শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিসরের শিক্ষার্থী মায়ার ওসমান। বিজয়ীর নাম ঘোষণার সাথে সাথেই সে মঞ্চে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মায়ার ওসমানের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তিনি মায়ারের হাতে বিজয়ীর সম্মাননা তুলে দেন।
প্রতিযোগিতার সময় ৬০টিরও বেশি বই পড়েছে ১১ বছর বয়সী মায়ার। প্রথম স্থান অর্জন করে সে ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার লাভ করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে ফিলিস্তিনের ১৬ বছর বয়সী গাজাল তিম এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছে সৌদি আরবের ১১ বছর বয়সী রিয়ান আল জাকরি।
প্রতিযোগিতার আয়োজকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরপরই মায়ার মাটিতে সিজদা করে। তার এই আবেগঘন মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় কাফর আল-শেখ প্রদেশের বাসিন্দা মায়ার ওসমান দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বাছাইপর্বে বিজয়ী হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
বিজয়ী হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মায়ার জানায়, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সে নিজের স্কুলে একটি ছোট পাঠাগার গড়ে তুলতে চায়। যেন বই পড়তে আগ্রহী প্রতিটি শিক্ষার্থী সেখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পায়।
সে বলে, ‘আমি পিরামিড ও সভ্যতার দেশ থেকে এসেছি। আমি মিসরের মেয়ে, আরব বিশ্বের হৃদয়ের সন্তান। আমি ৭০টিরও বেশি বই পড়েছি এবং পড়া চালিয়ে যাব।’
পাঠাভ্যাস নিজের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে মায়ার বলে, বই তাকে নতুন চিন্তা ও ধারণা দিয়েছে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করেছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সময়ের সঠিক ব্যবহার, পড়াশোনা ও বই পড়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়ও শিখেছে সে।
মায়ারের ভাষায়, প্রকৃত পাঠক শুধু বই বহন করেন না; বরং বই থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন এবং অন্যদের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেন।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতার দশম আসরে ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০৭ জন শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক এ আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬২ জন।
প্রতিযোগিতাটির আয়োজকরা জানিয়েছেন, দশম আসরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের আসরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটির দশটি আসরে ২০ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’ মূলত আরবি ভাষায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালে চালু করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৫০টি বই পড়া ও সেগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করতে হয়। এরপর বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপের বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে হয়।
তথ্যসূত্র : দ্য ন্যাশনাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছেন। অনেক ডিলার সারের মূল্যতালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কতিপয় অসাধু ডিলার সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সামনের রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সার মজুত করে কতিপয় ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ কৃষক সার পাচ্ছেন না। অনেক কৃষক জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বক্তারা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।
সারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা, ছাত্রদলের উপজেলা আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীম প্রমুখ।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং গোডাউনে সার মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। তবে বেশি দাম দিলেই সার মিলছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চাটমোহর রেলবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী এবং মির্জাপুরের একজন ডিলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিক্রেতা একাধিক গুদামে শত শত বস্তা ডিএপি, পটাশ, এমওপি ও ইউরিয়া সার মজুত করে এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।
সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা। চাটমোহর উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১২ জন, বিএডিসির ডিলার ১৭ জন এবং খুচরা সার বিক্রেতা ৬৯ জন। অভিযোগ রয়েছে, এঁদের অধিকাংশই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে কৃষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। চলতি অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।
তারা কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির বিষয়টি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
Ñএমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধির খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। পাশাপাশি, বছরে ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে এসেছে।
শুক্রবার, যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কর পরিশোধের পর তাদের মুনাফা ৩১২ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মুনাফা ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এই পরিদর্শনের সময়, দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার সময় ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার সুযোগের সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে, জাতীয় পর্যায়ে এসব খাতে সহযোগিতা কিভাবে করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
ভবিষ্যতে এই আলোচনার ভিত্তিতে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিত্যপণ্য ও সেবার দাম আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানোর খরচ নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে পণ্য ও সেবার দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আগের মাস আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। নতুন তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় একই ধরনের পণ্য ও সেবা ক্রয়ের জন্য এখন মানুষের খরচ বেড়েছে।
মার্কিন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে পণ্য ও সেবার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট মাসে এক মাসের হিসাবে দাম বেড়েছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দামের বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব পড়ছে। বাজার থেকে খাদ্যদ্রব্য কেনা, গাড়িতে জ্বালানি নেওয়া, যাতায়াত এবং বিভিন্ন পরিষেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাসের বাজেট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যাদের বেতন বা আয় অপরিবর্তিত রয়েছে, তাদের আগের মতো সব খরচ চালাতে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণের মাধ্যমে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। যদি দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, তবে সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে তারা সতর্ক হতে পারে। সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধের খরচও বাড়তে পারে। তবে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে সুদের হার বাড়বে নাকি কমবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মানুষের আয় ও কেনাকাটার ক্ষমতাও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত আয় কিছুটা বেড়েছে, তবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে মানুষের হাতে খরচ করার মতো অর্থের পরিমাণ কমেছে। অর্থাৎ, আয় বাড়লেও সেই টাকা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হতে পারে।
শুধু খাদ্য ও জ্বালানির দাম নয়, অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামও বেড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করলেও, সেপ্টেম্বরে অন্যান্য পণ্য ও সেবার দাম গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, দাম বাড়ার চাপ কেবল কয়েকটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারকে মাসিক খরচের হিসাব নতুন করে সাজাতে হতে পারে। কেউ বাইরে খাওয়া কমাতে পারেন, কেউ কেনাকাটায় সাশ্রয় করতে পারেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে যেসব পরিবারের বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও ঋণের কিস্তিতে আয়ের বড় অংশ চলে যায়, তাদের জন্য বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হতে পারে।
তবে এক মাসের তথ্য দেখে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আগামী মাসগুলোতে পণ্যের দাম, মানুষের আয়, চাকরির বাজার এবং কেনাকাটার পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা গুরুত্বপূর্ণ হবে। দাম বাড়ার গতি কমতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দাম বাড়তে থাকলে সংসার চালানোর খরচও বেশি থাকবে।
সেপ্টেম্বরে পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। কারণ এর প্রভাব শুধু অর্থনীতির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের মাসিক বাজেট, সঞ্চয় এবং ঋণ পরিশোধের খরচের সঙ্গেও জড়িত। এখন নজর থাকবে, আগামী মাসগুলোতে দাম বাড়ার গতি কমে কি না এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ