রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০২ পি.এম
নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে আব্দুল মোতালেব আপেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম মুকুল নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করেন, যা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সমিতির ২ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৬২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
বিজয়ীদের মধ্যে সভাপতি পদে আব্দুল মোতালেব আপেল ৮৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তাজুল ইসলাম ৭৩৩ ভোট পান।
সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মনিরুল ইসলাম মুকুল ১ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম রায়হান ৪২০ ভোট পান।
এছাড়া সহ-সভাপতি পদে হারুন নূর রশিদ খান ৬৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, অপর সহ-সভাপতি পদে মোয়াজ্জেম হোসেন ৬০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রহমান ৮১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে মোট ১৯টি পদের মধ্যে ১১টি পদে আগেই আব্দুল মোতালেব আপেল ও সিরাজুল ইসলাম রায়হান পরিষদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, বাকি ৮টি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর বণিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা ভৈরবে মানববন্ধন করেছেন, যা নাগরিক সেবার মান না বাড়িয়ে গৃহ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পৌরকর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের অভিযোগ, নাগরিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ বা কার্যকর আলোচনা ছাড়াই পৌরকর প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন দুর্জয় পাদদেশে নূরানী মসজিদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সর্বস্তরের জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয়। গণঅধিকার পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক নুরুল কাদের সোহেল, ভৈরব এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল, ডালিয়া বেগমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক এবং ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ভৈরব দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী। তবে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবার নানা ঘাটতি বিদ্যমান। পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই, অনেক এলাকায় ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর ও অবরুদ্ধ, প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এই বাস্তবতায় নাগরিক সেবা না বাড়িয়ে পৌরকর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
গণঅধিকার পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, ‘ভৈরব প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। সেবা নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত পৌরকর আদায় অন্যায়। আগে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর কর নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাড়তি পৌরকর না দেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা পৌরসভার কর নির্ধারণে বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁদের দাবি, কর বৃদ্ধির আগে নাগরিকদের মতামত নেওয়া এবং কর নির্ধারণের ভিত্তি ও হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ভৈরব শহরের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় থাকায় জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ মশক নিধনে পৌরসভার দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ভবিষ্যতে কর পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
তাঁরা বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং জনগণের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে ভৈরব পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানকে বহনকারী সরকারি জিপের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় সরকারি জিপ এবং কাভার্ড ভ্যানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ইউএনও, তাঁর গাড়িচালক এবং সঙ্গে থাকা আনসার সদস্য অক্ষত অবস্থায় রয়েছেন। আহত হয়েছেন কাভার্ড ভ্যানের হেলপার মানিক।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও মো. মেহেদী হাসান সরকারি কাজে মাধবপুর উপজেলা থেকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। নোয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ-১৪-০৯৩৬) ইউএনওকে বহনকারী সরকারি জিপটিকে (হবিগঞ্জ-১৬-১০৬৮) সামনে থেকে ধাক্কা দেয়।
এই সংঘর্ষের ফলে সরকারি জিপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে চলে যায়। সংঘর্ষের ফলে জিপটির সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাভার্ড ভ্যানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার সময় ইউএনওর গাড়ির পেছনে থাকা একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৮৬২৪)ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যার ফলে প্রাইভেটকারটি ধুমড়ে-মুচড়ে যায়।
কাভার্ড ভ্যানের হেলপার মানিক আহত হয়েছেন এবং তাঁকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহত মানিকের বাড়ি ময়মনসিংহ বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, বলে জানিয়েছেন ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা।
দুর্ঘটনায় সরকারি জিপটির ব্যাপক ক্ষতি হলেও ইউএনও মো. মেহেদী হাসান, তাঁর গাড়িচালক এবং সঙ্গে থাকা আনসার সদস্য অক্ষত থাকায় তাঁরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দাউদকান্দি মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ নিষিদ্ধ সংগঠনের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে উপজেলার জুরানপুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন মডেল থানার এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই ইসমাইল হোসেন, এসআই রেজোয়ানুল ইসলাম এবং এএসআই মোঃ সেলিম মিয়া।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোক্তার হোসেন ভূঁইয়া, যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন উপজেলা আ'লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি জুরানপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র। একই রাতে ঢাকারগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মোঃ মনির হোসেনকেও আটক করা হয়। তিনি ঐ গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, "অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শত শত বছর ধরে বাংলার মাটিতে লালনসংগীত চর্চা হয়ে আসছে। কিন্তু এই গানের সুর ও দর্শনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব যার, তিনি হলেন ফরিদা পারভীন। আজ কিংবদন্তি এই শিল্পীকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের এই দিনেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান, যিনি ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত।
ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করার জন্য বিভিন্ন আয়োজন করা হচ্ছে প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে। সকাল ৭টায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান দিয়ে শুরু’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বংশীবাদক ও ফরিদা পারভীনের জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিম। এছাড়া, বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে তাঁকে নিয়ে একটি বিশেষ সাময়িকী প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন আবদুর রহমান।
বাংলাদেশ বেতারেও ফরিদা পারভীনকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। দুপুরে সম্প্রচারিত হবে এই অনুষ্ঠান। ফরিদা পারভীনের গান পরিবেশন করবেন নাসরিন আক্তার বিউটি ও সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গাজী আবদুল হাকিম বাঁশিতে সঙ্গত করবেন।
ফরিদা পারভীন শুধু গান গাওয়াই নয়, লালনসংগীতের সুর ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অচিন পাখি’। তাঁর গড়ে তোলা এই সংগীত একাডেমিতেও সন্ধ্যায় স্মরণ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একাডেমির কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ফরিদা পারভীনের জীবন, সংগীতচর্চা ও অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
জীবনের শেষ সময়েও ফরিদা পারভীন ‘অচিন পাখি’কে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি জীবনসঙ্গী গাজী আবদুল হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন।
গাজী আবদুল হাকিমের মতে, ফরিদা পারভীন চেয়েছিলেন বাংলা লোকগান পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ুক। সুরের সৌন্দর্যে বেড়ে উঠুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেই স্বপ্ন নিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় ফরিদা পারভীনের জন্ম। সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। তিনি নজরুলগীতি ও ধ্রুপদী সংগীতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থাকার সময় লালনসংগীতের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাঁর। ১৯৭৩ সালে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখার মাধ্যমে তাঁর লালনসংগীতের পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তালিম নেন।
১৯৭৬ সালে ‘অচিন পাখি’ শিরোনামে তাঁর প্রথম দীর্ঘবাদ্যযন্ত্রের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এরপর ফরিদা পারভীন থেমে যাননি। অ্যালবাম, চলচ্চিত্র এবং সরাসরি মঞ্চ—জীবনের প্রায় পুরোটা সময় তিনি লালনসংগীতকে ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
ফরিদা পারভীন লালনের গানকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি এই সংগীতকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিচিত করে তুলেছিলেন। তাঁর অনন্য গায়কির কারণে শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিতি পান।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ