ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন


হামের টিকা বিতরণে অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

সরকার হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমান।

আরও পড়ুন: বিদ্যাপীঠে আপ্লুত এমপি লুনা: ‘বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনে কূটচাল করেছিল ফ্যাসিস্টরা’

কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করবে। কমিশন তদন্তের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, এবং যদি থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করবে কমিশন। কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সুপারিশ দিতে পারবে।

তদন্তের স্বার্থে কমিশনকে বেশ কিছু ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। কমিশন দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতাও তাদের থাকবে।

এছাড়া, কমিশন ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়দায়িত্বও নির্ধারণ করবে।

আরও পড়ুন: সরকারের ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬ চীন-তাইওয়ানের নাগরিকের জামিন মঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬ চীন-তাইওয়ানের নাগরিকের জামিন মঞ্জুর

কক্সবাজারে গ্রেফতার হওয়া চীন-তাইওয়ানের ৬ নাগরিকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। এরা বিপুল পরিমাণ আইফোন ও ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সাইবার মামলায় আটক হয়েছিলেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জামিন মঞ্জুরের এই আদেশ প্রদান করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম. আবদুল মন্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, যে আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটি পর্যালোচনা করে চায়না দূতাবাসের জিম্মায় ৬ আসামিকে জামিন দেয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর শহরের সী প্যালেসের সামনে থেকে পুলিশ চীনা ৬ নাগরিককে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনানী ও হিমছড়ির বিভিন্ন রিসোর্ট থেকে ১ হাজার ৯৩৮ টি আইফোন ও আনুমানিক ৪০ টি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা কারাগারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিদেশি ৬ নাগরিকের জামিন আদেশের কপি আদালতে পৌঁছায়নি। জামিন আদেশ হাতে পেলে আইনের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাঁটি তওবার সঠিক নিয়ম ও ক্ষমা লাভের দোয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


খাঁটি তওবার সঠিক নিয়ম ও ক্ষমা লাভের দোয়া

মানুষের স্বভাব হলো ভুল করা। কখনো প্রবৃত্তির প্রভাবে, কখনো শয়তানের প্ররোচনায়, আবার কখনো অসতর্কতার কারণে মানুষ পাপের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে পাপ হয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বরং, যখন বান্দা নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসলামে এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে তওবা বলা হয়।

তওবা মুখে ক্ষমা চাওয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি পাপ থেকে বিরত থাকা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্প করার নাম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে তওবার গুরুত্ব, সঠিক পদ্ধতি এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিভিন্ন দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত খাঁটি তওবার নিয়ম জানা এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ইস্তিগফার ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলা।

তওবা কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

‘তওবা’ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ হলো ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামি পরিভাষায়, পাপের পথ পরিত্যাগ করে অনুতপ্ত হৃদয়ে মহান আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়।

মানুষের জীবনে তওবার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, তওবার মাধ্যমে বান্দা নিজের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তার নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের খাঁটি তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা কর।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, তওবা শুধু গুনাহ মাফের উপায় নয়; বরং এটি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনেরও মাধ্যম।

তাহলে, কোনো পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত। তওবা করার জন্য বার্ধক্য কিংবা জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দার তওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়।’ (তিরমিজি ৩৫৩৭)

অর্থাৎ মৃত্যুর যন্ত্রণার শুরু হওয়ার আগে তওবা করতে হবে। তাই তওবাকে ভবিষ্যতের জন্য ফেলে না রেখে এখনই শুরু করা উচিত।

খাঁটি তওবার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে

তওবা কবুল হওয়ার জন্য শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট নয়। বরং তওবার সঙ্গে অন্তরের অনুশোচনা এবং বাস্তব জীবনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার থাকতে হবে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে খাঁটি তওবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

১. পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া

অতীতে যে পাপ বা অন্যায় করা হয়েছে, তা স্মরণ করে অন্তরে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হবে। নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

২. পাপ কাজ অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া

যে পাপের জন্য তওবা করা হচ্ছে, সেই পাপ থেকে সঙ্গে সঙ্গে বিরত হতে হবে। পাপের কাজ চালিয়ে গিয়ে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া প্রকৃত তওবা নয়।

৩. ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা

জীবনে আর কখনো ওই পাপের কাছে ফিরে না যাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তওবার সময় এই সংকল্প সত্য হতে হবে।

৪. মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া

কারও সম্পদ আত্মসাৎ, প্রতারণা, ঋণ পরিশোধে অন্যায় কিংবা কারও প্রতি জুলুম করে থাকলে যথাসম্ভব তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই বান্দার অধিকার আদায় হয়ে যায় না।

৫. পাপ পুনরায় হয়ে গেলে আবার তওবা করা

কেউ আন্তরিকভাবে তওবা করার পর দুর্বলতার কারণে আবার একই পাপে জড়িয়ে পড়লে হতাশ হওয়া যাবে না। নতুন করে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে। তবে তওবার সময় পাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখা যাবে না।

তওবা করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি

তওবা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কঠিন আনুষ্ঠানিকতা নেই। যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। তবে তওবার জন্য অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা এবং এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি উত্তম আমল। এ বিষয়ে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ

‘কোনো বান্দা গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ ১৫২১, তিরমিজি ৪০৬)

এই হাদিসের আলোকে তওবার জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা যায়। তবে এ নামাজ তওবার অপরিহার্য শর্ত নয়। নামাজ পড়ার সুযোগ না থাকলেও আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা যায়। তওবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের অনুশোচনা, পাপ পরিত্যাগ এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে বেঁচে থাকার আন্তরিক সংকল্প।

তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফারের দোয়া রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো—

দোয়া ১: মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ও সবকিছুর ধারক। আর আমি তার কাছেই তওবা করছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে। (তিরমিজি ৩৫৭৭)

দোয়া ২: নিয়মিত পড়ার সহজ ইস্তিগফার

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার কাছেই তওবা করছি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি কাউকে এই দোয়া পড়তে দেখেননি। (ইবনে হিব্বান ৯২৮)

এই ছোট্ট দোয়াটি মুখস্থ করা সহজ। তাই চলাফেরা, কাজকর্ম কিংবা অবসর সময়ে বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।

নবীজি (সা.) প্রতিদিন শতবার তওবা করতেন

তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব বোঝার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলই যথেষ্ট। তিনি নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং উম্মতকেও তওবার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আল-আঘার আল-মুযানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ

‘হে মানবজাতি! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। নিশ্চয়ই আমি দিনে তার কাছে একশবার তওবা করি।’ (মুসলিম ২৭০২)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই আমল থেকে বোঝা যায়, তওবা শুধু পাপী মানুষের জন্য নয়; বরং প্রত্যেক মুমিনের নিয়মিত আমল হওয়া উচিত। প্রতিদিনের জীবনে ইস্তিগফার ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মানুষের জীবনে পাপের চেয়ে বড় বিপদ হলো পাপ করার পরও অনুতপ্ত না হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসার চেষ্টা না করা। কারণ, শয়তান মানুষকে পাপে জড়ানোর পাশাপাশি আল্লাহর রহমত থেকেও নিরাশ করতে চায়। অথচ আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন।

তাহলে, জীবনে যত ভুলই হয়ে থাকুক, কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ইস্তিগফার, নফল নামাজ ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, তওবার জন্য নির্দিষ্ট বয়স কিংবা বিশেষ সময়ের প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ। আজ যে মানুষটি আন্তরিকভাবে তওবা করছে, আল্লাহর রহমতে তার অতীতের পাপও ক্ষমা হয়ে যেতে পারে।

অতএব, তওবাকে আগামী দিনের জন্য ফেলে না রেখে আজ থেকেই শুরু করা উচিত। পাপের পথ ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসা প্রয়োজন। কারণ, প্রকৃত সফলতা শুধু পাপমুক্ত জীবন গড়ার মধ্যে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে তার কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


যশোরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি বুধবার কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন কেশবপুরের আলতাপোল গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার মৃত রাজালী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হালিম।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।

জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটে যশোর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলা এলাকায় গরিব শাহ মাজারসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে একটি পাত্র থেকে দাহ্য পদার্থ বের করে স্মৃতিস্তম্ভের মাঝামাঝি অংশে ছড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে স্মৃতিস্তম্ভের মাঝামাঝি অংশে আগুনের কারণে কালো দাগ পড়ে যায়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে পারেন কেশবপুরের বাসিন্দা ও গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা আব্দুল হালিম। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে তিন ব্যক্তির মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসা এবং দুজনের নেমে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দাবি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বুধবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হেনেছে এবং এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

তিনি বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের জন্য আগের সতর্কবার্তাটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে তারা সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মক্কা ও মদিনার আকাশসীমা এই সতর্কতার আওতামুক্ত থাকবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের এই দাবির বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%