বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০১:০৫ পি.এম
দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। এ ছাড়া আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হাইকোর্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে চব্বিশের জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন চান তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ওই সময় তৌফিক-ই-ইলাহী জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী খোকন বলেন, আমার ক্লায়েন্ট তৌফিক-ই-ইলাহী শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৪ দলের কেউ নন। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। অথচ বর্তমানে তিনি এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্পর্কে যেকোনো মামলায় আসামি গ্রেফতার হওয়ার এক বছরের মধ্যে যদি তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া হয়, তাহলে জামিন পেতে পারেন। এজন্য তাকে জামিন দেওয়া উচিত।
এ সময়ে চিফ প্রসিকিউটরকে শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল, যিনি আরও সময় চান। তিনি জানান, এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আইনজীবী খোকন বলেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অন্য মামলায় গ্রেফতার হন তৌফিক-ই-ইলাহী। ট্রাইব্যুনালের এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় একই বছরের ২৭ অক্টোবর। আইসিটির কার্যবিধিতে বলা হয়েছে যে, গ্রেফতারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি না দিতে পারে তাহলে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ট্রাইব্যুনালে। ‘প্রাইমা ফেসি’ না থাকলে আদালত অব্যাহতি দিতে পারেন। এছাড়া উপদেষ্টার পদটি কোনো নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ে না। তিনি শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। এই উপদেশ সরকার পালন করতেও পারে নাও করতে পারে।
২০২৫ সালের ৮ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মায়ামিতে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে শেষ ৩২–এ স্থান করে নিল ব্রাজিল। নিজেদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হলেও, রাউন্ড অব ৩২–এ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নকআউট পর্বে ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল (২৬ জুন) ভোরে। এই দিন গ্রুপ এফ-এর শেষ রাউন্ডের ম্যাচে নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়ার এবং জাপানের প্রতিপক্ষ হবে সুইডেন। এই গ্রুপের একটি দলের বিরুদ্ধে রাউন্ড অব ৩২–এ ম্যাচ খেলতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এফ গ্রুপ থেকে তিউনিসিয়ার বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছে। নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং সুইডেন। বর্তমানে, জাপান এই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। যদি এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান।
গ্রুপ এফ-এর বর্তমান চিত্র:
* নেদারল্যান্ডস – ৪ পয়েন্ট (৭ গোল, গোল ব্যবধান ৩)
* জাপান – ৪ পয়েন্ট (৬ গোল, গোল ব্যবধান ২)
* সুইডেন – ৩ পয়েন্ট (৬ গোল, গোল ব্যবধান শূন্য)
* তিউনিসিয়া – ০ পয়েন্ট (গোল ব্যবধান মাইনাস ৮, বিদায় নিশ্চিত)
ব্রাজিল গ্রুপ সি-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গ্রুপ এফ-এর রানার্স-আপ দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি:
* নেদারল্যান্ডস যদি তিউনিসিয়াকে হারায় – তারা গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে, যদি না জাপান সুইডেনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গোল পার্থক্য বা গোলসংখ্যায় এগিয়ে যায়।
* নেদারল্যান্ডস যদি ড্র করে বা হারিয়ে যায় – তাহলে জাপান–সুইডেন ম্যাচের ফলাফল গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
* জাপান যদি সুইডেনকে হারায় – জাপান শীর্ষে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি নেদারল্যান্ডস জয় না পায় অথবা কম ব্যবধানের জয় পায়।
* জাপান–সুইডেন ম্যাচ ড্র হলে – জাপান শুধুমাত্র তখনই শীর্ষে উঠতে পারবে, যদি নেদারল্যান্ডস তিউনিসিয়ার কাছে হেরে যায়। অন্যথায়, দ্বিতীয় স্থানের জন্য হিসাব হবে গোল পার্থক্যের ভিত্তিতে।
* সুইডেন যদি জাপানকে হারায় – সুইডেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, যদি নেদারল্যান্ডস ড্র করে বা হেরে যায়। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াই হবে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মধ্যে।
নেদারল্যান্ডস কেমন দল?
কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে। দুই ম্যাচেই অরেঞ্জরা ৭ গোল করেছে এবং মাত্র ৩ গোল হজম করেছে।
আক্রমণে তাদের প্রধান শক্তি হচ্ছে কোডই গাকপো, দানিয়েল মালেন এবং ব্রায়ান ব্রবি। এছাড়া, পুরোপুরি ফিট না থাকলেও বেঞ্চে রয়েছেন অভিজ্ঞ মেমফিস ডিপেই। দলটির আক্রমণভাগ শক্তিশালী হলেও, জাপানের বিপক্ষে সেট-পিস ডিফেন্সে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে।
জাপান কেমন দল?
গত অক্টোবরে একটি প্রীতি ম্যাচে জাপান ৩-২ গোলে ব্রাজিলকে পরাজিত করেছিল।
কোচ হাজিমে মরিয়াসুর দল পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না। তাদের আক্রমণের মূল ভরসা হচ্ছে আয়ুয়াসে উয়েদা, তাকেফুসা কুবো, ডাইজেন মায়েদা, জুনিয়া এতো এবং রিতসু দোয়ান।
তবে, উইং-নির্ভর আক্রমণের কারণে তারা অনেক সময় কাউন্টার অ্যাটাকে ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেয়। এই বিষয়টি ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র, লুইজ হেনরিক এবং রায়ানদের মতো উইঙ্গারদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
সুইডেন কেমন দল?
সুইডেনের বিশ্বকাপ অভিযান ছিল ওঠানামায় ভরা। প্রথম ম্যাচে তারা তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে পরাজিত করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছে।
তাদের আক্রমণের প্রধান তারকা হচ্ছে ভিক্তর ইয়োকেরেস ও অ্যালেক্সান্ডার ইসাক। মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি প্রথম ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।
সুইডেনের বড় দুর্বলতা হচ্ছে তাদের রক্ষণভাগ। তারা প্রায়ই প্রতিপক্ষকে জায়গা দেয় এবং ডিফেন্সে ভুল করে বসে। নেদারল্যান্ডস ৫-১ জয়ে এই দুর্বলতাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীর আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় ‘দিয়াওইউতাই’ অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়েইং এর বৈঠক হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে চলমান ব্যাপক নদী খনন (ড্রেজিং) কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন সরকারপ্রধান।
জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং পানিসম্পদ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া উদ্যোগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক তথা গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
লি গোওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের দীর্ঘদিনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারে। এজন্য তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরচীনে গিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম ফজলুল হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উজ্জল বৈরাগী, ডাঃ মোঃ নাহিদুল হক, ডাঃ বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন,সহ-সভাপতি আঃ হামিদ, দৈনিক প্রগতির আলো পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার সাদাৎ ইমরান প্রমূখ।
সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি এবং শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যে ডাঃ সাইদুর রহমান ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে নির্ধারিত বয়সী সকল শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার জন্য অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এসময় সাংবাদিক সহ হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তার, নার্সগন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলা হলো একটি ভূকম্পন বেশি সক্রিয় এলাকা, যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান এই দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বিদ্যমান।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) দিনটি দুইটি ভূমিকম্পের আঘাতের ঘটনার সাক্ষী। এর মধ্যে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ছিল তুলনামূলকভাবে বড় এবং এটি ঘটেছে প্লেটগুলোর সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে 'অগভীর স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং'-এর কারণে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিস্থিতিটি এমন, যেখানে ফল্ট বা প্লেটগুলোর মধ্যকার ফাটলগুলো অনুভূমিকভাবে গতিশীল হয়। যখন এই গতির প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটে, তখন ভূমিকম্প তৈরি হয়।
ইউএসজিএস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, আজকের এই দুটি ভূমিকম্প 'সম্ভবত একটি জটিল ভঙ্গুরতা-বিস্তার প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত' দেয়।
তাছাড়া তারা আরো বলেছেন, পরবর্তীতে যে ধাক্কা বা আফটারশক আসতে পারে, তার মধ্যে 'কিছু ক্ষেত্রে শক্তিশালী কম্পনও থাকতে পারে', সেজন্য এখনো ঘটনার আশঙ্কা বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় এক মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২, যার কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর ঘটে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার মাত্রা ৭ দশমিক ৫ ছিল বলে জানান জিওলজিক্যাল সার্ভে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসজিএস জানাচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হতাহত এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিদ্যমান। দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারানোর আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ