বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৩ পি.এম
‘বিগ বস’-এর নতুন সিজনে সালমান খান কত কোটি টাকা নিচ্ছেন?
সালমান খানের ‘বিগ বস’-এর সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। বছরের পর বছর ধরে তিনি এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বিশেষত ‘উইকেন্ড কা বার’-এ সালমানের উপস্থিতি দর্শকদের কাছে শোয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, প্রতি মৌসুম শুরুর আগে তার পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এবারের মৌসুমেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
সালমান খানকে ‘বিগ বস ২০’-এর সঞ্চালনার জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন মৌসুমে সঞ্চালনার জন্য সালমান খান প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেতে পারেন।
সূত্রে জানা গেছে, এবারের মৌসুমটি প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে চলবে। সেই অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহান্তে সালমানের পারিশ্রমিক হতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি রুপি। তবে, এই পারিশ্রমিকের পরিমাণ সালমান খান কিংবা অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
আগের মৌসুমগুলোর মতো এবারও ‘উইকেন্ড কা বার’-এ সালমানের উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই শোয়ের মোট বাজেটের একটি বড় অংশ তার পারিশ্রমিকের জন্য ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আগের মৌসুমগুলোর তুলনায় ‘বিগ বস ২০’-এর বাজেট তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠানটির মোট বাজেট কিংবা সালমানের চূড়ান্ত পারিশ্রমিক সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য যাচাইয়ের মানদণ্ড হিসেবে শিক্ষার্থীদের শেখার মানকে বিবেচনা করা হবে, এমনটি জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে সাফল্য পরিমাপের জন্য নির্মিত ভবন ও বরাদ্দ ব্যয়ের উপর নির্ভর করা হতো। তবে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, তার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষক, ডিপিও, ডিডি এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকলের মূল্যায়ন এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে হবে, তিনি এ কথা জানান।
বুধবার বিকালে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক কর্মশালার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। কর্মশালায় পিটিআইয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন মামলার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পদ শূন্য হয়ে আছে। প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব নিতে পারবেন না, বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। নবনিযুক্ত শিক্ষকরা দুই মাসের প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে যাবেন, এরপর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ চলবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের পিটিআই ও উপজেলা পর্যায়ের ইউপিটিসিগুলো নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কাজ চলছে। অতীতে মান কমে যাওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক থেকে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষার মান বাড়ানো গেলে অভিভাবকরা আবার সরকারি প্রাথমিকের দিকে ফিরবেন, তিনি মনে করেন।
ক্রীড়াকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ক্রীড়াবিষয়ক পাঠ্যবই ২০২৭ সালে এবং সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ ও প্রশিক্ষক ভাগাভাগির পাশাপাশি নতুন মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রান্নাকরা তাজা খাবার দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ে পৃথক পাইলট প্রকল্পও শুরু করা হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মতিয়ার রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মাসুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশনা পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক এবং লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ বুধবার হাইকোর্টের বেঞ্চে এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’
২০১০ সালে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’র পক্ষে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।
পরবর্তী বছর ১ জুন এই রিটের ওপর রায় প্রদান করে হাইকোর্ট। রায়ে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে ছিল- নদীতে সরাসরি পতিত হওয়া সকল ড্রেনেজ ও পয়োবর্জ্য লাইন চিহ্নিত করে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করা, বুড়িগঙ্গায় যেন নতুন করে কোনো বর্জ্য বা ময়লা ফেলা না হয়, সেই জন্য নদীর তীরে নিয়মিত টহল দেওয়া, এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ও বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়া বুড়িগঙ্গার দুই তীরে গড়ে তোলা অবৈধ শিল্প-কারখানা বন্ধ করা।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ উল্লেখ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে নদীর তীরে যেকোনো প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তবে গত ১৯ আগস্ট একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গার তীরে স্তূপ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্য রাখা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এসব বর্জ্য পানিতে মিশে ভয়াবহ দূষণ ঘটাতে পারে।
এই আইনজীবী জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ৩০ আগস্ট আবেদনটি করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধানমণ্ডিতে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই মামলায় ৪ আসামি রিমান্ডে
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি আদালত প্রদান করেছে। একই ঘটনায় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় এক আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. শরীফুজ্জামান রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ছিনতাই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া তিন আসামি হলেন মজিবুর রহমান, জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির এবং কবির হোসেন। অস্ত্র মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তানভীর আবেদীন বাবু ওরফে খোকনকে।
জানা যায়, আসামিদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত ছিনতাই মামলায় তিন আসামির দুই দিন করে এবং অস্ত্র মামলায় তানভীর আবেদীনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ধানমণ্ডির ১২ নম্বর সড়কের ডিঙ্গী রেস্টুরেন্টের সামনে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বেকারি ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম (৫০)।
এ সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল অস্ত্রের মুখে তার গতিরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
চিৎকার শুনে ধানমণ্ডি মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে তানভীর আবেদীন ও মজিবুর রহমানকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তানভীরের দেহ তল্লাশি করে চারটি গুলিসহ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
পরে মজিবুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখাণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে নিউ মার্কেট এলাকা থেকে কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় খোরশেদ আলম বাদী হয়ে এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ধানমণ্ডি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম গত ৩১ আগস্ট পৃথক মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি মডেল থানার এসআই বাবন উদ্দিন ছিনতাই মামলায় জাকির ও কবিরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। একই থানার এসআই জালাল উদ্দিন অস্ত্র মামলায় তানভীরের সাত দিনের রিমান্ড চান।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট জাকির, কবির ও তানভীরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান এবং রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। পরে কবিরকে গ্রেপ্তারের পর আজ তাকেও আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘সি৪৩০এল’ কোডনামের এই গোপন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের জন্য উচ্চগতির ‘র্যামজেট’ ইঞ্জিন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যদি এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীসহ যেকোনো লক্ষ্যবস্তু ও যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ গোপন চিঠিপত্র, ভ্রমণ নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। নথিপত্র অনুসারে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান 'রস অবোরোন এক্সপোর্ট' এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা রকেট ডিজাইন সংস্থা 'এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়া' যৌথভাবে এই প্রকল্পের তদারকি করছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা একাধিকবার ইরান সফর করেন। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে রাশিয়ান প্রকৌশলীরা ইরানের তৈরি র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং সেটির বিভিন্ন ত্রুটি দূর করার জন্য কারিগরি সমাধান ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রযুক্তিগত বিনিময় ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মার্কিন-ইসরায়েল অভিযানের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে এই প্রকল্প সংক্রান্ত যোগাযোগ ও নথিপত্র আদান-প্রদান চলেছে। মূলত র্যামজেট ইঞ্জিনের সুবাদে কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম হয়, যা বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ করে তোলে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই কৌশলগত সংবেদনশীল প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা করে আসছিল, যা কেবল ক্রেমলিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অনুমোদন পেলেই হস্তান্তর করা সম্ভব।
যদিও ইরান ইতিমধ্যেই এই ইঞ্জিনের ফ্লাইট পরীক্ষা চালিয়েছে, তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তার নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। রাশিয়া এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তরফ থেকে ইরানকে এই ধরনের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ