ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসলামী ব্যাংক আমরা তৈরি করেছি: জামায়াত এমপি


ইসলামী ব্যাংক আমরা তৈরি করেছি: জামায়াত এমপি

ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন মন্তব্য করেছেন যে, দেশের মানুষের ওপর লুটপাট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণেই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে যথেষ্ট নজর দেয়নি। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আশাবাদী যে সরকার শেষ পর্যন্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

শনিবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কলোনি বাজারে এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুল আলম খান মিলন জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, “ইসলামী ব্যাংক আমরা তৈরি করেছি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং পরিবারের সদস্যদের ঋণ খেলাপির রেকর্ড রয়েছে, এমন ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের অনেক এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যাচ্ছে না, যা গ্রাহকদের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, জনগণের পাশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

থানা আমির কলিম উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও আতাউর রহমান সরকার। বক্তব্য রাখেন থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ উল্লাহ ভুইয়া হারুন, প্রচার সম্পাদক নুরে আলম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১২ এম


নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মিদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মিরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।  

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মিদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামিসা হত্যার রায় আজ, সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৪ এম


রামিসা হত্যার রায় আজ, সকাল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রবিবার (৭ জুন) রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। গত বৃহস্পতিবার, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর এ দিন রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণার জন্য প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশি পাহারায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হবে। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের নিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকার নিম্ন আদালতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোতায়েন করা হবে বলে আদালতের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে মামলাটি বিচারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৯ মে দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিট অর্থাৎ ২০ মে মামলা দায়েরের পর ৫ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন এবং তা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর পর ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে বিচারিকের ছুটি বাতিল করে এ মামলাটির শুনানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ১ জুন আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে পরদিন, মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। ২ জুন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন। আদালত একদিনেই সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা শেষ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিচারক ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক আজকের জন্য রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং পরবর্তীতে যুক্তিতর্ক শেষে আজ রবিবার রায়ের দিন নির্ধারণসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল দ্রুতগতি। আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এত দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাওয়ার নজির দেশে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত তদন্ত প্রতিবেদন, বিচার শুরু ও সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন ধাপ পার হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। সভায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ, আর আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার যাবজ্জীবন চান। তবে আসামিপক্ষের দাবি, এ মামলায় সহযোগিতার দায়ে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সাত বছরের সাজা দেওয়া হোক। রায় ঘোষণার পর সেটি কার্যকর হতে কতদিন লাগতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সেটি একমাত্র উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, রায়ে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই চাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রায় ঘোষণায় ট্রাইব্যুনাল দেবেন। রায় ঘোষণার পরে তা কার্যকর হতে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বিচারিক আদালতে রায়ের পরে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উচ্চ আদালতের বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটিও থাকে। সেক্ষেত্রে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি চাইলে দ্রুত এই রায় কার্যকর করার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শেষ করতে পারবেন। সেটি একান্তই তার এখতিয়ার। গত বৃহস্পতিবার, যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলায় সম্পূর্ণরূপে সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে প্রমাণ হয়েছে। গত বুধবার, আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। সুতরাং আমরা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা মৃত্যুদণ্ড সেটি চেয়েছি। অপরদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহও আসামি সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তার যাবজ্জীবন চান। অপরদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার যেহেতু তাকে এ হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছেন এজন্য তাকে ২০১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড চেয়েছেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। শুনানি শেষে ব্রিফিংয়ে এসব জানান তিনি। যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এই মামলার বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে শুনানি করেন। এ সময় তিনি আসামি সোহেল এবং স্বপ্নাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সঙ্গে মামলার বাদী এবং রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনান। একইভাবে মামলাটির সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এই পিপি বলেন, মামলার প্রত্যেকটা সাক্ষী রামিসার গলাকাটা লাশ দেখেছেন বলে এখানে জবানবন্দি দিয়েছেন। ডলারের নাম আসার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামি জবানবন্দিতে ডলারের নাম বলেনি। এটি মূলত সে যখন অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে কারাগারে ছিল, সেখান থেকে অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে এই বুদ্ধি-পরামর্শ পায়। তবে একই সঙ্গে যেটা বলা উচিত, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসামি সোহেল কিন্তু স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়েছেন। বলা যায়, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। এই মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে পিপি দুলু আদালতে বলেন, সে (স্বপ্না) কিন্তু রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে জানাতে পারত। কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন, এমনটি নয়, পুরো ব্যাপারে স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহায়তা করেছেন। তিনি যদি নিরপরাধ হতেন, তাহলে কাউকে জানাতেন। পিপি তদন্ত কর্মকর্তার ওইদিনের সিসিফুটেজ না পাওয়ার বিষয়ে আদালতে বলেন, সিসিফুটেজে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, পল্লবী এলাকা এত ডেভলপ হয়নি, এজন্য সিসিফুটেজে পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত একটানা শুনানি করেন রাষ্ট্র পক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। পরবর্তীতে ১টা ৩১ মিনিট থেকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, শুধু জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কি জবানবন্দি দিয়েছেন তা গ্রহণ করা যায় না। এটা বলে শুনানি শেষ করেন। পরে পিপি দুলু আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আদালতকে বলেন, ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল, সেটা কোথাও প্রমাণিত হয়নি। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীও বিষয়টি মেনে নিলে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে, আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে, একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে, তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী, আসামি মো. সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২২ এম


সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে ছয়জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৬ জুন) ভোর ৪ টার দিকে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ওই ছয়জন কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

জানা যায়, এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে বিজিবি এবং বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই রাজেন্দ্র কুমার পোয়ালে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই ওসিকুর রহমান। তবে বৈঠক হলেও কোন দেশ তাদের নিতে চায়নি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের পাশে তারা ভারতের ভূখণ্ডের অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ২০২০ সালে তারা ভারত যান এবং সেখানে জেল খাটার পরে শুক্রবার বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি বলে দাবি করেন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের মেইল পিলার ১০৪ এর সাবপিলার ৫ এর কাছ থেকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়ার মাধ্যমে ছয়জনকে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা ভারতের সীমান্তে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসএফ তাদের গ্রহণ না করায় তারা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, দুজন নারী এবং এক শিশু রয়েছে।

তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৪ এম


সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই, পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের দেশকে তুলে ধরতে চাই।

মন্ত্রী আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে পুলিশ কনভেনশন হলে রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ কর্তৃক ‘ডিডিসি সন্ধানী’কে একটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর এবং মেডিকেল সামগ্রী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা ও জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে এই রেফ্রিজারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এডুকেশন স্কিল, কেয়ার গিভার, ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপরে জোর দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজ থেকে মাদকাসক্ত দূর করতে, জুয়াখেলা নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে, রামিসার মত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে না ঘটে এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে জুন মাসের পর অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম প্রথম ঢাকাতে শুরু করতে চাই। এরপর পুরো দেশে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি সরকারের পাশাপাশি প্রচার, প্রচারণায় জনগণকে সচেতন করতে মিডিয়ার ভূমিকার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন এবং পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউর প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউর সভাপতি রোটারিয়ান ডাক্তার লুবনা শারমিন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রাপ্যতা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। এই রেফ্রিজারেটর ডিডিসি সন্ধানীর সক্ষমতা বাড়াবে এবং সারাদেশে রক্ত সরবরাহে সহায়তা করবে।

রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সভাপতি আরটিএন ড. লুবনা শারমিন পিএইচএফ বলেন, রোটারির মূলমন্ত্র ‘সার্ভিস অ্যাবভ সেল্ফ’। আমরা বিশ্বাস করি, ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর ডিডিসি সন্ধানীর মাধ্যমে প্রতিদিন অনেক মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাবে।

ক্লাবের ডিরেক্টর ও প্রোগ্রাম চেয়ার মো. সালাহ উদ্দিন পিএইচএফ জানান, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্লাবের সদস্যরা একযোগে কাজ করেছেন। আমরা ডিডিসি সন্ধানীর সঙ্গে ভবিষ্যতেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চালিয়ে যাব।

ডিডিসি সন্ধানী দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান কর্মসূচি, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা ও রক্ত সরবরাহে কাজ করে আসছে। নতুন এই আধুনিক রেফ্রিজারেটর সংস্থাটির সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং রক্তের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ (ক্লাব আইডি: ৮৪৭৩৩) বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে রোটারিয়ান, চিকিৎসক, সন্ধানীর কর্মী, সামাজিক কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%