০৩:১০ পি.এম
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় অর্ধশতাধিক পোশাক শ্রমিক একযোগে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের গণ-অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো কারখানার সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের নিঃশ্বাস স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে থাকে। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে জানায়নি, কতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকদের ওপর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ওই কারখানায় এই অঘটনটি ঘটে।
শ্রমিক জেসমিন আক্তার আতঙ্কভরে বলেন, 'কিছুদিন আগে এই কারখানার যে ফ্লোরে অসুস্থ লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক কর্মস্থলে মারা গিয়েছিলেন, আজ সেই একই ফ্লোরে শ্রমিকরা হঠাৎ করে একের পর এক অসুস্থ হতে থাকেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে সর্বসম্মতিক্রমে আমরা জানি না, কেন সবাই একসাথে অসুস্থ হচ্ছেন।'
আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
অপর এক শ্রমিক মনিরা বলেন, 'সকালে কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ করেই সবার মধ্যে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানোসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। একটি ফ্লোরের প্রায় সব শ্রমিকই অসুস্থ হতে শুরু করেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।'
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় সংবাদকর্মীরা কারখানার সামনে এসে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী সবুজ মিয়া অভিযোগ করেন, 'শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা কারখানার সামনে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাই। এ সময় কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করে এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।'
অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া আলহেরা হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আবুল হোসাইন বলেন, 'হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর আলহেরা হাসপাতালে অর্ধশতাধিক শ্রমিককে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি রেখে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের মধ্যে মূলত অনবরত বমি ও মাথা ঘোরানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, 'কারখানায় শ্রমিকদের গণ-অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া এবং সার্বিক বিষয়টির গভীর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।'
আরও পড়ুন: মাদরাসার বাবুর্চিকে খাবার না পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করল মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। অসুস্থ শ্রমিকদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন শ্রমিকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন