০৩:২৬ পি.এম
দিনে ৩০ মিনিট হাঁটলেই পুরস্কার প্রদান করবে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (এনএইচএস)। সুস্থতার জন্য হাঁটার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই স্বীকৃত, কিন্তু এখন প্রথমবারের মতো ব্যায়ামের বিনিময়ে মানুষের জন্য সরাসরি পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করছে একটি এনএইচএস পরিচালিত প্রকল্প।
আগামী বছরের শুরুতে এনএইচএস ইংল্যান্ড-এর ‘ম্যারাথন আ মান্থ’ নামের একটি চ্যালেঞ্জ চালু হবে। এই প্রকল্পে লোকজনকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা নিয়ম মেনে হাঁটবেন, মাস শেষে তাদের হাঁটার মোট দূরত্ব হবে প্রায় ২৬ মাইল, যা একটি পূর্ণ ম্যারাথনের সমান।
অংশগ্রহণকারীরা স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা অনলাইনে তাদের হাঁটার তথ্য জমা দিতে পারবেন। এনএইচএস জানিয়েছে, যদি অংশগ্রহণকারীরা চ্যালেঞ্জটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন, তাহলে বিভিন্ন পুরস্কার পাবেন। পুরস্কারের মধ্যে বিশেষ ছাড় ও বিভিন্ন উপহার থাকতে পারে। এই উদ্যোগ নিয়ে লরেন অ্যান্ড্রু বলেছেন, এটি একটি দারুণ প্রকল্প।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’
অ্যান্ড্রু মন্তব্য করেছেন, ‘আমি এতে অংশ নেব। প্রতিদিন অল্প করে হাঁটা সহজ হবে।’ তিনি যোগ করেছেন, পুরস্কার হিসেবে পানীয় বা খাবারের মতো উপহার পাওয়া গেলে তা মানুষকে আরও আগ্রহী করে তুলবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৫ বছরের কম বয়সীরা এই প্রকল্প নিয়ে বেশ উৎসাহী। এক তরুণী বলেছেন, এই চ্যালেঞ্জ তাকে আরও সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত করবে। নিয়মিত হাঁটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার বিষয়টি তাকে ও তার বন্ধুদের অনুপ্রাণিত করবে। আবার অনেকেই মাসে ম্যারাথনের সমান পথ হাঁটছেন।
এই পুরস্কার হিসেবে তরুণ-তরুণীরা স্বাগত জানিয়েছেন। এনএইচএস জানিয়েছে, তারা প্রকল্পের প্রাথমিক খরচ বহন করবে, তবে ভবিষ্যতে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান নিতে পরিকল্পনা রয়েছে।
অলিম্পিক পদকজয়ী স্যার ব্রেন্ডন ফস্টারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি সাজানো হচ্ছে। স্যার ব্রেন্ডন বলেছেন, ‘আমরা মানুষকে হাঁটতে উত্সাহিত করতে চাই।’ এটি ইংল্যান্ডের ১০ বছরের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার একটি অংশ।
আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, চাক শুমারের চাপে বৃদ্ধি
ব্রেন্ডন বর্ণনা করেছেন, মানুষকে আরও কর্মচঞ্চল করে তোলা তার লক্ষ্য। এনএইচএস ইংল্যান্ড এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য শারীরিক পরিশ্রমের অভাব দায়ী। যারা সপ্তাহে ৩০ মিনিটের কম পরিশ্রম করেন, তাদের অলস ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। স্পোর্ট ইংল্যান্ডের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে দেশটির প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শারীরিক পরিশ্রম করেন না।
এ প্রকল্পে অন্তত ১ লাখ মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের প্রতিদিনের তথ্য রেকর্ড করা হবে। স্যার ব্রেন্ডন জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ হলে এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যারাথন। তিনি আশা করছেন, স্ন্যাপচ্যাট বা ডুয়োলিংগোর মতো ধারাবাহিকতা রক্ষা একটি ভালো অভ্যাস হবে।
মানুষ সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটলে বাড়তি ৪ বছর আয়ু পেতে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনপ্রক্রিয়া জানানো হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনএইচএস সরাসরি পুরস্কারের খরচ দেবে না এবং সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্পটি পরিচালনা করবে। চিকিৎসকদেরকে রোগীদের এই প্রকল্পে উৎসাহিত করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাকশন অন সল্ট অ্যান্ড সুগারের গবেষণাপ্রধান সোনিয়া পম্বো দাবি করেছেন, নিয়মিত শারীৰিক পরিশ্রম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একে সহজ ও পুরস্কারযোগ্য করে তুলতে পারলে অনেক বেশি মানুষ আগ্রহী হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন: মুসলিমবান্ধব পর্যটনের গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন