০৫:৫৯ পি.এম
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনের দারোয়ান বা হারিস নিয়োগের বিষয়ে সম্পত্তির মালিকদের সতর্ক করেছে, বৈধ আকামা ও কাজের অনুমতি যাচাই না করার জন্য।
নির্মাণাধীন ভবন, শ্যালেট, পশু পালনের খামার বা জাখুর এবং কৃষি খামারের মালিকদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আবাসন ও কাজের আইনগত অবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে যে, দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির বৈধ আকামা থাকা বাধ্যতামূলক এবং তার নিয়োগকর্তা হতে হবে সম্পত্তির মালিক অথবা নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি। এছাড়াও, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাতক হওয়ার অভিযোগ, আদালতের রায় অথবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সরকারের জরুরি দিকনির্দেশনা প্রকাশ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কাউকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রবাসী গৃহকর্মী ভিসা নিয়ে কাজ করেন, যা সাধারণভাবে খাদেম বা ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের ব্যবস্থাকে অনেক সময় ‘ফ্রি ভিসা’ বলা হলেও এটি কোনো স্বতন্ত্র বৈধ ভিসার শ্রেণি নয়।
অনেক সময় ভিসা বা আকামার স্পন্সর এক ব্যক্তি হলেও কর্মী অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করেন। কুয়েতের প্রচলিত আবাসন ও শ্রমবিধি অনুযায়ী, অনুমোদিত ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা আইনগত ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে গৃহকর্মীর ভিসায় এসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ভিসা ও কাজের অনুমোদন আইনসম্মত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে, অনেক ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এমন ব্যক্তিদের দারোয়ান হিসেবে দেখা যায়, যাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা যাদের কাজের বৈধ অনুমতি নেই। নতুন করে দেওয়া সতর্কবার্তার পর এ ধরনের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় সব ধরনের দারোয়ান নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন কথা বলা হয়নি। বরং বৈধ আকামা, যথাযথ নিয়োগকর্তা এবং আইনসম্মত কাজের অবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈধ আকামা থাকা মানেই যেকোনো স্থানে কাজ করার অনুমতি রয়েছে, এমনটিও নয়। প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ সতর্কবার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ভিসার ধরন, আকামার বৈধতা এবং প্রকৃত নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের সম্পর্ক যাচাই না করে অন্যত্র কাজ শুরু করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে ভবন বা সম্পত্তির মালিকদেরও দারোয়ান নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। কুয়েতে আবাসন ও শ্রম আইন মেনে চলা এবং অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের এ সতর্কতা প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন