বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৫ পি.এম
রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাদক কারবারিদের কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই উপজেলায় মাঝে মাঝে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে জেল জরিমানা করা হচ্ছে। তবে, এখানে কিছু চিহ্নিত বড় মাদক কারবারি ধোঁয়াছোয়ার বাহিরে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচা করছে। এর ফলে পুঠিয়া এবং বেলপুকুর থানা এলাকা দুইটিতে মাদককারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পুঠিয়া পৌর সদরের ৪নং ওয়ার্ডের আদিবাসি পাড়ায় সাবেক সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের নেতৃত্বে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হতো চোলাই মদ তৈরি করার কারখানায়। বর্তমানে চোলাই মদ তৈরির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা পূর্বের মতো প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রি করছে। গত কয়েক বছর ধরে নতুন কৌশলে আদিবাসীরা চোলাই মদ বিক্রি করছে। বিভিন্ন স্থানে পরে থাকা পরিত্যক্ত কমল পানির বোতল সংগ্রহ করে তার ভেতরে চোলাই মদ ঢুকিয়ে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দারা একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ থানায় দিয়েছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। চোলাই মদ খেয়ে অনেকে বেহুশ হয়ে যেখানে সেখানে পড়ে থাকছে। আবার কেউ মদ খেতে এসে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসি পাড়ার থানার দুরত্ব মাত্র প্রায় ৪শত মিটার হবে। রাজশাহী হতে এসআরবি-৫ এসে আদিবাসি পাড়ায় অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা সেখানে নির্বিকার রয়েছেন।
যেসব এলাকায় মাদক কারবারিদের রমরমা কেনাবেচা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে পুঠিয়া বাজার, মোল্লাপাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছুগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, ঝলমলিয়া বাজার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন বেলপুকুর থানার জামিরা, ডিসির মোড়, বগারটেকসহ একাধিক স্থানে মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আদিবাসি পাড়ার স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রতিটি মাদককারবারির সঙ্গে মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা এবং পুলিশের কিছু সদস্যের সমঝোতা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক কারবারি জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক সদস্য এই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সখ্যতা থাকায় তারা নির্দ্বিধায় মাদক কারবারি করতে পারছেন। আদিবাসী পাড়ায় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন কর্মী নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন।
আদিবাসী পাড়ায় চোলাই মদ তৈরির উপাদান সরবরাহ করছে ক্ষমতাসীন দলের দুইজন কর্মী। তাই, উপজেলা জুড়ে হাত বাড়ালেই ট্যাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইরোইন, গাঁজা ও চোলাই মদ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট মাদক বিক্রেতারা বলছেন, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তারা মাদক কারবার করে আসছেন। চুক্তি না করলে একদিনও মাদককারবার করা সম্ভব নয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য সদস্যরা মাঝে মাঝে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে জেল জরিমানা আদায় করতে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, উপজেলায় হাতেগোনা বড় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ধোঁয়াছোয়ার বাহিরে থেকে মাদক কারবারি চালিয়ে আসছে। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক প্রকাশ্যে কেনাবেচা করছে। অথচ জেলা গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি), ডিএসবি এনএসআই প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করছেন না। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল তার দলীয় এবং সরকারি প্রতিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাদক কারবার বন্ধ করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়ে আসছেন। মাদকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরছেন। কিন্তু মাদক কেনাবেচা কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা (রাজশাহী-খ অঞ্চলের সার্কেল পরিদর্শক) হেলাল উদ্দিন বলেছেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থা নিয়েছি। মাদক বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির সাজেকে সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধের আয়োজন করা হয়েছে। এই অবরোধের উদ্দেশ্য হলো হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকান ভাংচুরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। পাশাপাশি সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থন জানানোও এর লক্ষ্য। আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে এই অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা অবরোধটি সফল করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং দুই জেলার সকল যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার গাবতলীর পেরীরহাট এলাকায় সাইফুল ইসলামের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে কথিত তিন সাংবাদিককে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়েছে। এই ঘটনা ঘটে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে মহিষাবান ইউনিয়নের সোনাকানিয়া ব্রিজ এলাকায়।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া থেকে আগত বিপ্লব, রাজিব ও মিথুন নামের তিন সাংবাদিক সকাল ৬ টায় মোটর সাইকেলযোগে গাবতলীর পেরিরহাট এলাকায় পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই তিন সাংবাদিক সার বোঝাই একটি ভ্যান আটকিয়ে দুই লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আশপাশের স্থানীয় জনগণ সেখানে জড়ো হয়।
সার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৬৫) জানান, চাঁদা চাওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তারা বগুড়া থেকে আগত তিন সাংবাদিককে গণপিটুনি দেয়, যার ফলে কথিত সাংবাদিকরা গুরুতর আহত হন। গণপিটুনির ফলে সাংবাদিক বিপ্লবের বাম হাত ভেঙে যায়। হাত ভেঙে যাওয়া সাংবাদিক বিপ্লব জানান, খুচরা সার ব্যবসায়ী সাইফুল ৫টি ভ্যানে ১'শ বস্তা সার অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে চাওয়ার পর মব সৃষ্টি করে তাদেরকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
সার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম আরও জানান, বিপ্লব, রাজিব ও মিথুন নামের তিন সাংবাদিক সারের ভ্যান আটকিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে স্থানীয় জনগণ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে মারধর করে। তিনি দাবি করেন যে, এর আগে ওই তিন সাংবাদিক নিউজ করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।
গাবতলীর সার, চালসহ বিভিন্ন ডিলাররা জানিয়েছেন, এই কথিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি বগুড়ার আরও কিছু সাংবাদিক মাঝে মাঝে গাবতলীতে এসে সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিউজ করার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। গাবতলীর ইউএনও হাফিজুর রহমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেছেন, তারা বিষয়টি শুনেছেন এবং এটি খতিয়ে দেখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বন্দরের জেটি এলাকায় গিয়ে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন, যাতে বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করা যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনায় সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান তারেক রহমান। সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। এর আগে খুলনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা হেলিকপ্টার ও জলযানে ঘুরে দেখেন তিনি। পরে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
সেখান থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় যান তিনি। বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পরিস্থিতির মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যাত্রা করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি রওনা হয়। এই ফ্লাইটে মোট যাত্রী ছিলেন ৩৭৯ জন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র শাহনূর আহমেদ ‘আমার দেশ’-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ফ্লাইটটি সকাল ৮টায় দাম্মামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।
এদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।
১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল: আটকে পড়া যাত্রী ২০ হাজার ৬৭২ জন
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর যাত্রীসংখ্যা ২০ হাজার ৬৭২ জন।
বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৬২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৩টি রয়েছে।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ