সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫০ পি.এম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করেছেন, জানিয়ে বলেছেন যে, জ্ঞানহীনতার কারণে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এআই সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান মুসলিম সমাজকে ‘পরাধীন’ করে ফেলতে পারে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে বাইরের শক্তির প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোঝিকোড়ে অনুষ্ঠিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, মুসলিম ও আলেম সমাজের উদ্দেশ্যে আনোয়ার বলেন, “জ্ঞান ছাড়া আমরা ব্যর্থ হব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে না জানলে আমরা পরাধীন হয়ে পড়ব।”
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথম ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন, যা কারান্থুরের মারকাজু সাকাফাথি সুন্নিয়ায় শেখ আবুবকর ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রদান করা হয়। তিনি ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।
তবে আনোয়ার ইব্রাহিম মন্তব্য করেন যে, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের জ্ঞান দরকার। আমাদের দক্ষতা দরকার।” মুসলিম সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রযুক্তির উন্নয়ন তাদের ‘ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধ’ রক্ষা করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু মূল্যবোধ মুসলিম সমাজে ঢুকে পড়তে পারে, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকে এবং সেগুলো কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা না থাকে, তাহলে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা এর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করলেও মুসলিম আলেম ও সমাজগুলো এআইয়ের চ্যালেঞ্জের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।
এসময় তিনি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআই নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। তবে তিনি আবারও বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যেন জ্ঞান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভাসমান এবং একটি স্থায়ী স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের স্থবিরতা দূর করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীরা তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং সময়মতো রপ্তানি অর্ডার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তাদের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথরেখা তুলে ধরেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য অবকাঠামো তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে। পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের স্পষ্ট ও দূরদর্শী অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্পমালিকেরা।
বৈঠকে শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট কাটাতে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই আশ্বাসে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন দেশের তরুণ ও প্রবীণ উদ্যোক্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কয়েক দিনের মধ্যে। তবে এর আগেই দলের জন্য এসেছে দুঃসংবাদ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে বাদ পড়েছেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।
ফিফা আসিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে। এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ দল ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করার কথা। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন করছিলেন বিশ্বনাথ। তিনি প্রাথমিক স্কোয়াডেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কিন্তু অনুশীলনের সময় হঠাৎ করে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হন এই ডিফেন্ডার। ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চোট নিয়ে জাতীয় দলের টিম হোটেল ত্যাগ করেছেন বিশ্বনাথ, এবং নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হ্যামস্ট্রিংয়ের এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগে। এই কারণে আসিয়ান কাপে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই বিশ্বনাথের।
তবে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে কাজ করছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বরে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডারকে।
এর আগে, চোটের কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন বিশ্বনাথ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি বছরের মার্চে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু দলে ফেরার কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন করে চোটের ধাক্কায় পড়েছেন এই ডিফেন্ডার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ প্রদান করছে। কোটজেন স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
কোটজেন স্কলারশিপের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়ন করা। সিমন্স ইউনিভার্সিটি ১৮৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি পোশাক প্রস্তুতকারক জন সিমন্স দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৮ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
সুযোগ-সুবিধাসমূহ
• সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করা হবে।
• বিনামূল্যে একটি রুম সুবিধা প্রদান করা হবে।
• ৩ হাজার ডলার এর উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।
• স্কলারশিপের মেয়াদ ৪ বছর।
আবেদনের যোগ্যতা
• শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পাস হতে হবে।
• একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে।
• মেধার ভিত্তিতে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে, যেখানে ন্যূনতম ৩.৩ সিজিপিএ ধরে রাখতে হবে।
• আইইএলটিএস ও টোয়েফল স্কোর জমা দিতে হবে।
আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর, ২০২৬।
আবেদনের প্রক্রিয়া: আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন করার জন্য দেখুন এখানে ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের আসামের গৌহাটি শহরে স্ত্রীকে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা ফ্রিজে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তি পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। মৃত ওই ব্যক্তির নাম রামানুজ গোস্বামী (৩০) বলে জানা গেছে।
এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে চিকিৎসা পরীক্ষার পর পুলিশ তাকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ) থেকে হাতিগাঁও থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় নারকাসুর পাহাড় এলাকায় হঠাৎ তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন।
পুলিশের গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি একটি গভীর খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটির একটি ফ্ল্যাটে নিজের স্ত্রী রিয়া তালুকদার (২৫)-কে হত্যার অভিযোগে গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ দাবি করেছে, স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন সন্দেহ থেকেই তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন বলে পরে জানান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দিলে। এরপর পুলিশ ফ্ল্যাটের ফ্রিজে রাখা একটি কালো পলিথিনের ব্যাগ থেকে রিয়ার কাটা মাথা ও আঙুল উদ্ধার করে বলে জানায়।
গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন গোস্বামী। এরপর তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে হত্যার ঘটনায় তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানান। বরং তিনি হত্যার জন্য কোনো দুঃখ বা ক্ষমা চাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গোস্বামী এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর ‘সুগার ড্যাডি’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, জেল থেকে ছাড়া পেলে ব্যক্তিকেও তিনি হত্যা করবেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্ত্র দিয়েই গোস্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, গোস্বামী তাদের বলেছিলেন যে হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তার ফ্ল্যাট থেকে খালি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে রিয়ার পরিবারের অভিযোগ, গোস্বামীর মাদকাসক্তির ইতিহাস ছিল। তার কিছু শারীরিক সমস্যাও তিনি গোপন করেছিলেন এবং ২০১৯ সালে আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলেও পরিবার দাবি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের এসব অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ