বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২১ পি.এম
শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, পাশাপাশি প্রকৃতি-পাখির সুরক্ষায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুরের বয়ড়া পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর এবং সল্ট-কেন্ডি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে বট, কদম, চালতা, আমলকি, গাব, আমড়া ও ডেউয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, বয়ড়া পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করুণা দাস কারুয়া, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি ও পাখির সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাইনের নির্বাহী পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনি এই বিষয়ে বলেন, "প্রতিবছর আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পাখি ও পরিবেশবান্ধব বিশেষ প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন খোলা জায়গায় লাগানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও চারা বিতরণ করা হয়।"
তিনি আরও জানান, "এ বছর প্রায় পাঁচ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। তবে সংকটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, গ্যাসের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, "জ্বালানি সংকটের এই অভিঘার বোঝা যাবে আরও অন্তত তিন মাস পর।"
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, পোশাকশিল্পে কোনো অভিঘাতের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া একদিনে সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা অর্ডার শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের চলমান দায়-দায়িত্বসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়।
তিনি জানান, গত দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের তথ্য অনুযায়ী কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আগামী তিন-চার মাস পর বোঝা যাবে। একই সঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার কারণে এখন কোনো কারখানা বন্ধ হলে সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে।
তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। তারপরও সময়মতো পণ্য পাঠাতে উদ্যোক্তারা চেষ্টা করেছেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় ধরনের সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া এম এ খালেক মোজাহার আলী বিশ্বাসের পুত্র। তিনি মেহেরপুরের গাংনী বাজারের থানা রোড এলাকার বাসিন্দা। এম এ খালেক মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত।
তথ্য অনুযায়ী, ভারতে যাওয়ার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছালে তার কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গাংনী থেকে আসা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে মেহেরপুরের গাংনীর উদ্দেশে নিয়ে যায়।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সূত্র জানায়, এম এ খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সকালে দর্শনা ইমিগ্রেশনে তার কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় সন্দেহ হলে মেহেরপুরের গাংনীতে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে মামলার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল গাংনী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এম এ খালেকের ছেলে আসিফ রেজার দাবি, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং হৃদ্যন্ত্রে ব্লক রয়েছে। বাইপাস সার্জারির জন্য তাকে ভারতে নেওয়া হচ্ছিল। বাবার নামে থাকা মামলাগুলোর সবকটিতেই তিনি জামিনে রয়েছেন।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সাব-ইন্সপেক্টর তারিক জানান, এম এ খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা থাকায় সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চটি হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেব না।"
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, "সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আবেদন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক, ইন্টেলিজেন্স এবং চলার পথের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি যে, আপনারা আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবেন।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।"
মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, ১১ দলীয় এই কর্মসূচিতে কেউ যদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, "কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাইজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?"
রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে অপোজিশন সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে, দাবি আদায় করে, প্রতিবাদ করে। কিন্তু ৭০ ভাগ লোকের হ্যাঁ ভোট দেওয়া গণভোটের রায়কে পৃথিবীর কোন ইতিহাসে নাই যে একটা রেফারেন্ডাম, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে।"
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সেই নজিরও গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া মেজরিটির জোরে তারা সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা খর্ব করে দিয়েছে।"
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, "আজকের শীর্ষ বৈঠকে এটা আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না।"
তিনি বলেন, "আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কুরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের উপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?"
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।"
তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।
লংমার্চের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা করে গাজীপুর-টঙ্গী হয়ে প্রথম পথসভা হবে গাজীপুর বাইপাসের ভোগড়া এলাকায়। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে নগর জালফৈ মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুপুরের দিকে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হবে। এরপর লংমার্চ যাবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিকে। সেখানে সন্ধ্যা বা মাগরিবের সময়ের দিকে পথসভা হতে পারে। তবে পথের পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি। এরপর রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যারা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সবগুলোরই একটা সুশৃঙ্খল গাড়িবহরের মধ্য দিয়ে আমাদের এই লংমার্চের বহর ইনশাআল্লাহ যাত্রা করবে।"
লংমার্চের পথ ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "ফলে আমরা পথে কোনো আলাদা রান্না করা খাবার বা ব্যবস্থা সম্ভব হবে না।"
এ জন্য প্রত্যেক গাড়িতে থাকা নেতাকর্মীদের নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার, পানি, ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পথে খাবারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে জোটের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ বা অ্যাসোসিয়েট মেম্বার করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তবে এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইইউ-কানাডা চুক্তিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করলে ইউরোপের ওপর ভারী শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার ফ্রান্সে একটি ভাষণে উরসুলা ভন ডার লিয়েন উল্লেখ করেন, বদলে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক জোটগুলোর সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে পাশে রেখে তিনি এই প্রস্তাব দেন। কার্নি এই উদ্যোগকে একটি ‘অনন্য জোট’ হিসেবে বর্ণনা করে ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প পূর্বে একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর প্রস্তাব দিলে কার্নি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ভৌগোলিক সীমানার কারণে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা ইইউর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে পারবে না। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্যকে জোরদার করবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করবে, এবং সমরাস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিতে একযোগে কাজ করবে। পাশাপাশি, ইউরোপের জ্বালানি ও জরুরি খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণে কানাডা গ্যাস ও ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। কানাডিয়ানদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত বসবাসের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
নতুন এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জোটের খবর প্রকাশিত হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘হাস্যকর’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আরও কঠোর শুল্ক চাপানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ