ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাবেক কামরান হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপির ৭০ নেতাকর্মী খালাস


সাবেক কামরান হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপির ৭০ নেতাকর্মী খালাস

সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর বোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ৭০ নেতা-কর্মীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এর ফলে দীর্ঘ ১১ বছরের পর এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো।

রোববার (১ নভেম্বর) সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩৬/১৫ নম্বর মামলায় এই রায় ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা মো. ইয়াকুত হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে সিলেট মহানগরের পাঠানটুলা এলাকায় মিছিল বের করেন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ওই মিছিল থেকে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর বোমা হামলার অভিযোগে পুলিশ মামলা দায়ের করে। জালালাবাদ থানা-পুলিশের করা মামলাটির অভিযোগপত্র দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথকভাবে দাখিল করা হয়।

আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

এর আগে একই ঘটনায় দায়ের করা দণ্ডবিধির মামলায় ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর সব আসামিকে খালাস দেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আবদুল মোমেন। সর্বশেষ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায়ও সব আসামি খালাস পাওয়ায় এ ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলাতেই আসামিরা অব্যাহতি পেলেন।

খালাস পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা মো. সম্রাট হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লোকমান, সাবেক সহসভাপতি চৌধুরী মো. সুহেল, বিমানবন্দর থানা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ সরওয়ার রেজা, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শিহাব খান ও আব্দুল হাফিজ রানা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ জুন দিবাগত রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়লেখায় জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, ৪ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ এম


বড়লেখায় জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, ৪ জন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় একটি প্রতারক চক্র অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে। বড়লেখা থানা পুলিশ এই ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫), জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)। গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানার পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট।

থানা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

রোকেয়া বেগম ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, সেগুলো নেই। পরে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়া হবে।

এরপর ১৬ অক্টোবর একই নারী আবার ফোন করে একই স্থানে আরও স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন ভুক্তভোগী। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি। এভাবে দুই দফায় মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে ২ নভেম্বর বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য চিত্র জলজসম্পদের সাথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ এম


হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য চিত্র জলজসম্পদের সাথে

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের প্রতীক পদ্মফুল। জলাশয়ের বুকে সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা গোলাপি পদ্মের সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় মনা মিয়া পদ্মফুলের কুঁড়ি নিয়ে বসেছেন। তিনি সাজিয়ে রেখেছেন গোলাপি, হালকা সবুজ ও হলদেটে আভাযুক্ত পদ্মের কুঁড়ি। পথচারীদের কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখছেন, কেউ কিনছেন পছন্দের ফুল। মনা মিয়া জানান, তিনি নিজে হাওর থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ করেন না। শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর থেকে যারা পদ্মফুল তুলে আনেন, তাঁদের কাছ থেকে কিনে এনে চৌমোহনায় বিক্রি করেন। একজন ক্রেতা জানালেন, তিনি দুই পিস পদ্মফুলের কুঁড়ি কিনেছেন ৮০ টাকায়। তাঁর ভাষ্য, লক্ষ্মীপূজায় পদ্মফুল প্রয়োজন হয়।

মনা মিয়ার এই ছোট্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাইল হাওরের প্রকৃতি, জলজসম্পদ এবং হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার গল্প। হাওর থেকে সংগ্রহ করা পদ্মফুল স্থানীয় বাজারে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার একটি চিত্র ফুটে ওঠে।

কুঁড়ি থেকে ফুল, প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি। পদ্ম একটি বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘবষঁসনড় হঁপরভবৎধ এধবৎঃহ। এটি ঘবষঁসনড়হধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওর, বিল, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে পদ্ম জন্মে।

পদ্মের পাতা বড়, গোলাকার ও সবুজ। লম্বা ডাঁটার ওপর ফুটে থাকে আকর্ষণীয় গোলাপি বা সাদা ফুল। অসংখ্য কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে তৈরি হয় পদ্মফুল। কুঁড়ি ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়ে পাপড়ি মেলে ধরে। ফুলের মাঝখানে থাকে বীজধারী অংশ। পাপড়ি ঝরে যাওয়ার পর সেটি ধীরে ধীরে ফলে পরিণত হয়।

পদ্মের ভূগর্ভস্থ কাণ্ড কাদামাটির মধ্যে বিস্তৃত থাকে। সেখান থেকে নতুন গাছ জন্মায়। বর্ষা ও শরৎকালে জলাশয়ে পদ্মফুলের সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

পদ্ম শুধু ফুল নয়, ফল ও খাদ্যও। পদ্মের ফল স্থানীয়ভাবে পদ্মটুনা নামে পরিচিত। এর ভেতরে থাকে বীজ। হাওরপাড়ের মানুষ পদ্মটুনা থেকে বীজ বের করে খেয়ে থাকেন। পদ্মের বীজ বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কিছু অঞ্চলে পদ্মের কচি ডাঁটা ও ভূগর্ভস্থ কাণ্ড বা রাইজোমও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

হাওরের জলজসম্পদ, মানুষের খাদ্য ও জীবিকা। হাইল হাওর শুধু মাছের ভান্ডার নয়, নানা ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। পদ্মফুল, পদ্মটুনা, শাপলা, শালুক, কলমিশাক ও সিংড়াসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও ফল হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদের অংশ।

হাওরপাড়ের মানুষ এসব জলজসম্পদ পরিবারের খাবারের জন্য সংগ্রহ করেন। আবার কেউ কেউ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশের খাদ্য ও আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদ সরাসরি জড়িত। শাপলা, শালুক, কলমিশাক কিংবা সিংড়াÑএসব অনেক পরিবারের কাছে শুধু খাবার নয়, জীবিকারও অবলম্বন।

হাইল হাওরের চারপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন ও অসংখ্য গ্রাম মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। তাঁদের পেশা ও জীবিকার ধরন ভিন্ন। তবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। হাওর থেকে জলজ উদ্ভিদ ও শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রির মাধ্যমে তাঁরা আয় করেন। আবার এসবের অনেক কিছু নিজেরাও খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।

তাহলে হাইল হাওরের জলজসম্পদ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপাদান নয়, বহু মানুষের জীবনধারণেরও অবলম্বন।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজন সংরক্ষণ

হাওরে পদ্মফুল, শাপলা, শালুকসহ নানা জলজ উদ্ভিদের উপস্থিতি সেখানকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে। এসব উদ্ভিদ জলজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ টিকে থাকলে হাওরের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ থাকে।

হাইল হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলজ পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রাকৃতিক সম্পদ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে দরিদ্র হাওরনির্ভর পরিবারগুলোর ওপর।

প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন

শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় মনা মিয়ার পদ্মফুল বিক্রির দৃশ্যটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে হাইল হাওরের বিস্তৃত প্রকৃতি, পদ্ম সংগ্রহকারী মানুষের শ্রম, স্থানীয় বাজারের চাহিদা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের গল্প। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম অত্যন্ত পবিত্র ফুল। শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পদ্মফুলের ব্যবহার রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে পদ্মের সম্পর্কও সুপরিচিত। অন্যদিকে পদ্মের ফল ও বীজ হাওরপাড়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের অংশ।

একটি পদ্মফুল তাই একই সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, খাদ্য ও মানুষের জীবিকার প্রতিনিধিত্ব করছে। হাইল হাওরের বুক থেকে সংগ্রহ করা সেই পদ্মের কুঁড়ি যখন শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় বিক্রি হয়, তখন প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হাইল হাওরের পদ্মফুল শুধু জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ায় না; এটি মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির প্রতিটি সম্পদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে মানুষের বেঁচে থাকার গল্প। সেই গল্প ও সম্পদ রক্ষা করা তাই আমাদের সবার দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাল সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাল সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি

জেলা বিএনপি সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতু ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে। প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, নিম্নমানের কাজ বাতিল, জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

এছাড়া, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে দেখতে গিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক সাব-ঠিকাদারের করা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (২ নভেম্বর) সুনামগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট মত আমান সংবাদ সম্মেলনে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতুর ১ ও ২ নম্বর অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বিএনপির অভিযোগ, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে শুরু থেকেই ব্যয় প্রাক্কলন ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বদরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ঠিকাদার বলে দাবি করে দলটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে প্রথমে আজাদ হোসেন এবং পরে শফিকুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলকে থামিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়মের অভিযোগ জানান এলাকাবাসী। এ সময় তিনি নিজেও সদ্য নির্মিত একটি গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়তে দেখেন বলে বিএনপির লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন না করা, জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে পরদিন উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনের পরিকল্পনাও করেন তিনি। এর পরপরই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করে জেলা বিএনপি। দলটির ভাষ্য, এ অভিযোগের মাধ্যমে সংসদ সদস্যকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে সাব-ঠিকাদারের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়বস্তুও পৃথকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের পরিমাণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জেলা বিএনপি। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর জন্য অতিরিক্ত প্রাক্কলন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সাত লাখ ঘনফুট মাটির পরিবর্তে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি হিসাবভুক্ত করার অভিযোগও আনা হয়।

বিএনপির দাবি, ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করে দলটি। এ ছাড়া প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড জনসাধারণের সামনে প্রদন করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন, প্রকল্পের মূল প্রাক্কলন বা সংশ্লিষ্ট নথি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা লিখিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রকল্পের শুরুতে দুর্নীতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা , প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত মূল্য দেখানোর মাধ্যমে যে অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয়ের হিসাব যাচাই করতে হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা। সম্পন্ন নিম্নমানের কাজ বাতিল করে নকশা অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করা, সংস্কারকাজে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান অন্যান্য প্রকল্পের কাজেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা সহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা, ছাত্রলীগ-যুবলীগের: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা, ছাত্রলীগ-যুবলীগের: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনার পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে।

রিজভী বলেন, "শ্রমিকদের ব্যবহার করে একটি মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।" তিনি আরও জানান, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তাদের ধারণা। গতকালের ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে।

রিজভী বলেন, "এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, "পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।" দেশের অভ্যন্তরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে বিব্রত ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এই আন্দোলনে দলের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "সেই গণতান্ত্রিক চেতনা থেকেই বর্তমান সরকার সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।" দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীনির্ভর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এরই মধ্যে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা বিপ্লবের কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র ও নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকাশ্যে আন্দোলন করেছে।

বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, "কেউ পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।" মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%