০৪:৫০ এম
জেলা বিএনপি সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতু ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে। প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, নিম্নমানের কাজ বাতিল, জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
এছাড়া, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে দেখতে গিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক সাব-ঠিকাদারের করা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (২ নভেম্বর) সুনামগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট মত আমান সংবাদ সম্মেলনে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতুর ১ ও ২ নম্বর অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
বিএনপির অভিযোগ, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে শুরু থেকেই ব্যয় প্রাক্কলন ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বদরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ঠিকাদার বলে দাবি করে দলটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে প্রথমে আজাদ হোসেন এবং পরে শফিকুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলকে থামিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়মের অভিযোগ জানান এলাকাবাসী। এ সময় তিনি নিজেও সদ্য নির্মিত একটি গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়তে দেখেন বলে বিএনপির লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন না করা, জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে পরদিন উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনের পরিকল্পনাও করেন তিনি। এর পরপরই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করে জেলা বিএনপি। দলটির ভাষ্য, এ অভিযোগের মাধ্যমে সংসদ সদস্যকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
তবে সাব-ঠিকাদারের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়বস্তুও পৃথকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের পরিমাণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জেলা বিএনপি। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর জন্য অতিরিক্ত প্রাক্কলন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সাত লাখ ঘনফুট মাটির পরিবর্তে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি হিসাবভুক্ত করার অভিযোগও আনা হয়।
বিএনপির দাবি, ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করে দলটি। এ ছাড়া প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড জনসাধারণের সামনে প্রদন করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন, প্রকল্পের মূল প্রাক্কলন বা সংশ্লিষ্ট নথি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা লিখিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রকল্পের শুরুতে দুর্নীতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা , প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত মূল্য দেখানোর মাধ্যমে যে অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয়ের হিসাব যাচাই করতে হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা। সম্পন্ন নিম্নমানের কাজ বাতিল করে নকশা অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করা, সংস্কারকাজে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান অন্যান্য প্রকল্পের কাজেও অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা সহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন