০৭:৫১ পি.এম
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া বর্তমানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত উত্তাল। এই অবস্থার মধ্যে জনবিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ মোকাবিলা করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা জারির কথা জানান।
তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সচল রাখার জন্য এবং জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক করার প্রয়োজনেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকার আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের পদক্ষেপ নিতে পারবে।
আরও পড়ুন: টাকার্লসন: ট্রাম্প কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বলিভিয়ায় গত প্রায় ৫০ দিন ধরে বিক্ষোভকারীরা দেশের প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছেন। এই অবস্থার কারণে খাদ্য, জ্বালানি এবং জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণপরিবহন ব্যবস্থা থমকে গেছে, যা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে শ্রমিক সংগঠন, কৃষক গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্দোলনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। তীব্র ক্ষোভ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ এখন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবি তুলছে।
এই চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং অবস্থান নিয়ে দেশে নানা জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের বক্তব্য, অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বলিভিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন