ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসি অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতেই থাকবেন


মেসি অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতেই থাকবেন

লিওনেল মেসির নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফেরার গুঞ্জন নতুন এক মোড় নিয়েছে। যদিও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে তাঁর শৈশবের ক্লাবে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা ইন্টার মায়ামিতেই থাকার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি, ভবিষ্যতের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গনসালো কালভিজিওনি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে যোগ দেওয়ার এত কাছে মেসি আগে কখনো আসেননি। তাঁর মতে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে।

মেসি নিউয়েলসের সমর্থক হিসেবে বেড়ে উঠেছিলেন এবং ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে খেলে নজর কাড়েন। তবে, তাঁর গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁকে বার্সেলোনায় চলে যেতে হয়। এরপর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর কিংবদন্তি ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে। তবে, আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার এখনো দেশের শীর্ষ লিগে কোনো ম্যাচ খেলেননি।

আরও পড়ুন: শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে দ. আফ্রিকা

নিউয়েলসে ফেরার গুঞ্জনে আপাতত পানি ঢেলেছেন দলবদলবিষয়ক সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো। তিনি জানিয়েছেন, মেসি ইন্টার মায়ামিতে ভালো আছেন এবং ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে চান।

রোমানো আরও উল্লেখ করেছেন যে, অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেজর লিগ সকারে মেসির ভবিষ্যৎ দেখছেন তিনি। এরপর মায়ামির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

অতএব, শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ফেরার স্বপ্ন আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমানে মেসির মনোযোগ মায়ামিতেই নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার দিকে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার, শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে দ. আফ্রিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ এম


শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে দ. আফ্রিকা

কেপটাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের সেঞ্চুরির মাধ্যমে ৩৮৭ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় স্বাগতিক দল। প্রথম ইনিংসে অর্জিত ১০০ রানের লিড যোগ করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৮৮ রান।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩২৯ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রান করে। ফলে ১০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে প্রোটিয়ারা। তবে শুরুতে তাদের জন্য পরিস্থিতি সহজ ছিল না। মাত্র ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ৩১ রানে ফিরে যান ডেভিড বেডিংহ্যামও।

মার্কেস অ্যাকারম্যানের ৬২ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা করেন ৩৫ রান, এবং ম্যাথু ব্রিটজ যোগ করেন ৪৩ রান। তবে বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন রিকেলটন ও মুল্ডার।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন। ২১৯ বলে ১২টি চারে ১০১ রান করে রানআউট হন রিকেলটন। অন্য প্রান্তে ২২১ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১১৫ রান করেন মুল্ডার। এটি টেস্টে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি। শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিলে ১৩৪.৪ ওভারে ৩৮৭ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ৬৫ রানে ৩ উইকেট নেন। প্যাট কামিন্স ৭১ রানে ২টি এবং নাথান লায়ন ১০১ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। জশ হ্যাজলউড নেন একটি উইকেট।

এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন জশ ইংলিস। তাঁর ১০২ রানের পাশাপাশি অ্যালেক্স ক্যারি করেন ৮০ রান এবং ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হারমার ৪টি এবং মার্কো ইয়ানসেন ৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন মার্কেস অ্যাকারম্যান। এইডেন মার্করাম ৭৮ এবং মার্কো ইয়ানসেন করেন ৫২ রান। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ৭২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংসটি গুটিয়ে দেন।

চতুর্থ দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার লিড ২৮৭ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২৮৮ রান। হাতে থাকা উইকেট ও কেপটাউনের পিচ—দুইয়ের ওপরই নির্ভর করবে সিরিজের এই গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের ভাগ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিবিআই তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ এম


পিবিআই তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

দীপ তাহসিফের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন। শুক্রবার পিবিআই টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে। পরে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মধ্যরাতে পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই।

শুক্রবার দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআইয়ের তদন্ত দল। সেখানে তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না। এটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই চলছে। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন।

ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন এবং একপর্যায়ে নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন দীপ। দীপ নিজে বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান।

তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেখানে আদৌ পুলিশের কেউ ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা কেউ ছিলেন কি না কিংবা তাদের সেখানে কোনো দায়িত্ব ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, দীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা কেন ওই মাঠে গিয়েছিলেন সেটিও অজানা। দীপ একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন এবং এক পর্যায়ে তিনি সেখানে যাননি বলেও দাবি করেন। পরে মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে দীপ জানান, তাহসিফ তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই এলাকা আগে থেকে পরিচিত ছিলেন না বলেও জানান।

তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে সাতার জানতেন এবং পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের কোর্সও করেছিলেন। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ এম


ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন টানা চার দিন ধরে জ্বলছে। এখনো গ্যাসের নির্গমন বন্ধ হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

গ্যাসের আগুন নেভানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা এখনই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের শিখার অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব। তার সঙ্গে ছিলেন বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

গ্যাসের আগুন নেভানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাস জ্বলতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিলিফ কূপ খনন করে ভূগর্ভে সিমেন্ট পাম্প করার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, "এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সাত দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সহজ হবে।"

ঘটনাস্থল থেকে পাথর ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, "আগুনের কারণে আপাতত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস শুধু নলকূপ খননের স্থান দিয়ে বের হচ্ছে না, আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও নির্গত হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, "সেখানে প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত বোরিং করা হয়েছিল। তবে খননের সময় গ্যাসের উপস্থিতি বোঝা যায়নি। মঙ্গলবার ভোর থেকে গ্যাসের অস্তিত্ব অনুভূত হয়। পরে তা আগুনের শিখা আকারে জ্বলতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আধার থেকে এ গ্যাস বের হচ্ছে।"

গ্যাসের উপাদান সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, "প্রাকৃতিক গ্যাসে সাধারণত মিথেনের পাশাপাশি ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও পেন্টেনের মতো হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে। তবে এ গ্যাসের প্রকৃত উপাদান পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনের রং ও ধোঁয়ার ধরন দেখে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"

বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম রোকন বলেন, "গ্যাস শনাক্ত করতে ডিটেক্টর নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তারা। বাপেক্সের প্রোডাকশন ফিল্ডের একটি দল আশপাশের অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করেছে। তবে আগুন জ্বলতে থাকায় মূল নির্গমনস্থলে ডিটেক্টর দিয়ে গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করেও অন্য কোথাও গ্যাস নির্গমনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।"

ইমামুল ইসলাম রোকন যোগ করেন, "আগুনের প্রচণ্ড তাপের কারণে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূর থেকেও প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।"

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, "এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কারণ, যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, "বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলায় একটি সভা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক প্রকৃতির হতে পারে। তবে আগুনের শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার বিষয়টিও অনুমান করা হচ্ছে।"

তিনি জানান, "আগুনের শিখার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে শুক্রবার রাতে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আগুনের শিখার রং কালো দেখা গেছে। এটি গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল বা কনডেনসেট নির্গমনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বাপেক্সের কর্মকর্তারা কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির প্রতিবেদন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, আগুনের শিখা ক্রমেই বাড়ছে।"

মো. শোয়েব আরও বলেন, "প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের উৎস একটি অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার। দেশে সাধারণত ভূগর্ভের দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।"

পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, "১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর আগুনের শিখার উচ্চতা বেড়েছে বা একই রকম রয়েছে বলে দেখা গেলে আগুন বন্ধ করার জন্য প্রাথমিকভাবে একটি রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।"

তবে পর্যবেক্ষণের সময় গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মো. শোয়েব বলেন, "আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে। ভূগঠনে কিছু পরিবর্তনের কারণে এভাবে গ্যাস নির্গমন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বাপেক্স সেখানে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। সেখানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টানা চার দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় ইনানী ছোট খাল ও শফিরবিল এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে গ্যাসের উৎস ও প্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা, অন্যদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি উপেক্ষা করে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড়-দুই পরিস্থিতিই সামাল দিতে হচ্ছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. সানি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ এম


তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

তালাশ বিডি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

থানাসূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে একের পর এক মাদকের চালান জব্দ এবং মাদক কারবারিদের আটক করা হয়েছে। প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে প্রতিদিন ২ থেকে ৪ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তালাশ বিডি নিউজে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা প্রদান করা হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁদের মতে, এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে বাকেরগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%