০৫:৩০ পি.এম
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তবে এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে।
এছাড়া, বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে তারা উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।
শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটন নিজেদের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান রসনেফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইগর সেচিন।
আরও পড়ুন: সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে ২০ জন নিহত
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেচিন এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তেহরান। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। একইসাথে সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনেও এটি একটি প্রধান রুট হিসেবে কাজ করে।
সেচিন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়মকানুন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা। এই পদক্ষেপের কৌশলগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু
তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে এবং উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ অর্জন করেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেচিন সতর্ক করে বলেন, হরমুজের পর মালাক্কা, বাব এল-মান্দেব ও জিব্রাল্টার প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোও ভবিষ্যতে বিঘ্নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কমছে ওপেক সক্ষমতা।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর হেগসেথকে সরানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের
বক্তব্যে সেচিন ওপেক প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জোট ত্যাগ এবং এর আগে কাতারসহ কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা কমে গেছে।
তিনি জানান, গত এক দশকে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ৩৭ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।
সেচিনের দাবি, ২০১৬ সালে ওপেক প্লাস চুক্তি স্বাক্ষরের পর অধিকাংশ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়ালেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল কমেছে।
তার ভাষায়, এটি প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস হয়ে গেছে, যা পূরণ করতে অন্তত ১০ ট্রিলিয়ন রুবল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান বন্ধ
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সেচিনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন