ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ


তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রী শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও আধুনিক অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

তথ্যমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক বর্ণনা

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে তার খুলি পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক বিশ্লেষণ আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


এপস্টেইনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক বিশ্লেষণ আসছে

জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে উত্থাপিত হয়েছে। এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনার দাবি রাখে।

এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এরপর নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে।

মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার এই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি নতুন করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না।

মার্ক আরও জানান, প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি। গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগেই এ কাজ করেছেন।

ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং যে কাপড় বা ফাঁসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করা।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেগুলোতে চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা না করা কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে এখনই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি ফ্রিম্যান। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা, নয়তো হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনার একটিই সত্য হতে পারে। তার আসন্ন বক্তব্যে দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার একজন অধ্যাপক এবং একটি আন্তর্জাতিক ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মেরিল্যান্ডের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।

২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু ঘটে। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।

তবে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের নিয়েও বিশ্বজুড়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে পাস হওয়া ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিপুলসংখ্যক তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর এক মাসেরও কম সময় আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলার অংশ হিসেবে চিঠিটি আদালতে জমা দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।

এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরদিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর তিনি ওই চিঠিটি পান এবং পরে তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেন।

হাতে লেখা ওই চিঠিতে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছিলেন—তাকে এক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি এবং ১৫ বছর আগের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘বিদায় বলার সময়’ এবং ‘কোনো আনন্দ নেই—মূল্য নেই’—এ ধরনের কথাও লেখা ছিল।

এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর এখন সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোই আবার আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য বাড়াতে প্যারিসে ব্যবসায়ীদের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য বাড়াতে প্যারিসে ব্যবসায়ীদের বৈঠক

বাংলাদেশি পণ্যের ইউরোপের বাজারে প্রবেশ ও সম্প্রসারণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ফ্রান্সের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সদর দপ্তরে ফ্রান্স সফররত এফবিসিসিআইয়ের উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করা, সম্ভাব্য অংশীদারত্ব তৈরি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বৃদ্ধি করার ওপর অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও ইউরোপের শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য ফরাসি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিসর বৃদ্ধি করে ইউরোপের বাজারে নতুন নতুন পণ্যের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সহসভাপতি ফখরুল আকম সেলিম মন্তব্য করেন, ইউরোপে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সরাসরি সমন্বয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ধরনের বৈঠক দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. আলমগীর ইউরোপের বিভিন্ন ব্যবসায়িক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরিতে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিরেক্টর জাঁনা মার্টিন, মাহারুল ইসলাম মিন্টু, খন্দকার রূহুল আমিন, লুবনা ইয়াছমিন শম্পা, ফারহানা আফরোজ পলি, মো. কামরুজ্জামান, তাপস বড়ুয়া রিপন ও খান নূরে আলম সিদ্দিকীসহ এফবিসিসিআই ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেন, প্যারিসের এ বৈঠকের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরো বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির পথও আরো সুগম হবে।

বৈঠক শেষে ফ্রান্স বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের সৌজন্যে আয়োজিত বিশেষ গালা ডিনারে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে

উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে ছুড়েছে। শনিবার সকালে উনসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্লেষণ করছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জরুরি বৈঠক আয়োজন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি, আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সামরিক নজরদারি ও সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও অব্যাহত রয়েছে।

জাপানের কোস্টগার্ড জানায়, উৎক্ষেপিত বস্তুটি সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডও এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, তারা মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তাদের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছে না।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কোরীয় সীমান্তের অসামরিক অঞ্চলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের দাবি, বিস্ফোরণটি উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন থেকেই ঘটেছে।

সিউল ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তারা সীমান্তে মাইন ও ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক স্থাপনসহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানায়। তবে উত্তর কোরিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দাবিকে উপহাস করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের। তিনি সীমান্ত বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে দেশটি কথিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা, সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া এবং নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিং করেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%