০৯:৪৩ এম
উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে ছুড়েছে। শনিবার সকালে উনসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্লেষণ করছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জরুরি বৈঠক আয়োজন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি, আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সামরিক নজরদারি ও সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
জাপানের কোস্টগার্ড জানায়, উৎক্ষেপিত বস্তুটি সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সাগরে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডও এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, তারা মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। তাদের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছে না।
এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর কোরীয় সীমান্তের অসামরিক অঞ্চলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের দাবি, বিস্ফোরণটি উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন থেকেই ঘটেছে।
সিউল ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তারা সীমান্তে মাইন ও ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক স্থাপনসহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানায়। তবে উত্তর কোরিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকেই আসতে পারে জ্বালানি তেলের পরবর্তী বড় ধাক্কা
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দাবিকে উপহাস করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের। তিনি সীমান্ত বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।
এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে দেশটি কথিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা, সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া এবং নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিং করেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন