মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ পি.এম
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সমতলের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ দিতে ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসংক্রান্ত (এডিপি) আগস্ট মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও স্কিমগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ও প্রকল্প সাহায্যসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমতলের শিক্ষার্থীদের সমতুল্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে তাদের অগ্রগতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী ঢাকার শহর থেকে হোক কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা থেকে হোক—যোগ্যতা থাকলে তার সামনে সমান সুযোগ থাকবে।’
পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের পানি সংগ্রহের কষ্ট লাঘবে সুপেয় পানি সরবরাহের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আধুনিক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে।
প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভূমিধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি না করে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী সাচিং প্রু এমপিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোজ্যতেলে দেশের আমদানির ওপর নির্ভরতা এখনও বিদ্যমান। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবছর প্রায় ৩৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়। দেশের উৎপাদিত তেলবীজ থেকে প্রাপ্ত তেল মোট চাহিদার আনুমানিক ১৫ শতাংশ পূরণ করে। বাকি অংশ আসে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) অথবা তেলবীজ থেকে।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে, দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার কৃষিজমি, পতিত জমি এবং নদীর চরাঞ্চলে সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য তেলবীজের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আমন ও বোরোর মাঝের স্বল্পমেয়াদি সময়ে তেলবীজ চাষ বৃদ্ধি পেলে একই জমিতে বহুমুখি ফসল উৎপাদন সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) কৃষি শুমারি-২০১৯ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে তেলবীজ আবাদে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ২২ একর, যা প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৪৪ হেক্টরের সমান। রংপুর বিভাগে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৭৯ একর, বা প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৯ হেক্টর। দুই বিভাগ মিলিয়ে তেলবীজের আওতায় ছিল প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমি।
তেলবীজ আবাদে দুই বিভাগের মধ্যে রাজশাহী এগিয়ে রয়েছে। ২০২২-২৩ সালে দেশের মোট তেলবীজ উৎপাদন ছিল প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার টন; এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগ একাই প্রায় ৩ লাখ ২ হাজার টন উৎপাদন করে দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল। একই বছরে রংপুর বিভাগের উৎপাদন ছিল প্রায় ৬৯ হাজার টন।
জেলা পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি কৃষি শুমারির হিসাবে সিরাজগঞ্জে তেলবীজ আবাদি জমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি—১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৯ একর। এরপর নওগাঁয় ৫১ হাজার ১ একর, পঞ্চগড়ে ৪৮ হাজার ১৯৪ একর এবং পাবনায় ৪৭ হাজার ১৩১ একর জমিতে তেলবীজ আবাদ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেলবীজ চাষে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে সরিষায়। ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৬ লাখ ৪৬ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর এবং বগুড়া কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে।
রংপুর বিভাগেও সরিষার আবাদ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমিতে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় শেষ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৭৫ টন।
সূর্যমুখীও উত্তরাঞ্চলে পরীক্ষিত সম্ভাবনাময় ফসল। রংপুর অঞ্চলে ২০২৪ সালে ২২১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছিল। কুড়িগ্রামে ১০৮, গাইবান্ধায় ৬৯, রংপুরে ৪৩ এবং নীলফামারীতে ১ হেক্টর জমিতে এ আবাদ হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো নদীর চরাঞ্চল। রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর চর ও নদীর তলদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম ও সূর্যমুখীসহ নানা ফসলের চাষ হচ্ছে।
অন্যদিকে পদ্মা-যমুনার চরাঞ্চলেও সরিষা ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানাচ্ছে, রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মা অববাহিকার বালুচরে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরাও সরিষা চাষে যুক্ত হয়েছেন।
তবে সয়াবিনের ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চলের চরকে এখনও বড় বাণিজ্যিক উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের বড় অংশ তেল উৎপাদনের পরিবর্তে পশুখাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয় এবং ভোজ্য সয়াবিন তেলের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিন ও অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে পদ্মা-যমুনা-তিস্তা-ধরলার চরে সয়াবিনের সম্ভাবনা যাচাই করতে অঞ্চলভিত্তিক জাত, বপনকাল, লবণাক্ততা/জলাবদ্ধতা, বাজার ও তেল নিষ্কাশন সুবিধা নিয়ে পরীক্ষামূলক সম্প্রসারণের প্রয়োজন।
দেশে ভোজ্যতেলের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। USDA-এর হিসাবে মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পাম, ২৮ শতাংশ সয়াবিন, ১৯ শতাংশ সরিষা এবং ৩ শতাংশ অন্যান্য তেল। আর ২০২১ সালের একটি গবেষণায় পাম ৫১ শতাংশ, সয়াবিন ৪৩ শতাংশ এবং সরিষা ৫ শতাংশ ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়—অর্থাৎ উৎস ও বছরভেদে বাজারের হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
জাতীয় পর্যায়ে ৩৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদাকে জনসংখ্যার অনুপাতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রায় ২১-২২ শতাংশ জনসংখ্যার সঙ্গে তুলনা করলে এ অঞ্চলের সম্ভাব্য বার্ষিক চাহিদা আনুমানিক ৭-৭.৫ লাখ টন হতে পারে। এটি সরকারি অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার হিসাব নয়, জাতীয় চাহিদা থেকে করা একটি আনুমানিক হিসাব।
অতএব, উত্তরাঞ্চলের পতিত জমি, আমন কাটার পরের জমি এবং পদ্মা-যমুনা-তিস্তা-ধরলার চরকে পরিকল্পিতভাবে তেলবীজ উৎপাদনে যুক্ত করা গেলে দেশে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তেল নিষ্কাশন কারখানা, সংগ্রহ ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তেলবীজ উৎপাদন শুধু আমদানি নির্ভরতা কমাবে না, বরং উত্তরাঞ্চলের কৃষকের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে
বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দুই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, শিল্পখাতের বিভিন্ন বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সংসদীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা ও আলোচনার সুযোগ রয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে। ফলে, নতুন দায়িত্বের ফলে রূপগঞ্জের এই সংসদ সদস্য জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাতে কাজ করার সুযোগ লাভ করেছেন।
বিশেষ করে, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রূপগঞ্জের শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, গ্যাস ও জ্বালানি সুবিধাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদের উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডারেও মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সদস্যপদ হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দিপু ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় এ দায়িত্ব অর্পণের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রূপগঞ্জের মানুষের প্রয়োজন, সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন এবং সফরকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য প্রেসিডেন্ট তাঁকে অভিনন্দন জানান। তিনি ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও মালয়েশিয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার, তাদের মধ্যে শিশু এবং নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় শুরু হয়েছে। তবে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মালয়েশিয়ার সরকার জানিয়েছে, এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছায় হচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, দেশে ফিরে গেলে এসব মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাস এসে পৌঁছায়। পরে বাসগুলো বন্দরের দিকে চলে যায়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দরে মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ নোঙর করা ছিল।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে এবং ৭ জন মেয়ে রয়েছেন। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারই দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যাবাসনের পরবর্তী ধাপগুলোও সম্পন্ন হবে।
মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র এবং কুয়ালালামপুরে দেশটির দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, যাচাই করা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর জন্য তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে।
ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ
মালয়েশিয়া জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের কারণে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবেও দেখছে দেশটি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে। এর ফলে দেশটিতে এখনো অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের শরণার্থীদের নিরাপদ এবং স্থায়ীভাবে দেশে ফেরানো সম্ভব নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করা হয়নি।
এদিকে মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিরোধিতা বাড়ছে। এ কারণে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের পর অনেক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। ওই ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা চলছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী ছিলেন। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা। চলতি বছর অনলাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের হয়রানি বেড়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার যাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের জাতিগত পরিচয় বা শরণার্থী হিসেবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা আছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমানোর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে নিবন্ধিত মোট শরণার্থীর ৯৫ শতাংশের বেশি মিয়ানমার থেকে এসেছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘কয়েক দশক ধরে এই সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এর ফলে দেশের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, গুরুতর সামাজিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং মালয়েশিয়ার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র এবং কুয়ালালামপুরে দেশটির দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, যাচাই করা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর জন্য তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ