ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেলের ট্যাংকারে ‘ইরানের হামলা’


আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেলের ট্যাংকারে ‘ইরানের হামলা’

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমিরাত এই ঘটনাকে শত্রুভাবাপন্ন ইরানি হামলা ও জলদস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় এডনকের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ট্যাংকারটির নাম বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, ইরান এ হামলার দায় এখনও স্বীকার করেনি এবং এ বিষয়ে তেহরানের কোনো মন্তব্যও করেনি।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানাল মিসর ও পাকিস্তান

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা অবাধ নৌ-চলাচল সংক্রান্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী।

তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে এবং অবিলম্বে এই পথ সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল যে, তেহরানের শত্রুদের সাথে সম্পৃক্ত বা তাদের নির্দেশনা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনক জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এসব হামলায় এখন পর্যন্ত একজন ক্রু সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডনক বর্তমানে চরম প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাবতলীতে ফ্রিজিং গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কোল্ড স্টোরেজ কর্মীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


গাবতলীতে ফ্রিজিং গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কোল্ড স্টোরেজ কর্মীর মৃত্যু

মিরপুর গাবতলী দীপনগর মাছের আড়তের নিকটে একটি মাছবাহী ফ্রিজিং গাড়ি মেরামত করার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণে ইমরান (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন, যিনি কোল্ড স্টোরেজের কর্মী ছিলেন।

ঘটনাটি শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে ঘটেছে। এই ঘটনার কারণে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি দারুস সালাম থানাকে জানানো হয়েছে।

নিহত ইমরান নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারোয়ার মোল্লার ছেলে।

ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা উদ্ধারকারী মো. সবুজ জানিয়েছেন, দীপনগর এলাকার কোল্ড স্টোরিজের সামনে মাছ বহনকারী একটি ফ্রিজিং গাড়ি মেরামত করা হচ্ছিল। সেখানে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই গাড়ির সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়েছে, ফলে সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আমরা গুরুতর আহত ইমরানকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের আবাসিক হোটেলে ফের জমজমাট অনৈতিক বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বরিশাল প্রতিনিধি:

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ এম


বরিশালের আবাসিক হোটেলে ফের জমজমাট অনৈতিক বাণিজ্য

 

পোর্টরোড থেকে মহাসিন মার্কেট, নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী—অভিযান থমকে যাওয়ায় মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগ; পুলিশের একাংশের ‘সমঝোতা’র অভিযোগ

বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড ফের জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোর্টরোড, বিউটি রোড, মহাসিন মার্কেট, সিনেমা হল রোড, নথুল্লাবাদ ও রূপাতলীসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অনেকটাই কমে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সাবেক বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার আসিক সাঈদ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি হওয়ার পর এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি নগরীর বিউটি রোডের একটি আবাসিক হোটেলে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ‘জিনসিন’ সিরাপ সেবনের পর এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোর্টরোড ও আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলোতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় বেশ কয়েকটি হোটেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ।

ডিবির একাংশের বিরুদ্ধে গোপন ‘সমঝোতা’র অভিযোগ:

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানা পুলিশের পরিবর্তে আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযানের বড় অংশ ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত থাকায় পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের মালিক ও পরিচালনাকারীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে হোটেল পরিচালনার জন্য কথিত একটি সময়সূচি নির্ধারণ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, রাত ১১টা পর্যন্ত হোটেলগুলো স্বাভাবিক রাখার এবং এরপর থেকে সকাল পর্যন্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‘হোটেল অতিথি’তে বৈঠকের অভিযোগ:

পোর্টরোডের ‘হোটেল অতিথি’র একটি কক্ষে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে হোটেল পরিচালনাকারীদের বৈঠক এবং সেখানে কথিত আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে হোটেল পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে মহাসিন মার্কেটের একটি আবাসিক হোটেলের পরিচালক সুমনের মাধ্যমে কথিত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

পরিচালকের বক্তব্যে নতুন তথ্য:

মহাসিন মার্কেটের ‘হোটেল মনপুরা’র পরিচালক সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোটেল ব্যবসা চালুর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন হোটেল বন্ধ থাকলেও মালিককে ভাড়া দিতে হয়েছে। এখন ব্যবসা শুরু হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকদের লেখালেখি না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মাসিক অর্থ দেওয়া এবং ডিবি পুলিশকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে তিনি কাদের অর্থ দেওয়ার কথা বলেছেন এবং বাস্তবে কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল:

অনুসন্ধানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেলের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হোটেলের সবগুলোর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। তবে কয়েকটি হোটেলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে।

পোর্টরোড ও কলাপট্টি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘হোটেল অতিথি’, ‘সিভিও’সহ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। জাহানারা ফলপট্টির মোড় ও নিউ মায়ের দোয়া ফল ভান্ডারের পাশের এলাকাতেও আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

সেটেলমেন্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় ‘হোটেল কাউইলী’, ‘হোটেল চিল’, ‘হোটেল সি প্যালেস’, ‘হোটেল স্বাগতম’ ও ‘হোটেল নিউ রোজ হ্যাভেন’-এর নাম স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘হোটেল চিল’-এর মালিক হিসেবে আলামিন সিকদারের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সূত্র।

মহাসিন মার্কেটের ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে ‘হোটেল ভোলা’ ও ‘হোটেল মা বোর্ডিং’সহ আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ‘হোটেল ভোলা’র পরিচালক হিসেবে আজিজ এবং ‘হোটেল মনপুরা’র পরিচালক হিসেবে সুমনের নাম স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোগে এসেছে।

চকবাজার, সিনেমা হল রোড ও বিউটি হলসংলগ্ন এলাকাতেও রয়েছে একাধিক আবাসিক হোটেল। মেইন রোডে ‘হোটেল গালিব’ এবং সোনালী সিনেমা হল মোড়ে ‘হোটেল প্যারালাইস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম পাওয়া গেছে।

নথুল্লাবাদেও আবাসিক হোটেলের ছড়াছড়ি:

নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘হোটেল ঘাসফুল’, ‘হোটেল নাসিফ’, ‘হোটেল সিদ্দিকিয়া’, ‘হোটেল রিয়া’ ও ‘হোটেল সুইডেন প্যালেস’সহ একাধিক আবাসিক হোটেলের নাম স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

এছাড়া আলী চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনের এলাকাতেও কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

আমতলার মোড়, সাগরদিঘী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, পুরাতন র‌্যাব কার্যালয়ের সামনের ‘অবকাশ আবাসিক’, কালোজিরা রোডের ‘হোটেল সিঙ্গাপুর’ এবং রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের ‘হোটেল স্বাধীন পার্ক’সহ বিভিন্ন এলাকায় আরও আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন:

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় আবাসিক হোটেলের সংখ্যা বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারক করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু হোটেলে আবাসিক থাকার আড়ালে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে এসব এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, কোনো আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে শুধু অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট হোটেলের লাইসেন্স, অতিথি রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মচারীদের তথ্য এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগসহ সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি:

আবাসিক হোটেলকেন্দ্রিক কথিত অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের যোগসাজশের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। কারণ অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

এ কারণে নগরবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকা আবাসিক হোটেলগুলোর বৈধতা, লাইসেন্স ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নতুন বিএমপি কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিল অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, পোর্টরোড, বিউটি রোড, মহাসিন মার্কেট, নথুল্লাবাদ, সিনেমা হল রোড ও রূপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিএমপি কী পদক্ষেপ নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নখের পরিবর্তনেই মিলতে পারে অসুস্থতার ইঙ্গিত, যা বলছেন চিকিৎসকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ এম


নখের পরিবর্তনেই মিলতে পারে অসুস্থতার ইঙ্গিত, যা বলছেন চিকিৎসকেরা

শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে নখের রং, আকৃতি ও গঠনেও স্বাস্থ্যের নানা ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নখে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলেই সেটিকে রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে যদি পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা অস্বাভাবিকভাবে দেখা দেয়, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

নখ হলুদ হয়ে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হল ছত্রাকের সংক্রমণ এবং ধূমপান। এই পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বা লিভারের সমস্যার সঙ্গেও নখের হলুদাভ রঙের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া শ্বাসতন্ত্রের কিছু রোগ এবং আর্থ্রাইটিসের কারণে নখের রঙে পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। তাই যখন নখ হলুদ হয় তখন আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু যদি সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, যখন নখ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তখন এটি রক্তস্বল্পতার ইঙ্গিত হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরো নখ সাদা হয়ে গেলে তা ডায়াবেটিস বা লিভারের রোগের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া যায়। নখে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা গেলেও তা সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অ্যালার্জি, কিছু ওষুধের প্রভাব কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে এমন দাগ হতে পারে। আবার আঘাতের কারণে তৈরি হওয়া সাদা দাগ সাধারণত সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই সেরে যায়।

এছাড়াও, কখনো কখনো নখ নীলচে কিংবা লালচেও হতে পারে। নখের গোড়ার অর্ধচন্দ্রাকৃতির অংশে লালচে পরিবর্তন দেখা দিলে কিছু ক্ষেত্রে এটি অটোইমিউন রোগ, আর্থ্রাইটিস বা হৃদ্‌রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যখন নখের বড় একটি অংশ নীলচে হয়ে যায়, তখন তা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে যদি ফুসফুস বা হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাই এ ধরনের পরিবর্তন যদি হঠাৎ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নখের রং সবুজ বা কালো হয়ে যাওয়ার পেছনে সংক্রমণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কিন্তু যদি নখে শক্ত বাদামি বা কালো দাগ কিংবা রেখা দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। বিশেষভাবে, যদি দাগটি নতুনভাবে তৈরি হয় বা সময়ের সঙ্গে এর রং, আকার কিংবা আকৃতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিরল ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন মেলানোমা মতো গুরুতর রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

নখ ভেঙে যাওয়াও অনেকের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। তবে কখনো কখনন এর পেছনে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-ভিটামিন, আয়রন, জিংক ও প্রোটিনের ঘাটতির সঙ্গে ভঙ্গুর নখের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যাও নখের গঠন ও দৃঢ়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে নখ পাতলা হয়ে যেতে পারে।

এটি মনে রাখতে হবে যে, নখের পরিবর্তন মানেই রোগ নয়। নখ শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের সংকেত দিতে পারে এটি সত্যি। কিন্তু নখের রঙ, আকৃতি বা গঠনে পরিবর্তন হলে কোনো নির্দিষ্ট রোগ হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। কারণ আঘাত, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ওষুধ কিংবা অন্যান্য সাধারণ কারণে নখে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নখে সামান্য পরিবর্তন দেখতে পেলেই আতঙ্কিত হওয়া ঠিক নয়, বরং সেটি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে কোনো পরিবর্তন যদি হঠাৎ দেখা দেয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা ক্রমশ বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে অবশেষে মুখ খুললেন ইনফান্তিনো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ এম


নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে অবশেষে মুখ খুললেন ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যেই, ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় দায়িত্ব পালনকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।

তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ইনফান্তিনোর পক্ষ। ফিফা সভাপতির মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে বিবেচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো অনুপযুক্ত আচরণের ঘটনা ঘটেনি এবং এই প্রসঙ্গে উয়েফা কিংবা ফিফার কোনো কর্মীও কখনো অভিযোগ করেননি।

২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ২০০৯ সালে সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদে ছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফের তদন্তে সেখানেও বলা হয়েছে, ওই সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিল উয়েফা।

উয়েফা, এ অর্থ দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেনি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই নারীকে একটি ‘বিদায়ী অর্থ’ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে একটি স্থানীয় ব্যবসায়িক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার এমবিএ সম্পন্ন করার খরচও ওই অর্থের অংশ ছিল বলে উয়েফা জানিয়েছে।

উয়েফার বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময়কার প্রচলিত নিয়ম মেনে অর্থপ্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সংস্থাটির নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো একটি আধুনিক ও উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইনফান্তিনোর মুখপাত্র অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কখনো অভিযোগ করেননি। কারণ, ইনফান্তিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনুপযুক্ত ঘটনায় যে ঘটেনি, তা আবারও তিনি দাবি করেছেন।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখনই নতুন এই অভিযোগ তার ওপর আরও চাপ বাড়িয়েছে। এর আগে, ফিফার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ইউরোপসহ বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে, শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।

ওই ঘটনার জন্য কিছু ‘ভুলের’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি বরং ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তিনি। এদিকে, ইউরোপের কয়েকটি দেশ তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে।

তবে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ফুটবল প্রশাসনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছেন। ফলে, তাকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হওয়া মতবিরোধ ও বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%