০৪:২৬ এম
শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের সঙ্গে নখের রং, আকৃতি ও গঠনেও স্বাস্থ্যের নানা ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নখে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলেই সেটিকে রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে যদি পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা অস্বাভাবিকভাবে দেখা দেয়, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
নখ হলুদ হয়ে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হল ছত্রাকের সংক্রমণ এবং ধূমপান। এই পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বা লিভারের সমস্যার সঙ্গেও নখের হলুদাভ রঙের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া শ্বাসতন্ত্রের কিছু রোগ এবং আর্থ্রাইটিসের কারণে নখের রঙে পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। তাই যখন নখ হলুদ হয় তখন আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু যদি সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, যখন নখ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তখন এটি রক্তস্বল্পতার ইঙ্গিত হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরো নখ সাদা হয়ে গেলে তা ডায়াবেটিস বা লিভারের রোগের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া যায়। নখে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা গেলেও তা সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অ্যালার্জি, কিছু ওষুধের প্রভাব কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে এমন দাগ হতে পারে। আবার আঘাতের কারণে তৈরি হওয়া সাদা দাগ সাধারণত সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই সেরে যায়।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার
এছাড়াও, কখনো কখনো নখ নীলচে কিংবা লালচেও হতে পারে। নখের গোড়ার অর্ধচন্দ্রাকৃতির অংশে লালচে পরিবর্তন দেখা দিলে কিছু ক্ষেত্রে এটি অটোইমিউন রোগ, আর্থ্রাইটিস বা হৃদ্রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যখন নখের বড় একটি অংশ নীলচে হয়ে যায়, তখন তা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে যদি ফুসফুস বা হৃদ্যন্ত্রের কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাই এ ধরনের পরিবর্তন যদি হঠাৎ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নখের রং সবুজ বা কালো হয়ে যাওয়ার পেছনে সংক্রমণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কিন্তু যদি নখে শক্ত বাদামি বা কালো দাগ কিংবা রেখা দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। বিশেষভাবে, যদি দাগটি নতুনভাবে তৈরি হয় বা সময়ের সঙ্গে এর রং, আকার কিংবা আকৃতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিরল ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন মেলানোমা মতো গুরুতর রোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
নখ ভেঙে যাওয়াও অনেকের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। তবে কখনো কখনন এর পেছনে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-ভিটামিন, আয়রন, জিংক ও প্রোটিনের ঘাটতির সঙ্গে ভঙ্গুর নখের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যাও নখের গঠন ও দৃঢ়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এবং হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে নখ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
এটি মনে রাখতে হবে যে, নখের পরিবর্তন মানেই রোগ নয়। নখ শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের সংকেত দিতে পারে এটি সত্যি। কিন্তু নখের রঙ, আকৃতি বা গঠনে পরিবর্তন হলে কোনো নির্দিষ্ট রোগ হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। কারণ আঘাত, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ওষুধ কিংবা অন্যান্য সাধারণ কারণে নখে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নখে সামান্য পরিবর্তন দেখতে পেলেই আতঙ্কিত হওয়া ঠিক নয়, বরং সেটি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তবে কোনো পরিবর্তন যদি হঠাৎ দেখা দেয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা ক্রমশ বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন