ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি


মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনে উত্তেজনা এখনও বাকি

এটি যেন একটি ছোট গল্প, যা শেষ হলেও শেষ হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান উত্তেজনা শেষ হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা হাউস এবং সিনেট দুটিই দখল করে নিয়েছে। সুতরাং মিসিসিপিতে কে সিনেটর হলেন, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কেউ জিতুক, ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে, মিসিসিপির দিকে সবার নজর রয়েছে। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মজা আলাদা।

একজন অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট, এক ক্যারিশম্যাটিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে অন্যান্য রিপাবলিকানদের তুলনায় খারাপ করা একজন বর্তমান সিনেটর—এই তিনটি বিষয় মিলে মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত করেছে।

প্রথমে পরিসংখ্যানটি একটু দেখে নেওয়া যাক, তাহলে উত্তেজনার কারণ বোঝা যাবে। মিসিসিপির সিনেট নির্বাচনের ফলাফল এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি কারণ দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য। বর্তমানে প্রায় ৯৫.৫৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলম পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২২৬ ভোট (৪৯.০৪ শতাংশ)। অন্যদিকে, বর্তমান সিনেটর রিপাবলিকান সিন্ডি হাইড-স্মিথ পেয়েছেন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫০২ ভোট (৪৮.৮৬ শতাংশ)। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মাত্র ১ হাজার ৭২৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এখনও কয়েক হাজার ডাকযোগে আসা এবং প্রভিশনাল ব্যালট গণনা করা বাকি রয়েছে। তাই চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হতে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’

স্কট কলমের নির্বাচনী শিবিরের মতে, এই প্রতিযোগিতার ভাগ্য এখন প্রায় ১৫ হাজার প্রোভিশনাল ব্যালটের ওপর নির্ভর করতে পারে, যা এখনও যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে। তবে এর মধ্যেই উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলম বলেন, “প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শেষ হলে এবং ব্যালটগুলোর অবস্থান বিবেচনা করলে, আমরাই জিততে যাচ্ছি। আর এটি সম্ভব হয়েছে কারণ মিসিসিপির মানুষ এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক সংখ্যায় ভোট দিতে এসেছেন।”

এদিকে, হাইড-স্মিথের নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক জেক মনসেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, দল এই নির্বাচনে এখনও বাকি থাকা হাজার হাজার ব্যালট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে যখন আইনসম্মতভাবে দেওয়া প্রতিটি ভোট সম্পূর্ণ এবং নিখুঁতভাবে গণনা করা হবে, তখন মিসিসিপিবাসী সিন্ডি হাইড-স্মিথকেই পুনরায় নির্বাচিত করবেন।”

পুনর্গঠন যুগের পর মিসিসিপি থেকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর হওয়ার জন্য কলম অক্লান্ত প্রচারণা চালানোর পর এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী এই স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বারবার যুক্তি দেখিয়েছেন যে, রিপাবলিকানদের প্রতি জনগণের অসন্তোষ এবং রাজ্যের উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার পর্যাপ্ত মনোযোগ ও অর্থ পেলে এই রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। স্কট কলম মনোযোগ ও অর্থ দুটিই পেয়েছিলেন; বেশ কয়েকটি ডেমোক্র্যাটিক সুপার প্যাক প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বিজ্ঞাপনে ব্যাপক অর্থ ঢেলেছিল এবং প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে তাঁর পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে মাঠে নেমেছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ দলের বড় বড় সব নাম।

সিএনএন ভোটার পোল অনুযায়ী, এই নির্বাচনে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ ভাগ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের প্রায় সবাই কলমকে ভোট দিয়েছেন। এনএএসিপি-র প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরিক জনসন গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, “মিসিসিপিবাসী ভোটকেন্দ্রে এসে পুরো দেশকে চমকে দিয়েছে।”

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, চাক শুমারের চাপে বৃদ্ধি

রিপাবলিকানদের পক্ষে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র দুই বছর আগে ২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জেতা একটি রাজ্যে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে শেষ মুহূর্তে হাইড-স্মিথের সঙ্গে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।

কলম আর স্মিথের এই লড়াইয়ের শুরুটা অবশ্য স্মিথই করেছিলেন। নিজের মেয়াদে হাইড-স্মিথ নিজেই ২০২৩ সালে কলমের একটি ফেডারেল বিচারক পদে মনোনয়ন আটকে দিয়ে এই চ্যালেঞ্জের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। যদিও কলমের পক্ষে রাজ্যের সিনিয়র রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকারসহ অন্যান্য রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল। হাইড-স্মিথ কলমের প্রথম ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচনের প্রচারণাকে সমর্থন করা একটি তহবিলে উদারপন্থী বিলিয়নিয়ার জর্জ সোরোসের দেওয়া অনুদানের বিরোধিতা করেছিলেন। সব মিলিয়ে একটি উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আজহ তৈরিই ছিল। যার প্রতিফলন হয়েছে ব্যালটে।

তবে সিএনএন-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে কলম জোর দিয়ে বলেন যে হাইড-স্মিথকে আসনচ্যুত করার এই লড়াই কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভের ম্যাচ নয়। তিনি বলেন, “আমি একজন খ্রিষ্টান। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমার ফেডারেল বিচারক পদ না পাওয়াটা আমার জন্য মোটেও কোনো চালিকাশক্তি বা মোটিভেশন নয়।” তার বদলে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই সিনেটর কংগ্রেসে তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কলমের নির্বাচনী শিবির এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম নজরকাড়া কিছু বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে বর্তমান ইনকাম্বেন্ট সিনেটর মিসিসিপিবাসীর অর্থনৈতিক কষ্ট অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন। একটি ভিডিওতে হাইড-স্মিথকে উপহাস করা হয়, কারণ গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে ‘বেছে নেওয়ার জন্য অনেক প্রোটিন রয়েছে’। বিজ্ঞাপনে একজন নারী আঞ্চলিক টানে বলে ওঠেন, “অন্য প্রোটিন বেছে নেব? ওনার মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। আমি বরং অন্য একজন সিনেটর বেছে নেব।”

আরও পড়ুন: মুসলিমবান্ধব পর্যটনের গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য

ভোট গণনা চলার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই এখন ফলাফলের ওপর একটি আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার অধিকারকর্মী এবং আইনি পর্যবেক্ষকেরা আশা করছেন যে, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ১৫ হাজার প্রোভিশনাল ব্যালট; যা এই রাজ্যে ‘অ্যাফিডেভিট ব্যালট’ নামে পরিচিত; তার মধ্যে কতগুলো চূড়ান্ত গণনায় যোগ হবে, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পেতে অন্তত আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মিসিসিপির বেশ কয়েকটি কাউন্টি ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

মিসিসিপিতে বিভিন্ন কারণে প্রোভিশনাল ব্যালট ব্যবহার করা হয়, যেমন—ফটো আইডি না থাকা, ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে না পাওয়া, অথবা অসম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন ফরম জমা দেওয়া।

এই সাময়িক ব্যালটগুলো যাচাইয়ের পাশাপাশি, নির্বাচন কর্মকর্তারা ডাকযোগে আসা ভোটগুলোও গণনা করবেন। রাজ্যটির নিয়ম অনুযায়ী, সঠিক পোস্টমার্কযুক্ত ভোটগুলো নির্বাচনের পর ৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নির্বাচন অফিসে পৌঁছালে তা গণনা করা হয়। তবে এই ডাকভোটের সংখ্যা অ্যাফিডেভিট ব্যালটের চেয়ে কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিসিসিপিতে সাধারণ কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো পুনর্নির্বাচন হয় না। তাই যিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই এই সিনেট আসনটি জয় করবেন। স্কট কলম যদি শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে জয়ী হতে পারেন, তবে ১৯৮২ সালের পর তিনিই হবেন মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং ১৮৭৫ সালের পর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর।

আরও পড়ুন: ইউরোপে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে বাড়ছে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ আতঙ্ক

সূত্র : সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ এম


বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. মামুন আলী আদালতে সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। একইসাথে, তার মায়ের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। এই মামলায় ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন এবং বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহিমসহ মোট ৮ জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী প্রকাশ কিং আলী (৪৮) গত ২ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারার বিধানমতে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। তবে বিষয়টি ৫ নভেম্বর বিকালে প্রকাশ্যে আসে।

ডায়েরির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ও মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। বন্দর থানাধীন মধ্য হালিশহর মৌজার বিএস ৩৭০ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৭৯০০ দাগে ৭.৭৫ শতক বাড়ি ভূমি নিয়ে প্রতিপক্ষ মহিউদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব সাব্যস্ত ও দখল স্থিতাবস্থার দেওয়ানি মামলা এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাদী মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আলী অভিযোগ করে জানান, বারবার থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি, বরং ওসির প্ররোচনায় প্রতিপক্ষরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২০ অক্টোবর বাদীর নানার বাড়িতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে খুন, ডাকাতিসহ বড় বড় মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়।

মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মো. মহিউদ্দিনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বন্দর থানার আনন্দ বাজারের মুনীর নগর এলাকার মৃত আব্দুল নুরের ছেলে। এছাড়া ২ নম্বর আসামি হিসেবে বন্দর থানার ওসি মো. আব্দুর রহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য প্রতিপক্ষরা হলেন জসিম, নেজাম, রাব্বি, সেলিম, নুরুল আলম ও শিবলু।

সাধারণ ডায়েরির বাদী মো. মামুন আলী বলেন, "আমার প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তিনি তিন দফায় আমার মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৭ শতক জমি দখল করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সুযোগ নিয়ে নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। সম্প্রতি তারা আমার নানার বাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন। এই কাজে তাকে পুলিশও সহযোগিতা করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানে আমার নানার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দখল করে একটি কোম্পানির ডিপো খোলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া দূরে থাক, উল্টো তারা দখলদারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং আমাকে মামলার হুমকি দিচ্ছে। আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় পুলিশের ওসিসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় আমার ওপর আগে থেকে ক্ষুব্ধ পুলিশ। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করছি।"

এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিমকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুর রহমান জানান, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আদালত সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করেছেন এবং পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাধারণ ডায়েরি নিয়মিত মামলায় রূপান্তরিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসিতে শূন্য পাস, ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ; অধ্যক্ষদের ১০ নভেম্বর তলব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ এম


এইচএসসিতে শূন্য পাস, ২৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ; অধ্যক্ষদের ১০ নভেম্বর তলব

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষদের আগামী ১০ নভেম্বর বোর্ডের জরুরি সভায় সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কুদরাত-ই-খুদার স্বাক্ষরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষদের কাছে এ নোটিশটি পাঠানো হয়।

বোর্ডের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এই উদ্দেশ্যে আগামী ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় বোর্ডের সভাকক্ষে অধ্যক্ষদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, গত পাঁচ বছরের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শূন্য পাস করা ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—ই. হক কলেজ, সিটি মডেল কলেজ, এশিয়ান আইডিয়াল কলেজ, কবি জসীম উদ্দিন হাই স্কুল, মেছমাছি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাজী সিরাজুল ইসলাম গার্লস হাই স্কুল, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জালাল উদ্দিন মাস্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্বাচারা মডেল হাই স্কুল, কিশোরগঞ্জ সিটি কলেজ, লে. কর্নেল (অব.) করিম ভূঁইয়া কলেজ, আবুল কাশেম কলেজ, ড. আব্দুর রহিম খান মহিলা কলেজ, গোলাম মনির হোসেন মহিলা কলেজ, মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজ, রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইশাপাশা কালী কিশোর হাই স্কুল, নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা ফকির আবদুল জব্বার কলেজ, কাচারীপাড়া হাই স্কুল, নাগেরপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আলওয়া হাই স্কুল, খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমি, সিমলা পাবলিক হাই স্কুল ও সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন।

বোর্ডের এ উদ্যোগের মাধ্যমে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্য বাধা দূর করে বাংলাদেশ-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ এম


বাণিজ্য বাধা দূর করে বাংলাদেশ-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিদ্যমান বাণিজ্য বাধা দূর করে বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান। তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ বিদ্যমান। এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য পেমেন্ট কাঠামোকে সহজ করার তাগিদ দেন উদ্যোক্তারা ও ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগে’ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল যৌথভাবে এই ডায়ালগের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জন্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের দারুণ সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় কোনো বাধা নেই বললেই চলে। তবে ছোটখাটো যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে যৌথভাবে দূরীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যের পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অংশীদার। তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশে কৃষিপণ্য, খাদ্য ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ই-গভর্ন্যান্সে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি টেকসই দ্বিপক্ষীয় পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ, রেগুলেটরি পদ্ধতি সহজীকরণ, লজিস্টিকস এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো—উভয় দেশের ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাগুলোর জন্য একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে পরস্পরের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য বিনিময় করা। একই সঙ্গে দুই দেশের কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাণিজ্য মেলা, প্রদর্শনী, বিজনেস মিশন ও বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ইমাম আবু সাঈদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি আয়নুর আক্তার পান্না, এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবুল হোসেন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হাসেন আলী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ. কে. এম. হাবিবুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামান্তা শারমিনের নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ এম


সামান্তা শারমিনের নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ার ইঙ্গিত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক নেত্রী সামান্তা শারমিন।

তিনি তরুণদের নেতৃত্বে বিভাজনমুক্ত, গণতান্ত্রিক এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে এ উদ্যোগে আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে একটি দীর্ঘ পোস্টে সামান্তা শারমিন উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করা, যা মানুষকে বিভক্ত না করে ভিন্নমত ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার জায়গায় ঐক্যবদ্ধ করবে।

তার মতে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপিকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে সেই সম্ভাবনা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে তিনি মন্তব্য করেন, একটি দল কিংবা কয়েকজন নেতার সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়া মানে মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু নয়। এখনো বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করা।

সামান্তা শারমিন বলেন, এই ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের অভিন্ন অঙ্গীকার। কোনো বিশেষ মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা একক রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়; বরং ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এ রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নেও বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য, ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলানো স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের রাজনীতি হতে পারে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হতে হবে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে। ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করলে যেমন তার বিরোধিতা করতে হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সামান্তা শারমিন। তিনি জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও সুরক্ষা, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নীতিনির্ধারণে জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা মানে শুধু বিদেশি প্রভাবের বিরোধিতা নয়; দেশের অভ্যন্তরে জনগণের অধিকার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে এমন ক্ষমতাকাঠামো ও স্বার্থের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।

নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন একটি দল গঠন করা নয়; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য নির্মাণ করা, যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু বিভাজন রাজনীতির চালিকাশক্তি হবে না। মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য যেন হারিয়ে না যায়।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাজ করতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে আগ্রহীদের তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প এগিয়ে নিতে চান।

উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট রাজনীতি, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের অভাব, নারী অধিকারের অবমূল্যায়ন এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%