০৩:২৯ পি.এম
ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের ধরন বদলে গেছে। মিম, হাসি এবং প্রতিবাদের বিক্ষোভে সক্রিয় ভারতের তরুণেরা। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিম, ছোট ভিডিও ও ব্যঙ্গ-রস নিয়ে রাজপথে নামছেন হাজারো তরুণ ও তরুণী। শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জবাবদিহির দাবি নিয়ে তাদের এই আন্দোলন নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশ্যে ডাকা পদযাত্রায় অংশ নিতে যাওয়ার আগে অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কর্মসূচির সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের মধ্যে তরুণদের প্রতিবাদের মূল ভাষা ছিল তাদের নিজস্ব ভাষা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটি ছিল ভারতের নতুন প্রজন্মের একটি ভিন্নধর্মী আন্দোলন। তারা শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড, মিম এবং ছোট ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে অনেকের হাতে এমন লেখা ছিল যা একদিকে হাস্যরস তৈরি করেছে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকেই তরুণদের মধ্যে এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি হল, এসব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। আন্দোলনের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল। অনেকেই কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতির ভিডিও প্রকাশ করেন। আবার পুলিশের ব্যারিকেড এড়িয়ে দৌড়ানোর দৃশ্য, প্রতিবাদের মুহূর্ত এবং বিভিন্ন ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। ফলে আন্দোলন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে তরুণদের নিজস্ব ভাষায় প্রতিবাদ। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধু দিল্লি নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়সহ দেশের বিভিন্ন শহরেও সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যাঁরা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, তাঁরা অনেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। কোথাও কোথাও বিনা মূল্যে চা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়। আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরে, তাঁকে মোদি প্রশাসন কর্তৃক জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও গতি লাভ করে। এরপর সংসদ অভিমুখে সোমবার (২০ জুলাই) পদযাত্রার ডাক দিলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ এতে অংশ নেয়। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা হাসি-ঠাট্টা, মিম, গান, ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আন্দোলনের অংশ বানিয়েছে। তবে এসবের আড়ালে তাঁদের মূল লক্ষ্য একটাই, নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ সবার সামনে তুলে ধরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন