ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাম্পার ফলনেও পাট চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের


বাম্পার ফলনেও পাট চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের

চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে পাটকাটা, পাট মারাই এবং পাট শুকানোর কাজ চালানো হচ্ছে।

পাট চাষিরা অভিযোগ করছেন যে, সরকার পাটের জন্য আগাম বাজার মূল্য নির্ধারণ না করায়, তাদের দালালের কাছে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

প্রতি বছর পাটের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও, পাটের কাঙ্খিত দাম বাড়েনি। এই কারণে কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পেতে শঙ্কায় আছেন। ফলে অনেক কৃষকই পাট চাষ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

কৃষি বিভাগের দাবি, তারা বলছেন যে পাট চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন।

জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে কৃষকদের সাথে সরেজমিনে কথা বলে এবং পাট ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে জানা যায়, এক সময় বাংলাদেশে পাটের বিদেশে রফতানির সোনালী দিনগুলো ছিল। কিন্তু এখন সেসব দিন পেছনের কথা। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের চাষিরা বংশ পরম্পরায় পাটের চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ভালো ফলন পেয়েছেন।

কৃষক সেলিম মিয়া বলেছেন, তার ৩০ শতাংশ জমিতে রোপণের জন্য খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাট কাটা শ্রমিকদের জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মুজরি দিতে হয়। তিনি বলছেন যে, ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে তাকে দালাল ফড়িয়াদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। গ্রামের সাধারণ কৃষকরা বুঝে না বুঝে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দালাল ফড়িয়ারা পাট গুদামে মজুদ করে এবং উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা প্রচুর কষ্ট করে ফলন ফলালেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন সরকার পাটের আগাম মনপ্রতি বাজার মূল্য নির্ধারণ করলে প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

আরও পড়ুন: রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, এসআরবি-৮-এর অভিযানে আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫

আরেক পাট চাষি কৃষক প্রিয়তোষ সাহাজী জানান যে, তিন কানি (৯০ শতাংশ) জমি চাষ করতে কানি প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু বাজারে өнім বেচার সময় মূল্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, সরকার যদি আগে থেকেই একটা দাম নির্ধারণ করে দিত, তাহলে তারা সরকারি দামে পাট বিক্রি করতে পারতেন। এ বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান যে, চলতি মৌসুমে হাওড় বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর এবং বাঞ্ছারামপুর এলাকায় ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে দেশি, কেনাফ, মেছতা এবং তোষা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে কেনাফ, মেছতা, তোষা ও দেশি জাতের পাট।

তিনি আরো জানিয়েছেন যে, এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারের দাম ভালো থাকার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছেন। এ বছর পাটের উৎপাদনের মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর জানান, পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে তাদের ‘অন দ্যা জব’ নামে একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ১১ দিনের প্রশিক্ষণে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি করার বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। তারা এই পাটজাত পণ্য বিদেশে রফতাণির সুযোগও দিয়েছে। তিনি জানান, যে কেউ পাট নিয়ে কাজ করতে চাইলে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ২০ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা ও মোটরসাইকেল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


নওগাঁ ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আজ ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নওগাঁ পৌরসভার নতুন ভবনে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু, মাননীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁ-৫।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নওগাঁ।

জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ।

জনাব টি.এম.এ. মমিন (উপসচিব), প্রশাসক, নওগাঁ পৌরসভা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম, সিভিল সার্জন, নওগাঁ।

সিভিল সার্জন অফিস, নওগাঁ-এর আয়োজনে এবং World Health Organization (WHO), Nutrition International, National Nutrition Services (NNS) ও UNICEF-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই: সংসদে এমপি মাহবুব উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


দেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই: সংসদে এমপি মাহবুব উদ্দিন

দেশে এত ব্যাংকের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘টাকা নাই, ব্যাংক লুট হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এত ব্যাংকের দরকার কী? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলেই তার একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই তার একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এই প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। ব্যাংক কমিয়ে ফেলতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রাখতে না পেরে অনেকে ঘরে টাকা রাখে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার সময় টাকা ফেলে চলে গেছে, ঘরে ঘরে টাকা আছে। তাই ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিল করে দিয়ে দুই মাসের মধ্যে টাকা জমা দিতে বলতে পারি। তাহলে ট্যাক্স দিয়ে টাকা বৈধ করতে পারবে, সেই টাকা বিনিয়োগ হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে যাবে।’

মাহবুব উদ্দিন বলেন, “আমাদের আরেকটি সমস্যা হলো মানি লন্ডারিং। আমি আইনজীবী হিসেবে বলছি, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত মানি লন্ডারিংয়ে যত টাকা হয়েছে, আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছি; কিন্তু কোনো টাকা ফিরে আসেনি, আসার সুযোগও নেই। টাকা সিস্টেমে ঢুকে যায়। মানির একটা ক্যারেক্টার আছে, মানি মুভ করে—‘মানি সেফ দেন মানি মেক মানি’। যেখানে মানি নিরাপদ মনে করবে, সেখানে মানি থাকবে। আমাদের মা-বোনেরা সারা বছর আলমারিতে স্বর্ণ ও টাকা রাখেন, কারণ সেখানে তারা নিরাপদ মনে করেন। সুতরাং বাংলাদেশে এই সিস্টেম পরিবর্তন করা দরকার।”

তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আইন নেই, তবু সেখানে টাকা যায়। দুবাইতে আইন নেই, কানাডায় আইন নেই, থাইল্যান্ডে আইন নেই—আমরা কেন সিস্টেম পরিবর্তন করি না? তাহলে দেশের মানুষ টাকা দেশে রাখাকে নিরাপদ মনে করবে। বিদেশ থেকে টাকাও দেশে চলে আসবে। আমার মনে হয়, আমাদের সিস্টেম পরিবর্তন করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব সময়ই ঘাটতি বাজেট হয়ে থাকে। তবে এই বাজেট আগামী এক বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিশন। এই বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার অনেক বিষয় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সাধারণ যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লুটপাট ও ধ্বংসস্তূপের পর সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মাথায় অর্থমন্ত্রী এই বাজেট তৈরি করেছেন।’

তিনি বলেছেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। কোটি কোটি মানুষকে এবং যুবকদের বেকার রেখে আমরা আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করতে পারি না। আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামপুরার জোড়া হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


রামপুরার জোড়া হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনের জন্য যাবজ্জীবন ও একজনের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (পলাতক), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম (পলাতক) এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান (পলাতক)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আগেও চানখাঁরপুলের আরেকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে (গ্রেফতার) ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আজ বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়।

এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া শুরু হয়। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে। রায় প্রদানকালে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগটি ছিল, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামের এক তরুণকে লক্ষ্য করে গুলি করে গুরুতর আহত করা। আর তৃতীয় অভিযোগটি ছিল, সেদিন বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে চলে যাওয়া গুলিতে তার দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা করা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বছরের ৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলাটিতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনাল গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছিল। সবশেষ গত ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (২৮ জুন) পুনর্ধার্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার আগেই বিদায় লুমুম্বা ভেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


দেশের ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখার আগেই বিদায় লুমুম্বা ভেয়ার

গত আফকনে গ্যালারিতে নজর কাড়েন মিশেল কুকা ম্বোলাডিঙ্গা। তিনি ডিআর কঙ্গোর স্বাধীনতার অগ্রদূত এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার সাজে গ্যালারিতে উপস্থিত হয়ে দলের নিয়মিত সমর্থন জানাতেন। ডিআর কঙ্গোর এই সুপার ফ্যান বিশ্বকাপেও দলের সমর্থন জানাতে হাজির ছিলেন। গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর দ্বিতীয় ম্যাচে এস্তাদিও গুয়াদালাহার গ্যালারিতে উপস্থিত থাকলেও লুমুম্বা ভেয়া নামে পরিচিত কুকা ম্বোলাডিঙ্গা ছিলেন। কিন্তু দলের ইতিহাস গড়ার সেই ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারলেন না তিনি।

রোববার (২৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে ডিআর কঙ্গো। ৫৪ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে এসে নকআউট পর্বেও উঠে গেছে আফ্রিকার দেশটি।

ইয়োয়ান উইসার জোড়া গোল এবং ফিস্টন মায়েলের গোলে পাওয়া এই জয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে লেপার্ডরা। এতে সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২–এ জায়গা পেয়েছে তারা।

এই দেশের ইতিহাস গড়ার উপলক্ষ হিসেবে মাঠে বসে দেখতে পারেননি ডিআর কঙ্গোর সুপার ফ্যান লুমুম্বা ভেয়া। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি।

কঙ্গোর ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে পুরো সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য পরিচিত কুকা ম্বোলাডিঙ্গা। এটি দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার প্রতি তার শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৯৬১ সালে গুলিতে নিহত হওয়া লুমুম্বা আজও কঙ্গোবাসীর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এবং জাতীয় ব্যক্তিত্ব।

ম্বোলাডিঙ্গার চেহारার সঙ্গে লুমুম্বার আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। তিনি কঙ্গোর জাতীয় রঙের আকর্ষণীয় স্যুট পরিধান করেন এবং লুমুম্বার আদলে নিজেকে উপস্থাপন করেন।

মেক্সিকোতে কঙ্গোর সর্বশেষ ম্যাচে দলের সমর্থন জানানোর পরেও তিনি শেষ ৩২-তে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটি মিস করলেন।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত কাপিঙ্গা কাপিঙ্গা ইভেত নগান্দু রয়টার্সকে জানান, যদি কঙ্গো নকআউট পর্বে যেতে সক্ষম হয়, তবে আশা করা হচ্ছে ম্বোলাডিঙ্গা তখন ভিসা পাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তিনি তার নিজস্ব অনন্য ধরনের সমর্থন নিয়ে আবারও দলের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।’

‘লুমুম্বা ভেয়া’ ডাকনামে পরিচিত ম্বোলাডিঙ্গা প্রায়ই একটি বিশেষ ভঙ্গিতে হাত উঁচু করে দাঁড়ান, যা রাজধানী কিনশাসাতে থাকা লুমুম্বার একটি ভাস্কর্যের ভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায়।

তার চারপাশে যখন হাজারো সমর্থক গান গেয়ে এবং চিৎকার করে দলকে উৎসাহ দেন, তখন ম্বোলাডিঙ্গা পুরো ম্যাচজুড়ে সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই ব্যতিক্রমী সমর্থনের ধরন তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

জানুয়ারিতে মরক্কো থেকে দেশে ফেরার পর কঙ্গো সরকার তাকে সম্মাননা হিসেবে একটি চার-চাকার গাড়ি উপহার দেয়।

এবারের বিশ্বকাপে তার আগমন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের স্বতন্ত্র সমর্থনের ধারায় দলের পাশে দাঁড়ান।

বিশ্বকাপে তার যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশটির ভ্রমণকারীদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত কঙ্গোতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১,২০৩ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%