শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
পাবনা সদরের গয়েশপুর এলাকায় মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন তরুণ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৯ টার দিকে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জালালপুর বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন, সদর উপজেলা গয়েশপুর এলাকার জালালপুর নতুন পাড়ার মোজাফফরের ছেলে সেলিম (৪৫) এবং অপরজন নয়ন মিয়া (২০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জালালপুর থেকে গয়েশপুর যাওয়ার পথে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। একই সময় আরও দু’জন আহত হন, যাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গয়েশপুর থেকে জালালপুরের এই সড়কটি অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এই সড়কে ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন যানবাহন ও তরুণ বাইকারদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ। এ ঘটনায় হোটেলটির ম্যানেজার আতাউর রহমানকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির। এর আগে বুধবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। তিনি ওই আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের সন্তান। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
এসআরবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি-৮। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, "ভেদরগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
প্রসঙ্গত, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বাড়ি অবস্থিত। সেখানে বেড়াতে এসে রোববার রাতে তিনি স্ত্রীকে সর্বশেষ মুঠোফোনে কল করেন। এ সময় এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান তিনি। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সোমবার তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে স্ত্রীকে কল করে আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমে দুই হাজার টাকা এবং পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কালিয়াকৈর থানায় জানানো হলে পুলিশ মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।
পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় আসেন। পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধুখালী, ফরিদপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে একটি অ্যাম্বুলেন্সের। এই দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের ৩ যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটের সময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আড়পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, "ইতোমধ্যে ৩ জন মারা গেছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৭নং জগদল ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত শাহ আনাছ আলী (রহঃ) পীর সাহেবের মাজার। তিনি ফুলতলী ধারার খলিফা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্মৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য আজও এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শাহ আনাছ আলী (রহঃ) পীর সাহেবের নিজ বাড়িতেই তাঁর মাজার অবস্থিত। মাজারের পাশে রয়েছেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান শাহ শাখবুল আলী পীর সাহেব এবং শাহ মুজাক্কির (রহঃ) পীর সাহেবের স্মৃতিবিজড়িত স্থান—যা এই এলাকার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
পীর-আউলিয়াদের জীবন, তাঁদের ধর্মীয় শিক্ষা, মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক আদর্শ মানুষের মাঝে নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
📍 স্থান: হোসেনপুর গ্রাম, ৭নং জগদল ইউনিয়ন, দিরাই, সুনামগঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তিপূজায় অংশ নেওয়া, দুর্গাদেবীর প্রশংসা করা এবং শিরকী কাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের তওবা করে ঈমান নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের মৌলিক আকিদা হলো, আল্লাহ তাআলা এক ও অদ্বিতীয়। একমাত্র আল্লাহ তাআলা ইবাদত ও উপাসনার উপযুক্ত। ইসলামে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ এবং এটি শিরক, যা গুরুতর গুনাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো মুসলমান যদি জেনে-বুঝে মূর্তিপূজাকে ধর্মীয় উপাসনা হিসেবে গ্রহণ করে, সমর্থন জানায় কিংবা এর সঙ্গে উপাসনাগত একাত্মতা প্রকাশ করে, তাহলে তা ঈমান ও আকিদার পরিপন্থী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন আরও বলেন, দুর্গাপূজার মন্দিরে মূর্তিকে কেন্দ্র করে যে ধর্মীয় উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়, তার সঙ্গে মুসলমানদের আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নিরাপত্তা ও সৌজন্য প্রদর্শনের নামে কোনো মুসলমানের মূর্তিপূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট উপাসনাগত বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, যারা দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তির সামনে উপাসনামূলক সম্মান প্রদর্শন করেছেন, বক্তব্যে দুর্গাদেবীর ক্ষমতার কথা বলেছেন কিংবা মূর্তিপূজার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করেছেন, তাদের নিজেদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে পর্যালোচনা করা উচিত।
তাঁর মতে, কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঈমানের পরিপন্থী বিশ্বাস বা শিরকের সমর্থন প্রকাশ পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য আলেমদের পরামর্শে ঈমান নবায়নের জন্য কালেমা পাঠ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অজুহাতে মুসলমানদের ঈমান-আকিদার প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সীমারেখা অক্ষুণ্ন রেখেই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। অন্য ধর্মের উপাসনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ না করেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ