০৭:৫৬ পি.এম
১৩ বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, এরপর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। পরে, মুগদার বাসা থেকে অর্ধ গলিত অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) তানভীর হোসাইন শুভর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, নিহতের ভাই তানিম হোসেইন দিবাগত রাতে রাজধানীর মুগদা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
নিহতের বন্ধু আজাদ জানান, বন্ধুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারলেন, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না এবং তিনি কথাও কম বলতেন। বিয়ের পর তার স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলেন। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে, সেটি তিনি জানাতে পারেননি।
নিহতের ছোট ভাই শৈবাল জানান, তাদের মধ্যে তিন ভাই ছিল, এবং তানভীর ছিল মেজো ভাই। ২০১২ সালে তার বিয়ে হয় কিন্তু বিয়ের তিন মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর তানভীর আবার বিয়ে করেননি। ঈদের আগের দিন তিনি সিলেটে ছিলেন এবং নরমালি তানভীর তাকে ফোন করে খোঁজখবর রেখেছিল। তখন তিনি মনে করেননি যে তানভীর কোনো চিন্তায় বা ডিপ্রেশনে ভুগছেন। তিনি বললেন যে তানভীর মুগদায় একাই থাকতেন এবং ঈদে বাড়িতে যেতেন না, ঢাকায় এসে একাই ঈদ করতেন। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।
নিহতের বাবা তবারক হোসেন জানান, তার সঙ্গে কথা কম হয়েছিল। ঈদের আগের দিন তার সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ঈদের দিনেও সেইভাবে কথা হয়েছে। তারা সেগুনবাগিচা এলাকায় থাকতেন, কিন্তু তানভীর মুগদায় একা বাসা নিয়ে থাকতেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি জানান যে, কীভাবে কী হলো, তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি।
বাড়ির মালিকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঈদের দিন শেষবারের মতো তানভীরকে দেখেছিলেন এবং তার পরে কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার, তার ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অর্ধ গলিত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জাহিদ হাসান বলেন, প্রতিবেশীদের মোবাইল ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি কক্ষ থেকে তানভীর হোসেইন শুভর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, দুই চোখ গলিত অবস্থায় বের হয়ে ছিল। জিহ্বা অর্ধেক বাহির করা ছিল এবং মুখ, কান ও নাক পচে পোকা ধরে গেছে। গলায় লাল হলুদ গামছা পেঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। তার সমস্ত শরীরের পচন ধরে গেছে।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে তিনি লেখেন, মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশনে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
এস আই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বিকেলে হস্তান্তর করা হয়। তবে, কেন এবং কী কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন