১০:৪১ পি.এম
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তারা বলেছেন যে দেশে আর স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি না করতে হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্স অ্যান্ড লিবারেশন ডে উপলক্ষে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন যে যুদ্ধের অনেক কাহিনী এখনও অজানা রয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর যারা ছিলেন, তারা যেন সাধারণ মানুষ প্রকৃত চিত্র জানতেই বাধা প্রদান করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস লেখা হোক, এটা তার প্রত্যাশা। মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুতে কাউকে কৃতিত্ব দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, ইতিহাসটি সঠিকভাবে লেখা অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ না করলে আজও বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। পাকিস্তানের শাসনাধীন থাকতে হতো। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা, এবং মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি হচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকেও।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাঙ্গালিদের মধ্যে যারা বীর সৈনিক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা সত্যি সাহস দেখিয়েছেন। সেই সময়ের তরুণরা ছিলেন দুঃসাহসী যোদ্ধা।
‘শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, এতে দোষের কিছু নেই, কারণ তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ছিলেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা স্বাধীনতা চাননি, কারণ তারা রাজনৈতিকভাবে ঘটনাগুলো মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন’, রাষ্ট্রপতি যোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। কারণ নির্বানের নামে কিছু প্রহসন হয়েছিল যা দেশে মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর ছিল।
আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা
‘যে স্বপ্ন নিয়ে আমি যুদ্ধ করেছিলাম, গণতন্ত্র, সাম্য, মানবতার জন্য, ৫০ বছর পরও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটি রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতা, কারণ তারা লোভ-লালসায় ডুবে ছিলেন’, হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, যদি আমরা যুদ্ধ না করতাম, তবে পলিটিক্যাল সমঝোতা হত, শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হতেন। আর যারা বিদ্রোহ করেছিলেন, তাদের অবস্থান কি হত?
সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে আর যেনো কোন স্বৈরশাসক সৃষ্টি না হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এটাকে ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন