০২:১৩ পি.এম
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী থাকার পরও এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ৩ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার শূন্য শতাংশ রেকর্ড হয়েছে। অথচ প্রধান শিক্ষকসহ ওই বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়মিত সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা ভোগ করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২০০৫ সালে এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালে এটি নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায়। ঐ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন মানবিক বিভাগের।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে, উক্ত ৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত
ফলাফলের এই চরম বিপর্যয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, 'এর আগে আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল কখনো এতটা খারাপ হয়নি। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীই গণিতের বিষয়ে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হলো, আমাদের গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।'
এদিকে একই জেলায় সাদুল্যাপুর উপজেলার 'উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' থেকেও এ বছর ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাদের মধ্য থেকেও কেউ পাস করতে পারেনি।
সংকটজনক এই ফলাফলের বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, 'কেন এমন শতভাগ ফেলের ঘটনা ঘটল, সে ব্যাপারে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়েছে। এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনোভাবেই এমন হতাশাজনক ফলাফল আশা করা যায় না।'
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন