ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

২২ বছর মহাকাশে কাটিয়ে নাসার টেলিস্কোপ ধ্বংস হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে


২২ বছর মহাকাশে কাটিয়ে নাসার টেলিস্কোপ ধ্বংস হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে

মহাবিশ্বের শক্তিশালী শক্তি-বিস্ফোরণের রহস্য অনুসন্ধানে দুই দশক কাটানোর পর, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সুইফট টেলিস্কোপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন মহাকাশ বাহিনী নিশ্চিত করে যে, এটি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের ওপর দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে।

এই মহাকাশ পর্যবেক্ষণযন্ত্রটির ওজন ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৫২ কেজি। এর পতন ঘটে, যখন এটি কক্ষপথে টিকিয়ে রাখার একটি উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়, যা প্রায় তিন মাস আগে শুরু হয়েছিল। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এটি শব্দের গতির প্রায় ২২ গুণ গতিতে চলছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন মহাকাশ বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিট) সুইফট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ঘটনাটি ঘটে বিষুবরেখা থেকে প্রায় ৩২২ কিলোমিটার উত্তরে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের আকাশে।

আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়

নাসার ধারণা ছিল, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় স্যাটেলাইটটির অধিকাংশ অংশ বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণজনিত তীব্র তাপে পুড়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব ধ্বংসাবশেষের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নর্থ সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর মেদান থেকে স্যাটেলাইটটির পতনস্থলের দূরত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শহরটিতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে, এবং পুরো প্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ। তবে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের দুর্ঘটনায় কারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২ হাজার ১০০ জনে একজন।

ব্রিটিশ মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লেডেন রয়টার্সকে বলেন, স্যাটেলাইটটির মাত্র কয়েকটি ছোট ও পুড়ে যাওয়া টুকরা পৃথিবীর মাটিতে পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, সেগুলোর কোনোটি থেকেই টেলিস্কোপটির আসল চেহারা চেনার সুযোগ থাকবে না। তাঁর মতে, এ ধরনের আকারের স্যাটেলাইট নিয়মিতই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। মহাকাশ অভিযানের ৭০ বছরের ইতিহাসে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

নাসার এই সুইফট স্যাটেলাইটটি প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল, যার মূল কাজ ছিল গামা-রে বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করা। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে এসব বিস্ফোরণ অন্যতম। তিনটি টেলিস্কোপের সমন্বয়ে তৈরি এই পর্যবেক্ষণযন্ত্র বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক ঘটনা অনুসন্ধান করত।

আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন

২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে সুইফট শত শত সুপারনোভার বিস্ফোরণ, কৃষ্ণগহ্বরের নক্ষত্র ছিন্নভিন্ন করার ঘটনা, নক্ষত্রের এক্স-রে বিকিরণ, গ্রহাণু ও ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করেছে। এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৭ হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এটি মাত্র দুই বছরের জন্য নকশা করা হয়েছিল, তবে এটি দুই দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর ছিল। গত ২০ অক্টোবর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

নিজস্ব চালিকাশক্তি বা প্রপালশন ব্যবস্থা না থাকায়, সুইফটের কক্ষপথ কয়েক মাস ধরে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছিল। স্যাটেলাইটটির কার্যকাল বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে, গত জুলাইয়ে নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ ক্যাটালিস্ট একটি বিশেষ উদ্ধারযান উৎক্ষেপণ করে। ‘লিংক’ নামের ওই মহাকাশযানের পরিকল্পনা ছিল সুইফটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে টেনে আরও উঁচু ও স্থিতিশীল কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া।

কিন্তু মহাকাশে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই লিংক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে, আগস্টের মাঝামাঝি উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরপর সুইফটকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সুইফটের পতনের মধ্য দিয়ে নাসার অন্যতম সফল মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অভিযানের সমাপ্তি ঘটল।

আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা সংকটে নির্বাচন কমিশনে ঝুলছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি এনআইডি আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


নানা সংকটে নির্বাচন কমিশনে ঝুলছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি এনআইডি আবেদন

নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনীর ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি আবেদন নানামুখী সংকটে ঝুলে রয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, নাগরিকের ভুল, ভুয়া কাগজপত্র, তথ্যের গরমিল, একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ, বাস্তবতার সঙ্গে সংশোধন চাওয়া তথ্যের মিল না থাকা, গলা কাটা পাসপোর্ট, প্রবাসীদের অসম বয়স সংশোধনের আবেদন এবং পাসপোর্ট সংশোধন করে বিদেশে যাওয়া, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এসব আবেদনের ঝুলে থাকার প্রধান কারণ। এই জটিলতা নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে। নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এতগুলো আবেদন ঝুলে থাকার ফলে তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এনআইডি সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর চক্রও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, যা ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইসি সূত্র জানায়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কমিশনে ছয়টি ক্যাটাগরির মোট ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৪৩৩টি সংশোধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৯টি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি আবেদন ঝুলে রয়েছে, যার প্রায় ৯২ শতাংশই চলতি বছরের। অনিষ্পন্ন আবেদনের মধ্যে ৭৩ হাজার ৩৭২টি ‘ঘ’ ক্যাটাগরির, যেখানে নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। এই ক্ষেত্রে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোকে মোট ছয়টি ভাগে বিভক্ত করেছে: ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে নামের বানান বা ছোটখাটো ভুল সংশোধন করা হয়। ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ছবি, স্বাক্ষর বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের বিষয় থাকে। ‘গ’ ক্যাটাগরিতে নাম কিংবা বাবা-মায়ের নামের বড় পরিবর্তন করা হয়। ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্ম তারিখ, বয়স, বাবা-মায়ের নামের তথ্য সংশোধন করা হয়। ‘ক-১’ ও ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ছোটখাটো বানান বা ভুল সংশোধনের কাজ করা হয়। বর্তমানে অনিষ্পন্ন আবেদনগুলোর মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির পরেই সবচেয়ে বেশি আবেদন ঝুলে আছে ‘খ’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে জমে আছে ২১ হাজার ৩২৮টি আবেদন।

এরপর ‘ক’ ক্যাটাগরির ১৯ হাজার ৪৪টি, ‘গ’ ক্যাটাগরির ১৬ হাজার ৮১৫টি, ‘খ-১’ ক্যাটাগরির ৪ হাজার ৬০৭টি এবং ‘ক-১’ ক্যাটাগরির ১৪৭৮টি আবেদন ঝুলে রয়েছে। এনআইডি শাখার একজন পরিচালক জানান, নানামুখী জটিলতার কারণে এনআইডি সংশোধন ঝুলে আছে। প্রতিটি আবেদনের পেছনে আলাদা গল্প রয়েছে। নাগরিকরা যে বয়স সংশোধন করতে চান, তাদের মধ্যে অনেকের পারিবারিক ও ওয়ারিশ সনদে দেখা যায় এক ভাই-বোন থেকে অন্যজনের জন্মগ্রহণের বা জন্ম তারিখের পার্থক্য ছয়-সাত মাস; আবার যে বয়স সংশোধন চান, সেই অনুযায়ী তাদের ভোটার হওয়ার বয়স ৭ বা ৮ বছর হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এসব আবেদনের অনেক আবেদনকারী তাদের তথ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন চান, যার মধ্যে অধিকাংশের অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। আবার অনেকেই এনআইডির নাম পরিবর্তন করে জমি দখল বা ঋণ নিচ্ছেন জালিয়াতি করে।

এদিকে এনআইডি সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর চক্র দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই চক্র ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে এনআইডি জালিয়াতি করে অন্যের জমি দখল করার। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নাগরিকের তথ্য অবৈধভাবে বেচাকেনা হচ্ছে। গত ১৫ জানুয়ারি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও নাগরিকের গোপনীয় তথ্য অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাগরিকের তথ্য বেচাকেনায় মাসে কোটি টাকার বেশি লেনদেন করতেন তারা।

জানা গেছে, দেশের ১৮ লাখেরও বেশি নাগরিকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন। দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে এই সংস্থাটি।

ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এনআইডি সার্ভারের তথ্য অনৈতিকভাবে সংশোধন ও স্থানান্তরের জন্য ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ওটিপি দেওয়া হতো একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। এর জন্য প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের ওই চক্রটি তা সরবরাহ করত বিভিন্ন কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে। এভাবেই চলছিল রমরমা ব্যবসা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ইসি নাগরিকদের সেবা দিচ্ছে। অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈদ্যুতিক গাড়িতেই আগামীর যাত্রা: বাজার বৃদ্ধি, ট্যাক্স নীতি ইতিবাচক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


বৈদ্যুতিক গাড়িতেই আগামীর যাত্রা: বাজার বৃদ্ধি, ট্যাক্স নীতি ইতিবাচক

বাংলাদেশে এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) সময়। আগামীর যাত্রা হবে এই গাড়ির মাধ্যমেই। একদিকে যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ইভির বাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনের কারণে দেশে জ্বালানিচালিত সনাতন গাড়ির তুলনায় পরিবেশবান্ধব ইভি প্রযুক্তির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৮২৬টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ পর্যন্ত দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৬৯টি ফোর-হুইলার ইভি নিবন্ধিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ও খুচরা বাজারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের রাস্তায় ইভির ব্যবহার কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। ফোর হুইলার ইভি বা গাড়ির বাজার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও থ্রি-হুইলার (ইজি বাইক) এবং ইলেকট্রিক মোটরবাইকের বাজার ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ৬০ লাখ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এবং ৫০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ই-বাইক চলছে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এবং ইভি জনপ্রিয় করতে ইতিবাচক ট্যাক্স নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে ইভি সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ আসছে।

যদিও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের ইভি বাজার কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশজুড়ে বাণিজ্যিক ও দ্রুত চার্জিং স্টেশনের নেটওয়ার্ক এখনো অত্যন্ত সীমিত। সনাতন গাড়ির মতো ইভির এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পুনঃ বিক্রয় মূল্য গড়ে ওঠেনি। ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মনে কিছুটা শঙ্কা আছে। সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স ভিত্তিক ইভি ডায়াগনস্টিকসের জন্য দেশের সাধারণ ওয়ার্কশপগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরকে সম্পূর্ণ ইভিবান্ধব করার রূপরেখা রয়েছে। এবারের বাজেটে শুল্ক ছাড়ের ফলে এবং স্থানীয়ভাবে ইভি তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে অটোমোবাইল বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ি একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে দেশে টেসলা, মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, আউডি, বিওয়াইডি, ডিপল ও এমজি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এসব গাড়ির দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক কোটি পর্যন্ত।

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে বাজেটে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উচ্চ করভারের কারণে সাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের লক্ষ্য করে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

দেশে চীনের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদনে জড়িত রানার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। দেশে ইভি গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রানার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এফসিএ বলেন, "বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা এখন খুবই ভালো। মাঝারি আকারের একটি এসইউভি ব্যবহারকারীর মাসে জ্বালানি খরচ আগে যেখানে ছিল ৩০ থেকে ৪০ হাজার। সেখানে একটি মাঝারি আকারের বিওয়াইডি সিলিওন ৬ প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবহারীর মাসে বৈদ্যুতিক বিলের খরচ আসে মাসে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা।"

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান বন্ধ

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকে। তবে, অনেক সময় গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দেখা যায় যে, সেদিন ওই এলাকার দোকান ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট

মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একাংশ, শাজাহানপুর, মোহাম্মাদপুর, আদাবর, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর স্টেডিয়াম, চিড়িয়াখানা এলাকা, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ইস্কাটন, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরারপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলী, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

শাহ্ আলী সুপার মার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট, সাকুরা মার্কেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


পাঁচ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে

অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি বর্তমানে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তার সংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপের আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকা সহ পাঁচটি বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রদত্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%