সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৬ পি.এম
ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানি রপ্তানি নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প পরিবহন ও বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পূর্ব উপকূলে বন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাইপলাইন, রেলপথ ও বিকল্প বাণিজ্যপথ সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ইউএই প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
আবুধাবিতে এক ফোরামে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গারগাশ বলেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার কারণে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশকও লেগে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এবং তা করতেই হবে। তবে প্রতিবেশীদের মধ্যে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ইউএই গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত করেছে বলে জানান গারগাশ।
উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে ওই দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়াও সমালোচনা করেছেন গারগাশ।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ইরান থেকে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের ধরন নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মোটামুটি অভিন্ন ধারণা ছিল। সমস্যা ছিল না পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে; বরং সেই অভিন্ন উপলব্ধিকে যথেষ্ট ঐক্যবদ্ধ ও কৌশলগত পদক্ষেপে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশগুলো।
গারগাশের মতে, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেট্রোরেলের লাইনে একটি কিশোর নেমে পড়ার কারণে দুই পাশের ট্রেন চলাচল প্রায় ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই কিশোরকে উদ্ধার করে মেট্রোরেলের লাইন থেকে বের করে আনলে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।এটি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার পরে ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিশোরটির বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ বছর। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে সে উত্তরা উত্তর স্টেশনের উত্তর পাশে ডিপোর দিকে যাওয়ার লাইনে নেমে পড়ে। পরে জানা যায়, কিশোরটি মেট্রোরেলের লাইনকে সাধারণ রেললাইনের মতো মনে করেছিল।
তার উদ্দেশ্য ছিল এই পথে হেঁটে টঙ্গীর দিকে যাওয়া। বিষয়টি নজরে আসার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুততার সাথে তাকে লাইন থেকে সরিয়ে আনেন।
কিশোরটি লাইনে অবস্থান করায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সময় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করার পর প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। এদিকে, মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় দুই পাশে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাসময়ে ভারত সফর করবেন।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি যথাসময়ে সফর করবেন।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশ পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আজকের আলোচনায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, কার্বন ক্রেডিট এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের ইন্দ্রবেলতা গ্রামে স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা মলির হাতে স্বামী ইমরান হ"ত্যা"র অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হত্যা কাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
মানব বন্ধনে পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের সাধারণ জনগণসহ নিহতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন অংশ নেন। এ সময় তারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং কঠোর শা"স্তি"র দা"বি জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
মানব বন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে নিহতের ভাই মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "স্ত্রী মলি একজন টিকটকার এবং তার পূর্বেও ৩-৪টি বিয়ে হয়েছিল। ইমরানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সে গোপনে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় আমার ভাইকে এভাবে নির্মমভাবে মে"রে ফে"লা হবে—তা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা মো. মশিউর রহমান এবং পোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত না"রী সদস্যসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক ত"দ"ন্তে"র মাধ্যমে আসল রহস্য উন্মোচন করতে হবে, যাতে কোনো অ"প"রা"ধী আ"ই"নে"র ফাঁক দিয়ে পার না পায়। একইসঙ্গে কোনো নি"র"প"রা"ধ ব্যক্তি যেন হ"য়"রা"নি"র শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
মা"ন"ব"ব"ন্ধ"ন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে হ"ত্যা"কা"ণ্ডে"র দ্রুত বি"চা"র নিশ্চিত ও আ"সা"মি"দে"র গ্রে"প্তা"রে"র দা"বি"তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বয়স ৫৭ বছর। নাম সুমন চন্দ্র। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরিশাল নগরীর অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে শিশুদের পোশাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। হাতে ঝুলানো বাহারি পোশাক নিয়ে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলাই তার নিত্যদিনের সংগ্রাম।
সুমন চন্দ্রের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই ছেলে। বড় ছেলে চানাচুর বিক্রি করে সংসারে সহযোগিতা করেন এবং ছোট ছেলে একটি স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সীমিত আয় হলেও সৎ পথে উপার্জিত অর্থে পরিবার নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে আগের মতো নগরজুড়ে ঘুরে ঘুরে পোশাক বিক্রি করতে পারছেন না সুমন। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসা। এতে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে পুরো পরিবার।
দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এই হকার ব্যবসায়ীর অসহায়ত্বের বিষয়টি নজরে আসে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ এবং ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’-এর আহ্বায়ক সাজ্জাদ পারভেজের।
সুমনের স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য ইচ্ছা দেখে তার পাশে এসে দাঁড়ান এই মানবিক ব্যক্তিত্ব। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুমন চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল নগরীর সিটি মার্কেটের পাইকারি পোশাকের দোকানে যান তিনি। সুমনের বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা আবার সচল করতে নিজের খরচে প্রয়োজনীয় নতুন নতুন শিশুদের পোশাক কিনে দেন সাজ্জাদ পারভেজ।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুমন চন্দ্র বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে বাচ্ছাদের পোশাক বিক্রি করে সংসার চালাই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন আবার নতুন পোশাক পেয়েছি, আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের পাশে যেভাবে সাজ্জাদ পারভেজ স্যার দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও কাছে হাত পেতে বাঁচতে চাই না; নিজের পরিশ্রমে সৎভাবে সংসার চালাতে চাই। এই সহায়তায় আমার আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হলো। যতদিন শরীরে শক্তি আছে, পরিশ্রম করেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।”
সুমনের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়ে সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “অসহায় ও পরিশ্রমী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সমাজের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। সুমন চন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার এই সুন্দর প্রয়াস যাতে বন্ধ না হয়ে যায় এবং তিনি যেন পুনরায় স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই চিন্তা থেকেই এই সামান্য উদ্যোগ।”
সুমন চন্দ্রের মতো পরিশ্রমী ও সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ‘৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ’-এর এই মানবিক সহযোগিতা বরিশাল জুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ