০৩:০৭ এম
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ পিএফজির উদ্যোগে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধ কমপ্লেক্স সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্টে’র এমআইপিএস প্রকল্পের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে, সংলাপে পিএফজির পক্ষ থেকে ১১দফা ঘোষণা করা হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ পিএফজির পিস এম্বাডের সিরাজ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর মাঠ সমন্বয়কারী কুদরত পাশার সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিমা। তিনি বক্তব্যে বলেন, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. নাজমুন নাহার নূর (লুবনা)।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলি উল্লাহ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সমবায় কর্মকর্তা রুহুল হাসান, এমআপিএস প্রজেক্টের জেন্ডারে এস্ড ইয়থ এমপাওয়ারমেন্ট এক্সপার্ট শারমিন সুলতানা লাবণ্য।
সভাটি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত দ্বারা শুরু করা হয় মাওলানা তাকবির হোসেনের মাধ্যমে এবং গীতা পাঠ করেন বিনয় চক্রবর্তী। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী নাজমুল হুদা মিনা।
এ ছাড়াও, উক্ত সংলাপে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী সভাপতি মওলানা খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই, পিএফজির সমন্বয়কারী দোলন রানী তালুকদার, পিস এম্বাসাডর জিয়াউর রহমান জিয়া, মতিউর রহমান, সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, জয়ন্ত তালুকদার, বদরুল আলম টিপু, প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাইদ, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ উসমান, প্রেমানন্দ দাস, রাসেন্দ্র কুমার, নাজমা আক্তার, জেসনি আক্তার, শিউলী রানী দেবী এবং ইয়থ পিস এম্বাসাডর মানসুর আহমদসহ অন্যান্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাসলিম আক্তার লিমা বলেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিগত পরিচয় এর কারণে কোনো মানুষ যেন সহিংসতা, বৈষম্য বা আতঙ্কের শিকার না হয়-এ দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং আমাদের সবার।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, প্রত্যেক নাগরিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব নিলে আমরা সবাই মিলে শান্তি সম্প্রীতির দেশ গঠন করতে পারবো। তিনি প্রকল্পের কাজ চলমান রাখতে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান এবং এমন ভাল কাজের সাথে তিনি সব সময় থাকবেন।
সভায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং পিএফজি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা ও এযাবৎকালে পরিচালিত কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হয়। ধর্মীয়, জাতিগত এবং রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তি ও সম্প্রীতির জামালগঞ্জ গড়তে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন।
धर्मীয় নেতারা জানান, নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান থেকে সম্প্রীতির বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধর্মের নামে অধর্ম করা যাবে না। যারা ধর্মীয় অনুসাসন মেনে চলে, তারা সংঘাত ও সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে না।
অংশগ্রহণকারীগণ শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া, ঘোষণাপত্র পাঠে সংহতি প্রকাশ করে, এতে স্বাক্ষর করেন উপস্থিত সকলে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন