বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষার উদ্দেশ্যে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ৪০ বস্তা অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, নিষিদ্ধ জাল বিক্রির অপরাধে একজন ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকায় এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের উপস্থিতিতে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, আনন্দ বাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ বস্তায় থাকা প্রায় ৪০০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে বাজারের সবার সামনে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। নিষিদ্ধ জাল বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও আসিফ আল জিনাত মন্তব্য করেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই জাল ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংসের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের প্রজনন ও বংশবিস্তারে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, মাদক এখন আর শুধুমাত্র একক সমস্যা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
গাজীপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, গরু চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গাজীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় গাজীপুর সদরসহ কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম, গরু চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য নোট করেন এবং সাংবাদিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মাদক প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, 'মাদক এখন আর কোনো একক সমস্যা নয়। এটি শুধু পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, একটি পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জনবহুল জেলা। এখানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। পুলিশ একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবেন, আর পুলিশ সেসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
সভায় সাংবাদিকরা পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমের নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে মানুষের সমস্যা ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অনেক অপরাধ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মোঃ আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি মোঃ আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
সভায় পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করে গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সাগরের ভাঙনের কারণে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। একইসাথে, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাগররক্ষা বাঁধ এবং নবনির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়কও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
কুয়াকাটায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের অবস্থা তুলে ধরতে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মেরিন ড্রাইভ এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবারের উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সম্পূর্ণভাবে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টেও ভাঙনের প্রভাব দেখা গেছে। জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে লেম্বুর বন পর্যন্ত সাগররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লকগুলো দেবে গেছে এবং স্থানচ্যুত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে যে কোনো মুহূর্তে সাগররক্ষা বাঁধ ভেঙে কুয়াকাটার লোকালয়ে লোনা পানি প্রবাহিত হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সৈকত ক্রমাগত লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তিনটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেগুলো অনুমোদন পায়নি। সর্বশেষ, গত বছর ৭৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব পাউবো জমা দিয়েছে, কিন্তু সেটিও এখনও অনুমোদন পায়নি, ফলে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তে সাগরের বড় বড় ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়ছে। এর ফলে বাঁধের সামনে থাকা সিসি ব্লকগুলো নড়বড়ে হয়ে স্থানচ্যুত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাঁধের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরন মন্তব্য করেন, "জিরো পয়েন্টে বর্তমানে যেখানে বেড়িবাঁধ রয়েছে, সেখানে একসময় সমুদ্র ছিল অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে। ভাটার সময় পর্যটকদের দীর্ঘ সৈকত পেরিয়ে সাগরে নামতে হতো। গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে সেই দেড় কিলোমিটার সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে এখন সমুদ্র বেড়িবাঁধের কাছে এসে ঠেকেছে।"
কুয়াকাটা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মো ফারুক মীর জানান, "দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত সৈকত ছাড়াও একসময় বেড়িবাঁধের সামনে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা ছিল। কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, এলজিইডির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কাম রেস্ট হাউজ, ইকোপার্ক, ঝাউবন, সাগরঘেঁষা সড়ক, হোটেল-মোটেলসহ অনেক স্থাপনাই এখন বিলীন বা হুমকির মুখে। সর্বশেষ ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটিও সাগরে চলে গেছে।"
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, "গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সাগরভাঙনের কারণে এখন পুরো পর্যটনশিল্পই হুমকির মুখে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের পাশাপাশি দফায় দফায় চিঠি দিয়েছি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।"
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, "কুয়াকাটায় ভাঙন প্রতিরোধের জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় হয়তো অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তাই কম ব্যয়সাপেক্ষ একটি বিকল্প প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবনাটি তৈরি হলে তা সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। ধাপে ধাপে এ প্রকল্পের মাধ্যমে সাগরভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, "প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই কুয়াকাটায় সাগরভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তামাক পণ্যের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের বিপণন এবং সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। এ সময় সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামসের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মাহিন মালিক বক্তব্য রাখেন।
আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার তাদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নতুন ধরনের তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিপণন তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের ব্যবহার ও সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।
খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিক্রির ক্ষেত্রে বয়স যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারীদের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ব্যবহার করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ