ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা সুন্নত কিনা, মতভেদ চলছে


জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা সুন্নত কিনা, মতভেদ চলছে

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ এবং খুতবা। জুমার খুতবায় ইমামের দাঁড়ানোর পদ্ধতি, হাতে লাঠি রাখা, বসে বা দাঁড়িয়ে নসিহত করা কিংবা খুতবা দেওয়া এবং খুতবা শোনার বিধান নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, খুতবার সময় ইমামের হাতে লাঠি থাকা কি সুন্নত, নাকি এটি একটি ঐচ্ছিক আমল—এ বিষয়ে অনেকেই জানতে আগ্রহী।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে এসব বিষয়ের সঠিক বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, কোনো আমলকে সুন্নত, মুস্তাহাব কিংবা আবশ্যক হিসেবে প্রচার করার আগে কুরআন-হাদিস ও ফকিহদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। নিচে জুমার খুতবা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় দলিলসহ আলোচনা করা হলো—

১. জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা কি সুন্নত?

আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কখনো কখনো জুমার খুতবা দেওয়ার সময় হাতে লাঠি বা ধনুক ধারণ করতেন। এই কারণে ইসলামের কিছু ফকিহ খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখাকে মুস্তাহাব বলে মনে করেছেন।

তবে, খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়। যদি কেউ লাঠি হাতে নিয়ে খুতবা দেন, তবে তা জায়েজ এবং কিছু ফকিহের মতে মুস্তাহাবও হতে পারে। অন্যদিকে, কেউ লাঠি ছাড়া খুতবা দিলেও এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা কিংবা লাঠি না রাখাকে সুন্নতের বিরোধিতা মনে করা সঠিক নয়।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন লাঠি বা ধনুক হাতে রাখতেন?

অনেক আলেমের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার মসজিদে মিম্বর নির্মিত হওয়ার আগে খুতবা দেওয়ার সময় লাঠি বা ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। এছাড়াও, সফর কিংবা যুদ্ধের ময়দানে মিম্বর ছাড়া খুতবা দেওয়ার সময়ও তিনি লাঠিতে ভর দিতেন।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

মিম্বর নির্মাণের পর তিনি সাধারণত মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। সে সময় হাতে লাঠি বা ধনুক রাখতেন—এমন কোনো সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না বলে একদল আলেম মত দিয়েছেন।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহ.) এ বিষয়ে বলেন— ‘মিম্বর স্থাপনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তরবারি, ধনুক বা অন্য কোনো বস্তু নিয়ে মিম্বরে উঠতেন—এমন কোনো প্রামাণ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। মিম্বর নির্মাণের আগে তিনি লাঠি বা ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মাআদ, ১/৪২৯)

সুতরাং, খুতবার সময় লাঠি হাতে রাখা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি জুমার খুতবার অপরিহার্য অংশ নয়। বরং বিষয়টি ফিকহি মতপার্থক্যের অন্তর্ভুক্ত।

খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখা মুস্তাহাব হতে পারে, তবে এটি অপরিহার্য নয়। লাঠি ছাড়া খুতবা দিলেও কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, লাঠি হাতে রাখা বা না রাখার মতো গৌণ বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে জুমার খুতবা ও নামাজের মূল শিক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত। মতভেদপূর্ণ বিষয়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করাই হোক আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার নামাজ ও খুতবার যথাযথ আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন: বৃষ্টির নামাজে অংশগ্রহণ করলেন কাতারের আমির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ১০০০ গোলের পথে থাকার আহ্বান পর্তুগালের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ এম


রোনালদোর অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ১০০০ গোলের পথে থাকার আহ্বান পর্তুগালের

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। পর্তুগালের ফুটবল ফেডারেশন দেশের জন্য তার অসাধারণ অবদানের জন্য কিংবদন্তি অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি, তারা তার ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শুভকামনা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তিনি দেশের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার নামের সঙ্গে ছয়টি বিশ্বকাপ এবং ছয়টি ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে খেলার রেকর্ডও জড়িত রয়েছে।

এক বিবৃতিতে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন জানায়, 'পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাদের চিরন্তন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি আন্তরিক ও চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তিনি আজ জাতীয় দল থেকে তার চূড়ান্ত অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।'

ফেডারেশন রোনালদোকে অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা ও জাতীয় দলের চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার সম্মানে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তারা জানিয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে ফেডারেশন লিখেছে, 'সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, অধিনায়ক! চলুন, ১০০০ গোলের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাই!!!'

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরোও রোনালদোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, 'পর্তুগালের পক্ষ থেকে, আমি রোনালদোকে ধন্যবাদ জানাই যেভাবে তিনি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, পর্তুগিজ জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে পর্তুগালের নাম বহন করে নিয়ে গেছেন।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮৬ বছরের চিখওয়ায়া কামুলোনির অর্থে মসজিদ নির্মাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ এম


৮৬ বছরের চিখওয়ায়া কামুলোনির অর্থে মসজিদ নির্মাণ

বয়স ৮৬ বছর। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে আফ্রিকার দেশ মালাউইয়ের এক প্রবীণ ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি গ্রামের মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের অর্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

এই ব্যক্তির নাম চিখওয়ায়া কামুলোনি। তিনি মালাউইয়ের মাঙ্কি বে এলাকার অধিবাসী। মাঙ্গোচি জেলার চিলোম্বো গ্রামে তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। এর জন্য তার খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ মালাউইয়ান কোয়াচা।

দেশটির সংবাদমাধ্যম মালাউই২৪-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামের মুসল্লিরা পূর্বে অস্থায়ী স্থাপনায় নামাজ আদায় করতেন। তাদের জন্য একটি উপযুক্ত স্থায়ী নামাজের স্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যে কামুলোনি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট স্থানীয় মুসলিম নেতাদের উপস্থিতিতে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিউনিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কামুলোনি জানিয়েছেন, ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবে তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। তিনি পুরো প্রকল্পের ব্যয় নিজের অর্থে বহন করেছেন এবং এ কাজে কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেননি বলেও জানান।

ব্যক্তিগত অর্থে মসজিদ নির্মাণের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। বয়স যে মানুষের কল্যাণে কাজ করার পথে বাধা নয়, মালাউইয়ের এই প্রবীণের উদ্যোগ যেন তারই এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় সম্ভব নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ এম


খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় সম্ভব নয়

জুমার নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই নামাজের সাথে খুতবার একটি বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় করা সম্ভব কি না এবং এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান কি, তা জানাটা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

জুমার নামাজের একটি প্রধান শর্ত হলো খুতবা। খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় শুদ্ধ হয় না। অতএব, যদি ইমাম খুতবা না দিয়ে সরাসরি জুমার নামাজ পড়ান, তবে জুমার নামাজ আদায় হবে না। যদি এমন ভুল ঘটে এবং পুনরায় জুমা আদায়ের সুযোগ না থাকে, তাহলে ওই দিনের জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।

খুতবার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ
‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ (সুরা আল-জুমুআ: আয়াত ৯)

এই আয়াতে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুমার খুতবা ও নামাজ উভয়ই এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। তাই খুতবাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

অতএব, জুমার নামাজের পূর্বে খুতবা দেওয়া অপরিহার্য। খুতবা ছাড়া জুমার নামাজ আদায় শুদ্ধ হয় না। তাই ইমাম ও মুসল্লি—সবার উচিত খুতবার গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ এম


জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্ত শারমিন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।" প্রায় এক বছর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের বিষয়ে একটি ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগতভাবে মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। গত শুক্রবার এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধুমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এই কারণে সামান্তার পদাবনতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, "গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি, তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক-বিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি।" তিনি আরও জানান, সংগঠনে নানা চড়াই-উৎরাই থাকলেও, দল যদি ভুল পথে যায়, সেই পথ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা তার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল।

সামান্তা জানান, এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন। কারণ দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার অন্য কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। তিনি এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব নয়। সামান্তা লেখেন, "পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনও একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো, কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন।" এনসিপি কখনও কখনও নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না। বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।"

এখন তিনি মনে করেন, দলের সঙ্গে যেসব মতপার্থক্য হয়েছে এবং আলাপ আলোচনা হয়েছে, সেসব বিষয় দলের সকল সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো প্রয়োজন। তিনি লেখেন, "গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল জায়গা একটি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত।" অন্যদিকে, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এ কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক অভিপ্রায় পরিবর্তন হয়নি। ৭১’এ জামায়াতের ভূমিকাকে অপরাধ মনে না করা এবং এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া- এই সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির ওপরই তাদের অবস্থান। এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু মনে করেছে, তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা স্বভাবজাতভাবে উদার, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারের প্রকৃত শক্তি, তারা সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এনসিপির নিজস্ব ও রাজনৈতিক লাইন স্পষ্ট না থাকায় জামায়াতের মধ্যে এনসিপিকে হারিয়ে যেতে হচ্ছে এবং জামায়াতের জন্য নানান ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল এনসিপি, তাই তিনি বারবার দলকে এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সাবধান করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%