০৮:১৮ এম
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ এবং খুতবা। জুমার খুতবায় ইমামের দাঁড়ানোর পদ্ধতি, হাতে লাঠি রাখা, বসে বা দাঁড়িয়ে নসিহত করা কিংবা খুতবা দেওয়া এবং খুতবা শোনার বিধান নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, খুতবার সময় ইমামের হাতে লাঠি থাকা কি সুন্নত, নাকি এটি একটি ঐচ্ছিক আমল—এ বিষয়ে অনেকেই জানতে আগ্রহী।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে এসব বিষয়ের সঠিক বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, কোনো আমলকে সুন্নত, মুস্তাহাব কিংবা আবশ্যক হিসেবে প্রচার করার আগে কুরআন-হাদিস ও ফকিহদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। নিচে জুমার খুতবা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় দলিলসহ আলোচনা করা হলো—
১. জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা কি সুন্নত?
আরও পড়ুন: আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬
বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কখনো কখনো জুমার খুতবা দেওয়ার সময় হাতে লাঠি বা ধনুক ধারণ করতেন। এই কারণে ইসলামের কিছু ফকিহ খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখাকে মুস্তাহাব বলে মনে করেছেন।
তবে, খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়। যদি কেউ লাঠি হাতে নিয়ে খুতবা দেন, তবে তা জায়েজ এবং কিছু ফকিহের মতে মুস্তাহাবও হতে পারে। অন্যদিকে, কেউ লাঠি ছাড়া খুতবা দিলেও এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা কিংবা লাঠি না রাখাকে সুন্নতের বিরোধিতা মনে করা সঠিক নয়।
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন লাঠি বা ধনুক হাতে রাখতেন?
অনেক আলেমের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার মসজিদে মিম্বর নির্মিত হওয়ার আগে খুতবা দেওয়ার সময় লাঠি বা ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। এছাড়াও, সফর কিংবা যুদ্ধের ময়দানে মিম্বর ছাড়া খুতবা দেওয়ার সময়ও তিনি লাঠিতে ভর দিতেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী
মিম্বর নির্মাণের পর তিনি সাধারণত মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। সে সময় হাতে লাঠি বা ধনুক রাখতেন—এমন কোনো সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না বলে একদল আলেম মত দিয়েছেন।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহ.) এ বিষয়ে বলেন— ‘মিম্বর স্থাপনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তরবারি, ধনুক বা অন্য কোনো বস্তু নিয়ে মিম্বরে উঠতেন—এমন কোনো প্রামাণ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। মিম্বর নির্মাণের আগে তিনি লাঠি বা ধনুকের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মাআদ, ১/৪২৯)
সুতরাং, খুতবার সময় লাঠি হাতে রাখা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি জুমার খুতবার অপরিহার্য অংশ নয়। বরং বিষয়টি ফিকহি মতপার্থক্যের অন্তর্ভুক্ত।
খুতবার সময় হাতে লাঠি রাখা মুস্তাহাব হতে পারে, তবে এটি অপরিহার্য নয়। লাঠি ছাড়া খুতবা দিলেও কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, লাঠি হাতে রাখা বা না রাখার মতো গৌণ বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে না পড়ে জুমার খুতবা ও নামাজের মূল শিক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত। মতভেদপূর্ণ বিষয়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করাই হোক আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার নামাজ ও খুতবার যথাযথ আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরও পড়ুন: বৃষ্টির নামাজে অংশগ্রহণ করলেন কাতারের আমির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন