এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
১২:৩০ পি.এম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ২০২৭-২৮ সেশনের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা, আলোচনা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের রকিব উদ্দিন মার্কেটের তৃতীয় তলায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার মারুফ শেখ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (১) মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক (২) মিজানুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক মুজাহিদুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে জুলাই সনদের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধ করা সম্ভব। দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এ সময় বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে ২০২৭-২৮ সেশনের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি কে এম আতিকুর রহমান নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
এ সময় নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনির একটি মহিলা মাদ্রাসার ভিতরে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে যাওয়ায়, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে কালকিনি পৌরসভার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এই ঘটনায় ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালেও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় আসে। সকালের সময়ে আচমকা মাদ্রাসার ভেতরের আঙিনায় (মাদ্রাসার ভিতরে অবস্থিত ইমন সরদারের বসতঘরের সামনে) বিকট শব্দ তৈরী করে একটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। বোমার প্রচণ্ড শব্দে পুরো আশপাশ এলাকা কেঁপে ওঠে।
এ বিস্ফোরণের ফলে মাদ্রাসার অন্তত চারজন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে আবিদা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন।
ঘটনার পরপরই কালকিনি থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ শুরু করে এবং এলাকা ঘিরে ফেলে রাখে।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, 'খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার মূল কারণ এবং এর পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও সিআইডির বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মনির হাওলাদার ওরফে হাসানকে (৪৫) পুলিশ দুই বছর পর গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া মনির হাওলাদার নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ফুলহরি গ্রামের প্রয়াত জৈনদ্দিনের ছেলে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের একটি জিআর মামলায় আদালত মনির হাওলাদারকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই সাজা ভোগ করার সময়, প্রায় দুই বছর আগে, কৌশল খাটিয়ে ঝালকাঠি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান মনির। তারপর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের অংশ হিসেবে ঈষৎ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে সিদ্ধকাঠি এলাকা থেকে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আ্যস্টন ভিলার ইতিহাসের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত জিমি রিমার ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯৮১ সালে অ্যাস্টন ভিলার চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী মৌসুমে, রিমার ছিলেন দলের নিয়মিত গোলরক্ষক। পরবর্তী বছর ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালেও তিনি মাঠে ছিলেন। রটারডামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে ভিলা ১-০ গোলে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই গোলরক্ষক আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।
অ্যাস্টন ভিলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্লাবটি এই খবরটি শুনে 'গভীরভাবে শোকাহত'।
ক্লাবটি সেই বিবৃতিতে লিখেছে, 'রিমার ছিলেন তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক এবং বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে সম্ভবত সবচেয়ে দুর্ভাগা খেলোয়াড়দের একজন। তিনি দুটি ইউরোপিয়ান কাপ বিজয়ীর পদক পেলেও কোনো ফাইনালের শেষ মুহূর্তে মাঠে থাকতে পারেননি।'
১৯৬৮ সালে, যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওয়েম্বলিতে বেনফিকাকে ৪-১ গোলে হারায়, তখন তিনি বেঞ্চে ছিলেন। আর ১৯৮২ সালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ভিলার হয়ে তিনি মাত্র নয় মিনিট খেলতে পেরেছিলেন। তারপরে ঘাড়ের চোটের কারণে তাকে বদলি করে নাইজেল স্পিঙ্ককে নামাতে হয়েছিল।
রটারডামে ক্লাব চিকিৎসক ডেভিড টার্গেটের চিকিৎসা নেওয়ার সময়, ড্রেসিংরুমে রিমার কাঁদছিলেন। তবে, পিটার উইথে জয়সূচক গোল করার সময় তিনি আবার ডাগআউটে ফিরে এসে দলের সঙ্গে উদযাপনেও যোগ দেন।
তবুও, তিনি ভিলার সেই মৌসুমের নয়টি ইউরোপিয়ান কাপ ম্যাচের সবকটিতে মূল একাদশে থাকা মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন। এর আগে ১৯৮০-৮১ সালের শিরোপা জয়ী মৌসুমেও তিনি দলের সাতজন নিয়মিত খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন।
অ্যাস্টন ভিলা আরও লিখেছে, 'এই কঠিন সময়ে জিমির পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি ক্লাবের সবার সমবেদনা রইল। শান্তিতে ঘুমান, জিমি।'
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে, রিমারের মৃত্যুর খবরে তারা 'গভীরভাবে শোকাহত'। ক্লাবটি আরও বলেছে, 'এই কঠিন সময়ে জিমির প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা।'
রিমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে তার আরেক সাবেক ক্লাব আর্সেনালও। ক্লাবটি লিখেছে, 'সাবেক আর্সেনাল গোলরক্ষক জিমি রিমারের মৃত্যুর খবরে ক্লাবের সবাই অত্যন্ত দুঃখিত।'
১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিন মৌসুমে, তিনি শুধু দুটি ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন। আর্সেনালের হয়ে তিনি ১৪৬টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৭৫ সালে ক্লাবের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন।
জিমি রিমার ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের সাউথপোর্টে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে স্কুলছাত্র হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন এবং দুই বছর পর পেশাদার ফুটবলার হন। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তিনি ১১ বছর কাটান। সেখানে মূলত অ্যালেক্স স্টেপনির বিকল্প গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেন। মাঝে সোয়ানসি সিটির হয়ে ধারে খেলেন।
১৯৭৪ সালে আর্সেনালে যোগ দেন এবং ক্লাবটির হয়ে ১৪৬টি ম্যাচ খেলেন।
এর তিন বছর পর, অ্যাস্টন ভিলার কোচ রন সন্ডার্স ৬৫,০০০ পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে ভিলা পার্কে নিয়ে আসেন। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে অভিষেকের পর তিনি টানা ছয় মৌসুম অ্যাস্টন ভিলার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ২৮৭টি ম্যাচ খেলেন।
ঘাড়ের চোট থেকে সুস্থ হওয়ার পর ১৯৮২-৮৩ মৌসুমের প্রথমার্ধে তিনি আবারও ভিলার নিয়মিত গোলরক্ষক ছিলেন। ওই year's বড়দিনের পর বার্মিংহাম শহরের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তার শেষ খেলা।
১৯৮৩ সালে তিনি স্থায়ীভাবে আবার সোয়ানসি সিটিতে ফিরে যান। পরবর্তীতে, চীন ও কানাডায় কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে রিমার মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১৯৭৬ সালে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় তার।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলও তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, 'শান্তিতে ঘুমান, জিমি রিমার।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক রাজনীতির কারিগর। তিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপি যেভাবে একটি সম্পূর্ণ দল হয়ে উঠেছে, তার প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। তার আদর্শকে ধারণ করে, তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
এদিকে দল ক্ষমতায় থাকায় আপসহীন নেত্রীর নীতি ও আদর্শ ভুলে যাওয়া যাবে না, এ মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি কখনো নত হননি। নেত্রীর ত্যাগ ও আপসহীনতার কারণে বাংলাদেশ আজ এ পর্যায়ে এসেছে। খালেদা জিয়াকে আমাদের ধারণ করতে হবে।
গয়েস্বর চন্দ্র রায় বলেন, নেত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে আমরা গর্ব করি। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশে বিরল। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তিনিই একমাত্র আদর্শ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ