১০:২২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগণ শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদের উচ্চ কক্ষেও তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৃথক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
সভায় বিজন কান্তি সরকার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীদের নার্সিং পেশায় আরো বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এই মুলতবি ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে রাজনৈতিক স্ট্যাটাসের কারণে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা ছাত্রদল এই অভিযোগকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে। পুলিশও প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে মাহাদী হাসান দাবি করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন এবং পরে বাড়িতে ফিরে যান।
জানা যায়, বুধবার দুপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার কাজে বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মাহাদী হাসান। সেখান থেকে ইজিবাইকে করে বাসায় ফেরার পথে কিছু ছাত্রদলকর্মী তাকে ধাওয়া করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভেও আসেন এবং পরে সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
মাহাদী হাসানের দাবি, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন। এতে ছাত্রদলের কিছু নেতা কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিছু নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে জেলা ছাত্রদল অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, মাহাদী নিজেও ভাইরাল হতে মিথ্যা হামলার অভিযোগ তুলে সাজানো নাটক করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, ‘মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়া বা তাড়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের প্রচার ও গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এমন দাবি করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি সত্যিই ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, তবে তার ফেসবুক লাইভেই সেই দৃশ্য দেখা যেত।’
থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী হাসান থানায় পৌঁছানোর সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে তিনি ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর এক উপপরিদর্শক (এসআই) থানার বাইরে গিয়ে খোঁজ খবর নিলেও কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী প্রায় এক ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কেও বিষয়টি অবহিত করেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, মাহাদী হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হবে।
এর আগে পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়ার এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী মাহাদী। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সদস্যসচিব হিসাবে পরিচিত।
২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন মাহাদী। সে সময় সংগঠনের হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে তিনি আলোচনা সৃষ্টি করেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আরো পরিচিতি লাভ করেন।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আটক করে। এরপর মাহাদী অনুসারীদের নিয়ে থানায় যান এবং নয়নকে আটকের কৈফিয়ত চান পুলিশের কাছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলছিলেন, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা শুরু করবে ওয়াশিংটন।
একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে বেসামরিক অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।”
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সেই অধিকার রয়েছে বলে আমি মনে করি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে চলা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য কয়েক মাস ধরে কাজ করছে তার প্রশাসন।
তিনি বলেন, “আমি কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের এই চুক্তিতে সই করা উচিত। এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”
তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটা শুধু টালবাহানা আর টালবাহানা। তারা আসলে কী করছে, আমি জানি না।”
বেসামরিক অবকাঠামোও হতে পারে লক্ষ্যবস্তু। পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু কিংবা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কি না।
এ প্রশ্নের সরাসরি নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনও চুক্তিতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত হতাশ।
তিনি বলেন, “তারা শুধু সময় নিচ্ছে, আর বলছে-'ঠিক আছে, তাদের আরও কয়েক দিন সময় দেওয়া যাক।’ তারা সময়ক্ষেপণ করছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে হামলা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যদিও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এক দিকে তিনি চুক্তির কথা বলছেন, অন্য দিকে নতুন সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নতুন করে হামলা শুরু করে এবং সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আরও কঠোর হতে পারে।
সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ