বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৮:৪৬ পি.এম
রাজশাহী নগরীতে বিপুল পরিমাণ এ্যালকোহল এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পবা থানার দাদপুর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০ বোতল এ্যালকোহল এবং ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোঃ আলাউদ্দিনের স্ত্রী মোসাঃ নাসিমা বিবি পালিয়ে গেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: নগরীর পবা থানার দাদপুর পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ আলাউদ্দিনের ছেলে মোঃ নাসির আলী (২৪) এবং একই এলাকার মোঃ আসাদুল আলীর ছেলে মোঃ আল মামুন (২৬)।
বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিল।
পুলিশের তদন্তে পলাতক নাসিমা বিবির সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে পবা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের এবং পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে বরিশাল। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই কালীবাড়ি রোড, ভাটিখানা, কাউনিয়া জানুকী সিংহ রোড, বগুড়া রোড, সদর রোড, বটতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রতত্র ভবন নির্মাণ এবং বছরের পর বছর ধরে খাল, পুকুর ও জলাশয় ভরাটের কারণে বরিশাল নগরীর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এক সময় নগরীর বিভিন্ন খাল, পুকুর ও জলাশয় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে সেগুলোর অনেকগুলোই দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর বটতলা, বগুড়া রোড, ভাটিখানা ও কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বৃষ্টির পর সড়কে জমে থাকা পানি নামতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বটতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই বটতলা এলাকার মুনসুর কোয়ারটা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক পানি জমে যায়। এই পানি নামতে অনেক সময় লাগে। ফলে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারেন না এবং আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
নগরীর বগুড়া রোড এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক জানান, নগরীতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তখন আমাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্রেতা সমাগমও কমে যায়।
পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগরীর প্রাকৃতিক জলাধার ও খালগুলো সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা দ্রুত খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরবাসীর দাবি, বরিশালকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে খাল-পুকুর রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে ৬৬ হাজার ৩৯৫জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; রাখাই রাসিক প্রশাসক। আগামী ২৮ জুন সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ৬-১১ মাস বয়সী ৯ হাজার ১১৩জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৫৭ হাজার ২৮২জন শিশুসহ সর্বমোট ৬৬ হাজার ৩৯৫জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৮ জুন সারাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, শিশুর সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ শিশুর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অপুষ্টিজনিত নানা ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দেয়। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নির্ধারিত বয়স অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজশাহী নগরবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান আপনার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান। একটি ছোট উদ্যোগ আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে শিশুদের অপুষ্টিমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
এ সময় রাজশাহী মহানগরীতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন রাসিক প্রশাসক। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন রাসিকের ব্যবস্থাপনায় ৩০টি ওয়ার্ডে ৩৮৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও ক্যাম্পেইন চলাকালীন ওয়ার্ড কার্যালয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইন সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নে ৩৮৪টি কেন্দ্রে ২ জন করে সর্বমোট ৭৬৮জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আজাদ হোসেন হাওলাদার। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হতো। সেই সুযোগে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষার্থীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষক সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা আশা করি না। আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয় থেকে অপসারণ চাই।”
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকন বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আগে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বিক্ষোভের কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক আজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি।”
তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।”
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ডাসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ