ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘তাপঝড়’ এর প্রভাবে সারাবিশ্বে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা


‘তাপঝড়’ এর প্রভাবে সারাবিশ্বে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতে তাপপ্রবাহ ছিল স্বল্পস্থায়ী এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা, কিন্তু বর্তমানে তা ব্যাপক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, কখনো কখনো মাসের পর মাস স্থায়ী হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই ধরনের ভয়ংকর তাপপ্রবাহকে ‘তাপঝড়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী একটি রেকর্ড গড়া তাপঝড় পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাকে কোনো না কোনো সময়ে প্রভাবিত করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচটি তাপঝড় সক্রিয় থাকত। চলতি দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ১০২টিতে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিবর্তন শনাক্ত করেছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, জানাল হোয়াইট হাউস

রয়টার্স বিশ্বের ১০ লাখের বেশি ভৌগোলিক এলাকার ১৯৬০ সাল থেকে প্রতিদিনের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এ কাজে দুই ডজন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো স্থানে টানা পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা থাকলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এমন তাপপ্রবাহ যদি পৃথিবীর মোট আয়তনের অন্তত এক শতাংশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে ‘তাপঝড়’ বা হিট স্টোর্ম বলা হয়।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকের সবচেয়ে বড় তাপপ্রবাহটি প্রায় ৪৬ দিন ধরে আটলান্টিক মহাসাগর, লাতিন আমেরিকার কিছু অংশ ও পশ্চিম আফ্রিকার ওপর বিস্তৃত ছিল। এটি পৃথিবীর প্রায় ছয় শতাংশ এলাকাকে প্রভাবিত করেছিল। বিপরীতে, চলতি দশকের সবচেয়ে বড় তাপঝড়টি ৩৬৭ দিন স্থায়ী হয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তাপঝড়ের প্রভাব কেবল অসহনীয় গরমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি খরা ও দাবানল বাড়াতে পারে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও পড়ুন: গ্রিস ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এবার সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে

২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ওই তাপঝড়ের সময় সৌদি আরবের মক্কায় হজের সময় তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়েছিল। এতে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লিবিয়ার দেরনা শহরে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যাও দেখা দেয়।

২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে ইউরোপের বড় অংশে তীব্র গরমের কারণে রেললাইনের ইস্পাত বেঁকে যায়। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সরকার এক সপ্তাহে স্বাভাবিকের অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুসারে, ১৯৬০-এর দশক থেকে চলতি দশক পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তাপপ্রবাহ ও তাপঝড়ে আক্রান্ত পৃথিবীর গড় অংশ ১২ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ পানির পর্যায়ক্রমিক ঘটনা এল নিনোও তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে।

আরও পড়ুন: জর্ডানের গির্জায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৭, আহত ১০

নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের অধ্যাপক জেমস রেনউইক বলেছেন, তাপঝড় বৈশ্বিক সভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তাপ। এর ফলে দুর্ভিক্ষ, খাদ্যসংকট, মৃত্যু ও সম্পদের জন্য সংঘাত বাড়তে পারে।

বর্তমান তাপপ্রবাহটি পৃথিবীর বড় একটি অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রাইমুন্ডো’ নামের এই তাপপ্রবাহটি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকাকে প্রভাবিত করে। গ্রীষ্মকালে ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ এবং স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনার সঙ্গে এই তাপপ্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী রবিবার ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে

তদন্ত প্রতিবেদনে জলবায়ু ঝুঁকিগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার সময় প্রায়শই বৈশ্বিক তাপমাত্রার লক্ষ্যমাত্রার কথা উঠে আসে, কিন্তু ব্যাপক এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তাপপ্রবাহগুলো দৈনন্দিন জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও প্রত্যক্ষভাবে ফুটিয়ে তোলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় সৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙ্গরের আক্রমণে নারীর প্রাণ গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় সৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙ্গরের আক্রমণে নারীর প্রাণ গেল

দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় হাঙরের আক্রমণের ফলে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী হাঙরের আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার কিছু ইতিহাস রয়েছে।

হামলার ঘটনা ঘটে কুগোম্পো সিটির (পূর্বের নাম ইস্ট লন্ডন) ওরিয়েন্ট সৈকতে। ঘটনার পর পৌর কর্তৃপক্ষ আশপাশের সব সৈকত বন্ধ করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘সকালে ওরিয়েন্ট সৈকতে একটি হাঙরের হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে একটি মর্মান্তিক প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।’

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই নারী নিয়মিত সাঁতার কাটতেন এবং ঘটনার সময় তিনি অন্য সাঁতারুদের একটি দলের সঙ্গে সমুদ্রে ছিলেন।

স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্য সাঁতারুরা পানিতে হাঙরের লেজ ও ডানা দেখতে পেয়েছিলেন। ফেসবুকের এক পোস্টে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, ‘ভুক্তভোগী নারীর ডান হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমানতা, সমুদ্রে মানুষের যাতায়াতের বৃদ্ধি, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং হাঙর ও তাদের শিকারের বিচরণের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় এ ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। খবরটি আনাদোলুর মাধ্যমে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলারবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল হয়েছে, এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। ভিসাধারীদের জন্য আমাদের বার্তা পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলুন, নইলে দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ হারাবেন।’

নামদার আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে আমাদের দেশের এবং মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা সর্বদা অগ্রাধিকার।’

এ সময় হোয়াইট হাউসের একটি পোস্টেও নামদার যুক্ত করেছেন। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য কোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও এক্সে একটি পোস্টে বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি আইন ভাঙে, জালিয়াতি করে অথবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা

বিদেশে কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধের জন্য বাংলাদেশিদের ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ইস্যু করা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে গ্রাহকরা মোট ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় হয়েছে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনের তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে মোট বিদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ১৭.১৬ শতাংশ হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং সিঙ্গাপুর, যেখানে ব্যয়ের হার যথাক্রমে ১০.৮৬, ৯.৭৫, ৯.১২ এবং ৭.৯৮ শতাংশ।

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সামগ্রিক কার্ডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১০৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

একই সময়ে দেশে ব্যাংক কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ডেবিট কার্ড রয়েছে চার কোটি আট লাখ ৮৭ হাজার ৮০৪টি, ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৯টি এবং প্রিপেইড কার্ড ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮টি।

সামগ্রিক কার্ড লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গত আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কিছুটা কমেছে। ওই মাসে এ ধরনের লেনদেনের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এক মাসে কমেছে ৫.৪৪ শতাংশ।

আগস্ট মাসে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, যেখানে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি এবং ওষুধ কেনায় ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকরা।

অন্যদিকে, বিদেশি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে গত আগস্টে বিদেশিরা ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। আগের মাসের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৬.২৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪.৬৬ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্মেলন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের আদলে হবে। ৫ শতাধিক ইউএনও সরাসরি সরকারের প্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউএনওদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন আরও উজ্জীবিত হবে, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে, উপজেলা উন্নয়নে সব ধরনের বাধা কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নানা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউএনওদের নিয়ে এ সম্মেলন এক দিনের হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজনের রেওয়াজ রয়েছে। ডিসিরা মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের সামনে তুলে ধরেন। একইভাবে ইউএনওরা যদি সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, তাহলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি সরকারের জন্য জানা সহজ হবে। এ কারণে ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সারা দেশের ইউএনওদের নিয়ে এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রতি বছর ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন। ওই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবা প্রদানে ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর ডিসি সম্মেলনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্মেলন আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইউএনও সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি হবে এমন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ভেন্যু এখনও ঠিক হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ওসমানী উদ্যান বিবেচনায় রয়েছে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ অগ্রাধিকার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। গ্রামগঞ্জে যারা প্রবাসে আছেন, তারা যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, এজন্য প্রবাসী কার্ড নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে। শুধু নামমাত্র গাছ লাগিয়ে দায় শেষ করা নয়, বরং বৃক্ষরোপণ যেন সত্যিকারভাবে উপকারে আসে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। সরকারের খাল খনন সংক্রান্ত বাধা ও কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কার্যাবলির সমন্বয়, সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের কাছ থেকে এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নানা বিষয়ে শুনতে পারবেন। ইউএনওদের সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার ফলে প্রান্তিক উন্নয়ন, সমস্যা বা এলাকার রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকলেও সেটি তুলে ধরার সুযোগ থাকবে ইউএনওদের।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সম্মেলনে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, "এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন। কাজেও গতি আসে। মাঠের সমস্যা সরাসরি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীও লিখিত তথ্যের চেয়ে বিষয়গুলো সরাসরি শুনতে পারেন।"

তিনি আরও বলেন, "এরশাদ শাসনামলে এটি হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে নিয়ে একত্রে নয়, বিভাগ অনুযায়ী। আমি মনে করি, সব ইউএনওকে নিয়ে আলোচনা করলে জনসভার মতো হতে পারে, সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটা কয়েকটা জেলা বা বিভাগওয়ারি হলে আরো কার্যকর হবে। সরকারপ্রধান এবং ইউএনওদের যোগাযোগ কার্যকর হবে বেশি।"

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%