০১:৫৯ পি.এম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় চার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে ওই পরিবারগুলো তাদের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
‘পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা’ শিরোনামে আরটিভির ডিজিটালে প্রতিবেদন প্রচারের পর ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী কানাডা প্রবাসী জ্যোতির্ময় গোপ এবং তার কানাডা প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতায় চার পরিবারে নগদ ২০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার নাথ কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তিন পরিবারের মধ্যে আরও ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের স্ত্রীর হাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিজন কুমার দেব, কমিউনিটি নেতা প্রমুদ দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব অমিত কান্তি দেব, সাংবাদিক গোবিন্দ দেব, সমাজকর্মী আব্দুল মুকিত, তৈয়বুর রহমান সিতু, মোহন গোপ, রুবেল আহমেদ ভুইয়া, রিংকু দেবনাথ।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব অমিত কান্তি দেব বলেন, আড়াই মাস আগে নৌকাডুবিতে ওই চার পরিবারের প্রধানের মৃত্যুতে ছোট ছোট শিশু সন্তান নিয়ে পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আরটিভির প্রতিবেদনটি দেখে ঢাকা থেকে নাথ কল্যাণ সমিতির সভাপতি সুজন চন্দ্র দেবনাথ সমিতির পক্ষ থেকে এ অনুদান দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কারো বাবা এবং কারো স্বামীহারা ওই পরিবারগুলো কিছুটা হলেও পূজার আনন্দে হাসি ফুটবে।
সমাজকর্মী আব্দুল মুকিত বলেন, আরটিভির প্রতিবেদনটি দেখে আমাদের কানাডা প্রবাসী বন্ধু জ্যোতির্ময় গোপ ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৌকা ডুবে জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুরের মৃত জোগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ, একই এলাকার মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সতীন্দ্র দেবনাথ, মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অরুণ দেবনাথ এবং তার ছোট ভাই অধির দেবনাথ নিখোঁজ হন। পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই চার জন ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন