০৭:২৬ পি.এম
বাংলাদেশে পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ আগামীকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে তাঁকে বনানী গোরস্থানে দাফন করা হবে।
তিনি আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া এবং প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৯০ বছর ছিল। তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার, মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী এবং শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, অনুষ্ঠিত র্যালি ও আলোচনা সভা
শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেল মিয়া বাসসকে জানান, হাসপাতালে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষে সকাল ১০টার দিকে শিল্পীর মরদেহ ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়। এরপর মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং ভ্যানে তাঁকে ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কের নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। আজ রাতে শিল্পীর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
আগামীকাল ৩০ জুন সকালে ৯টায়, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর মুস্তাফা মনোয়ারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বাদ যোহর বনানী কবরস্থানে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, বরেণ্য এই শিল্পী নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তিনি কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শিল্পীর মৃত্যুতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ল্যাবএইড হাসপাতালে মোস্তফা জামাল হায়দারকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি
কলকাতা আর্ট কলেজে চারুকলা বিষয়ে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার শিক্ষকতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হন। বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফা এবং জমিলা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধকাল পর্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান 'নতুন কুঁড়ি'-এর পরিকল্পনা ও নির্মাণে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন