুমে রেকর্ড কম গ্যাস মজুত নিয়ে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মহাদেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বার্লিনে বুধবার অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।

বিরল আরও বলেন, শীতের আগে ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকে। কিন্তু এবারের শীত মৌসুমে গ্যাসের মজুত ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। শীত তীব্র হলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, চলতি বছর এবং আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য সহজ হবে না।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। সাধারণত এই সময়ে মজুত থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ। এ অবস্থায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইইউর জ্বালানিমন্ত্রীরা।

ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থায় নতুন নিয়োগপ্রার্থীদেরও প্রায়ই প্রশ্ন করতেন, প্রণালিটি আজই বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা কী পদক্ষেপ নেবেন।

তার মতে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিরল বলেন, এসব পদক্ষেপ আগে নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখন সরকারগুলো তাড়াহুড়ো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে উল্লেখ করেন আইইএ প্রধান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংঘাতের প্রভাব আগামী কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনুভূত হবে।

বিরল আরও বলেন, ইউরোপে শুধু গ্যাস নয়, ডিজেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ কমেছে। পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এ ঘাটতি ইউরোপের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।

আইইএ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। বিরলের মতে, জ্বালানি সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ আগেই নেওয়া হলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হতো। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


বঙ্গোপসাগরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আভাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম লিমিটেড শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, দক্ষিণ পূর্ব এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে আজ সকালে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি আগামী ৩-৪ দিন ক্রমান্বয়ে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং প্রথমে ৬-১২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপ, ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

সুস্পষ্ট লঘুচাপ কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বর্তমানে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ৩৫ কিমি/ঘণ্টা, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ৪৫ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই স্থানে সাগর ধীরে ধীরে কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক সব সমুদ্রবন্দরে কোনো সতর্ক সংকেত না থাকলেও শিগগিরই হুঁশিয়ারি সংকেত আসতে পারে। তাই আপাতত মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারসমূহ গভীর সাগরে (১৫০ কিলোমিটার এর বেশি দূরত্বে) যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে হবে।

এটি আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টা গড়ে দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরে শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে বেশিরভাগ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

সিস্টেমটি পশ্চিম মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। যদিও এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা কেমন হবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের কোনো ঝুঁকি নেই।

এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ২৮ তারিখের আশেপাশে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ বা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সিস্টেমের গতিপথ অনুযায়ী ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দূরবর্তী প্রভাবে বাংলাদেশের উপর ২৭/২৮ তারিখ থেকে একটি বৃষ্টি বলয় চালু হতে পারে। এতে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে ২৭/২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হলেও তুলনামূলক কম হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


ইরান সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা করেছে

ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন।

কর্মকর্তাদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তবে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। হামলার পর মেরামতকাজ বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনা তাদের মধ্যে রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “যদি ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে কোনো রেড লাইন বা সীমাবদ্ধতা আর অবশিষ্ট থাকবে না। সমুদ্রতলদেশের ক্যাবল থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি- এমনকি গোপন ঘাঁটিগুলোও তখন হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।”

তিনি ওয়াশিংটনকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, ইরানের কাছে সমুদ্রতলদেশের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা সহজেই সেগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে।

বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম প্রবাহিত হয়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সেখানে হামলার বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে একাধিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের হুমকির উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখা এবং উপসাগরীয় দেশ ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা।

এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো কেবল তেলনির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। বিকল্প স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলাস্কায় নির্বাচনের ফলাফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


আলাস্কায় নির্বাচনের ফলাফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান যদি পরাজিত হন, তাহলে ফলাফল প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার, ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছে দেশটির বিচার বিভাগ, যেখানে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপারে একই নামের আরেক প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটর ড্যান সুলিভান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, যেখানে নির্বাচনের আগে পেলটোলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

সরকারের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি সিনেটর সুলিভান একই নামের অন্য প্রার্থীর কাছে ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন, তাহলে আদালত যেন আলাস্কা অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন করতে বাধা দেয়। পাশাপাশি, ভোটাররা নামের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছেন কি না, তা তদন্ত করার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ফ্লোরিডায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমিই এটি করার নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি দ্বিতীয় সুলিভানের প্রার্থিতাকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে জানান, এটি বন্ধ করার জন্য তার প্রশাসন কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ব্যালটে থাকা দ্বিতীয় ড্যান সুলিভান একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার প্রার্থিতা বাতিলের পূর্বে কয়েকটি প্রচেষ্টা আলাস্কা সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দিয়েছে। তিনি একসময় ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসে কাজ করেছেন এবং চলতি বছরের শুরুতে রিপাবলিকান হিসেবে নিবন্ধন করার আগে আলাস্কা ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির সদস্য ছিলেন।

আদালতে দাখিল করা নথিতে অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র দাবি করেছেন, দ্বিতীয় সুলিভানের প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্য হলো সিনেটর সুলিভানের ভোট কমিয়ে মেরি পেলটোলাকে সুবিধা প্রদান করা। একই নামের দুই প্রার্থী থাকায় ভোটাররা ভুল করে অন্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন, যা নির্বাচনে ভোটারদের প্রকৃত অভিপ্রায়কে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে দ্বিতীয় সুলিভান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় পত্রিকা ‘পিটার্সবার্গ পাইলট’-কে তিনি বলেছিলেন, পেলটোলার নির্বাচনী প্রচারণায় কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা-ই তিনি জানেন না। ‘কোর্টহাউস নিউজ’-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোটাররা যেন বুঝতে পারেন কাকে বা কীসের জন্য ভোট দিচ্ছেন, সেটিই তার প্রত্যাশা। তবে ভোটারদের সামনে বিকল্প থাকা ভালো বলেও মন্তব্য করেন।

আলাস্কায় ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস’ বা পছন্দক্রম অনুযায়ী ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ভোটাররা প্রার্থীদের পছন্দের ক্রমানুসারে চিহ্নিত করতে পারেন। ফলে একই নামের দুই প্রার্থী ব্যালটে থাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মামলায় বলা হয়েছে, যদি মেরি পেলটোলা জয়ী হন এবং ভোটের ব্যবধান দেখে নামের বিভ্রান্তির প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে ফলাফল প্রত্যয়ন স্থগিত রাখা উচিত। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সুলিভানের নাম ব্যালটে না থাকলে নির্বাচনের ফল কী হতে পারত, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই মন্তব্য করেননি।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেখানে ট্রাম্প ১৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ অঙ্গরাজ্যটিতে তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আলাস্কার সিনেট আসনটি তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%