০৫:৩২ পি.এম
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করা।
তিনি আজ ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ সভাপতির বক্তব্যে এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে একত্রে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উপযুক্ত সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদায় দাঁড় করানোর জন্য কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৫ জন আটক
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা হচ্ছে সংবিধান ও আইনের শাসনের মূল লক্ষ্য। কোন ব্যক্তি যখন নির্যাতনের শিকার হয় তখন শুধুমাত্র অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা যথেষ্ট নয়; ভুক্তভোগীর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণে অনেক ব্যক্তি ও পরিবার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। এ কারণেই ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে কেবল আইনি প্রতিকার হিসেবে নয়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি ভুক্তভোগীদের জন্য আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসাসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
ডেপুটি স্পিকার আরো জানান, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলে নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।
কায়সার কামাল এ বিষয়ে আরো মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এই আইনসমূহের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরও সহজ করা দরকার। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসন কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাইক্রোবাস-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে ৯ জন আহত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের প্রকাশ্যে বিচার হওয়া উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, গুমের তদন্ত চলমান রাখতে বাজেট বরাদ্দও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার গুমের বিচারের লড়াইয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চায়। এছাড়া তিনি ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
সংলাপে অংশ নেন আনিছুর রহমান এমপি, মীর আহমাদ বিন কাসেম এমপি, আমিনুল ইসলাম এমপি, আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, তাহসিনা রুশদীর এমপি, সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, এবং মায়ের ডাকের সভাপতি। তারা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ কাঠামো প্রণয়ন, পুনর্বাসন তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীবান্ধব বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন