ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিশুর বিকাশে সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণের আহ্বান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী


শিশুর বিকাশে সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণের আহ্বান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে সঠিক সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গুরুদায়িত্ব সরকারের একার পক্ষে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই-এর মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে আয়োজিত ‘অ্যাক্ট ফর আর্লি ইয়ার্স: সেফগার্ডিং চাইল্ডহুড অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেট’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। বৈঠকে শিশুদের প্রারম্ভিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, শিক্ষাদানের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু এবং ৫১ শতাংশ নারী। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে কোনো জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে মা, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে লক্ষ্যে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সহায়তায় বিশেষ নিরাপত্তা জাল তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

তিনি আরো জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেই রয়েছে ১ লাখ ৪৩ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা দেশের শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশু জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই বিপর্যয় সামলাতে জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশুকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সকল খাতকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুবসহ জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম

৫ আগস্ট (বুধবার) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে। সরকারি ছুটি থাকার কারণে এদিন বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, সরকারি ছুটির কারণে ৫ আগস্ট হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্দরের ব্যাবসায়িক কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।

তবে, ছুটি শেষে ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি পুনরায় শুরু হবে।

এদিকে, কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আগেই জানানো হয়েছে। ছুটির দিনে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেই জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে উভয় পক্ষ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান। এ সময় দূতাবাসের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জোসেফ বসকি তার সঙ্গে ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সরকার টু সরকার (জিটুজি) সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে এই সহযোগিতার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয় প্রতিনিধিদের মধ্যে।

এ ছাড়া জ্বালানি খাতের বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করা হয়, যাতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা যায়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দ্রুত আরও বৈঠকের আয়োজনের অনুরোধ জানান, যাতে বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করে সহযোগিতার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি অংশীদারি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে এরিক গিলান ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য জ্বালানিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরমাণু ইস্যু শেষ, ইরানের সবচেয়ে ‘বড় অস্ত্র’ মোকাবেলায় হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


পরমাণু ইস্যু শেষ, ইরানের সবচেয়ে ‘বড় অস্ত্র’ মোকাবেলায় হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পরাস্ত করা। কিন্তু তেহরানের ভূ-রাজনৈতিক চাল ওয়াশিংটনকে এনে দাঁড় করিয়েছে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পরমাণু বোমার চেয়েও শক্তিশালী এক হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করছে ইরান।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তেহরান বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি করছে। এতে আমেরিকার সামরিক শক্তি ও অর্থনীতিও পরোক্ষা ও প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে চলা এই উত্তেজনার শুরুতে মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অভিযোগ।

তেহরান সবসময়ই তাদের এই কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সংঘাতের গতিপথ পারমাণবিক বিতর্ক থেকে সরে গিয়ে এখন আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় এসে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের এই ভৌগোলিক সুবিধা এখন তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

হরমুজে অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাহাজ চলাচলের খরচ ও বিমা মাশুল আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা আমেরিকায় সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবে তা প্রয়োগ করা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

আর এতেই আমেরিকান নীতি নির্ধারণের জটিলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও ডিরেক্টর জশুয়া টালিস নিউজউইককে জানান, পারমাণবিক বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে তেহরানকে একঘরে করে ফেলতে পারত কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিকে অর্থনৈতিক মন্দার মুখে ঠেলে দেওয়ার এই কৌশল অনেক বেশি কার্যকর।

ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে আমেরিকাকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্ষেপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডার দ্রুত খালি হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ওয়াশিংটনকে চরম সামরিক ও কৌশলগত চাপে ফেলে দিয়েছে।

এই যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলী পরিবর্তন তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করেছে। ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে ইরান এখন ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

ওমান সরকার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো একটি তহবিল গঠন করবে, যা নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে ইরান মূল যুদ্ধকে পারমাণবিক ইস্যু থেকে সরিয়ে বিশ্ব সমুদ্রপথের নিরাপত্তার দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের এই কৌশলের সাথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগরে হুথির ক্রমাগত হামলার কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ সুয়েজ খাল ত্যাগ করে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ফলে পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। পূর্বে মার্কিন বোমাবর্ষণেও হুথিকে দমানো যায়নি। বর্তমান সময়ে সৌদি-সম্পর্কিত জাহাজে তাদের পুনঃরায় হামলা চালানো পুরো অঞ্চলে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

তেহরানভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোস্তফা নাজাফি মনে করেন, একসময় মার্কিন সামরিক শক্তির ভয় যে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সেই ধারণার বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির কার্যকারিতা নিয়ে এখন স্বয়ং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীরাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

ফলে কোনো সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয়েও আমেরিকা এখন আগের মতো নিজের শক্তি প্রয়োগের হুমকি বজায় রাখতে পারছে না। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর সংকট আরও গভীর হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত বা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ক্ষেত্রে সময় যে আমেরিকার পক্ষে কাজ করবে না, বিশ্লেষকদের মতে সেটাই এখন স্পষ্ট। ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সংঘাত শুরু করা নয় বরং তা বজায় রাখা।

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক ক্লান্তির কারণে মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাবে। ফলে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পথ তৈরিও হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাখ টাকার চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার, গ্রেপ্তার দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


লাখ টাকার চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার, গ্রেপ্তার দম্পতি

কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক দম্পতিকে, যারা লাখ টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার এই দম্পতি।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পিবিআই-এর তদন্ত অনুযায়ী, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস প্রদান করতেন।

তিনি বলেন, মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল নামে দুই প্রতিবেশী তাঁকে বিশ্বাস করে প্রত্যেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। পরে জিহাদ এবং তাঁর স্ত্রী তাঁদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়, কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি প্রদান করা হয় না।

বরং, কম্বোডিয়ায় ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণামূলক কথোপকথন ও অন্যান্য অবৈধ কাজের জন্য বাধ্য করা হয়। এই সময় ভুক্তভোগীদের কোনো বেতন দেয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল।

একপর্যায়ে, তাঁরা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁদের স্বজনদের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এসে দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই খুলনার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতেও তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরো জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকায় আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।

পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এই ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%