ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার ৫৬ খাল দখলমুক্ত করা হবে, চলবে স্থায়ী সংরক্ষণ কার্যক্রম : প্রতিমন্ত্রী


ঢাকার ৫৬ খাল দখলমুক্ত করা হবে, চলবে স্থায়ী সংরক্ষণ কার্যক্রম : প্রতিমন্ত্রী

আজ রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মোট ৫৬টি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত দুটি কমিটির মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের ২৭টি এবং দক্ষিণের ২৯টি খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার মুসলিম বাজার খালের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, খালগুলো দখলমুক্ত করার পর ডিমার্কেশনের মাধ্যমে উভয় পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ খাল দখল করতে না পারে। তিনি কথা বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে নগরী একসময় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তাই নগরবাসীর স্বার্থেই খাল পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সংরক্ষণে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’

তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন ছোট-বড় ৫৬টি খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ চলছে এবং এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন যে, গত ১৯ বছরে আন্তরিকতার সঙ্গে নগরীর খাল ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নগরবাসীর স্বার্থে অলিগলি থেকে শুরু করে খাল-বিল পর্যন্ত সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, মুসলিম বাজার খাল থেকেই ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫০ ট্রাক ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য খালও পরিষ্কার করা হবে। খালগুলোর ময়লা অপসারণের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খালগুলো দখলমুক্ত ও ময়লামুক্ত করা না গেলে ঢাকা নগরী ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে।’ তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে খাল পুনরুদ্ধার, ডিমার্কেশন, গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান থাকবে।

এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার পর কেউ যদি সেখানে কিংবা রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জরিমানা করা হবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সকল সেবামূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি জানান, গত ৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত মুসলিম বাজার খাল থেকে ৪১৬ ট্রাক তলদেশের পলি, স্লাজ ও ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব বর্জ্য অপসারণের ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

প্রশাসক অভিযোগ করেন, গত ১৯ বছরে এ ধরনের ব্যাপক খাল পরিষ্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসির আওতাধীন সব খাল পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে এবং নগরবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর উপহার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার লক্ষ্যেও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা প্রতিনিয়ত নগরীর অলিগলি, জলাশয় ও খালপাড়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে একই রাস্তা বারবার খননের পরিবর্তে ওয়াসা, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসক মুসলিম বাজার খালের আশপাশের অঞ্চলে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে দক্ষ ও সম্ভাবনাময় জনশক্তি নিয়ে আগ্রহী জাপানের ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


রাজশাহীতে দক্ষ ও সম্ভাবনাময় জনশক্তি নিয়ে আগ্রহী জাপানের ব্যবসায়ীরা

 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

শনিবার দুপুরে নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের দপ্তরের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে রাজশাহীর উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাসিক প্রশাসক। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে একে অপরের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎ শেষে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে নগর ভবনের কল সেন্টার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ঘুরে দেখান রাসিক প্রশাসক।

জাপানের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জাপান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাওয়ামোতো ইয়াসুহিরো (Kawamoto Yasuhiro), জেনারেল ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন হামিংবার্ডের রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর ইউতা শিগেমোরি (Yuta Shigemori), সান-সান গ্লোবাল এজেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিদেকি সাকাকিবারা (Hideki Sakakibara), ওয়েস্ট ওকায়ামা মেডিকেল ক্লিনিকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হ্যান্ডসন ল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেইজি ইশিমোতো (Seiji Ishimoto)। প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর আবু সাঈদ।

আলোচনায় বিশেষভাবে রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষ ও সম্ভাবনাময় জনশক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা জানান, জাপানে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রাজশাহী থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তারা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছেন। এ ছাড়া রাজশাহী সিটির সঙ্গে জাপানের দুইটি সিটির সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেন।

রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং বলেন, রাজশাহীর তরুণ জনগোষ্ঠী মেধাবী, পরিশ্রমী ও কর্মক্ষম। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এ সময় রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, রাজশাহী একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল, যেখানে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়। রাজশাহীর আম দেশজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। রাজশাহীতে আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হলে আম দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক, আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং রপ্তানির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের এই আগ্রহ রাজশাহীবাসীর জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ। এর মাধ্যমে রাজশাহীর দক্ষ জনশক্তির জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা জটিলতায়: মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা জটিলতায়: মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ও কূটনৈতিক আলোচনা যখন বড় ধরনের অচলাবস্থায় বা জটিলতায় পড়ছে, তখন পাকিস্তান আবারও দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে। এবারও তা ব্যতিক্রম হয়নি। দুই দেশের মধ্যে স্থলবদ্ধ হয়ে পড়া আলোচনা নতুন করে গতিশীল করার জন্য এবং একটি বড় ধরণের ‘ব্রেকথ্রু’ বা যুগান্তকারী অগ্রগতির লক্ষ্যে আকস্মিকভাবে ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় যখন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখন পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী তেহরানে পৌঁছান। সেখানে, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। মূলত সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধি দলের অনুপস্থিতি এবং মহসিন নকভির এই ঝটিকা সফর প্রমাণ করছে যে, পর্দার আড়ালের আলোচনা কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

কূটনীতিবিদরা বলেন, মহসিন নকভি এই আলোচনার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী বা ‘হেভিওয়েট’ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত। অতীতে দেখা গেছে যে, যখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা থমকে গেছে, তখনই নকভি তেহরানে উড়ে গেছেন এবং ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন বা সবুজ সংকেত নিয়ে এসেছেন। ফলে, প্রতিবারই এই আলোচনা সচল হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নকভি এই মধ্যস্থতার কাজ শুরু করেছেন। তার এই সফর দুইটি বিষয় স্পষ্ট করে তুলে ধরছে— প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে হচ্ছে না; এবং দ্বিতীয়ত, এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের সরাসরি ও স্থায়ী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পুরো বিশ্বের এখন তেহরানের বৈঠকের ফলাফল দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্যামপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


শ্যামপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শ্যামপুরের মীরহাজিরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এনামুল হক বিজয় (২২) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এনামুল সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার চুনার চর গ্রামের শ্রমিক মো. শাহজাহান হাওলাদারের বড় ছেলে তিনি। এনামুল তার পরিবারের সঙ্গে মীরহাজিরবাগ পাইপ রাস্তা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ির ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। এনামুল ছিলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।

জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি সবার অগোচরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এনামুলের মামাতো ভাই আল আমিন তার সম্পর্কে বলেন, এনামুল কিছুটা রাগী প্রকৃতির ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি যেকোনো বিষয়ে হুটহাট করে রেগে যেতেন। তার মধ্যে কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান জানান, দুপুরে খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে তরুণটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এসআই আরো জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন, তথ্যব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আগামীকাল ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেয়া আজ এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমানার অংশ নয়; বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উদ্যাপনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক।

আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচডি) কর্তৃক এ বছরের প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান নিশ্চিত করা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিফলন নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এছাড়া, তথ্যের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, র্দ্ঘুটনা প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকা কেবল একটি ভৌগোলিক পরিসীমা নয়; এটি আমাদের অর্থনেতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ সমুদ্রসীমায় রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতকরণ, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নৌচলাচলের ঝুঁকি হ্রাস, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত করা সম্ভব হচ্ছে।

ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফি, জিওস্পেশাল ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং স্বয়ংক্রিয় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী জনবল তৈরি করতে হলে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব এবং সুনীল অর্থনীতি হতে পারে আগামী দিনের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।’

প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%