ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দাদার স্মরণে র‍্যাচেল অ্যাপার মৃত্যু


ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দাদার স্মরণে র‍্যাচেল অ্যাপার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে ফিনিশ লাইনের মাত্র দুই মাইল দূরে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ম্যারাথন অ্যাথলেট র‍্যাচেল অ্যাপা।

সেন্ট্রাল পার্কের নিকটবর্তী এই ২৪ বছর বয়সী সাবেক কলেজ অ্যাথলেটকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

সম্পূর্ণ সুস্থ ও চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার এবং ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: সিলেট টেস্টের আগে তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন সিমন্স

গত রবিবার ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে রেসের শেষ প্রান্তে এসে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান র‍্যাচেল।

দৌড়ানোর সময় র‍্যাচেল যখন রাস্তায় পড়ে যান, তখন রেস দেখতে আসা মিশেলা নিকোলাস নামের এক হাসপাতাল সোশ্যাল ওয়ার্কার দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে যান।

মিশেলা জানান, তিনি র‍্যাচেলের স্পন্দন অনুভব করতে পারছিলেন না। এরপর সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে দুজন চিকিৎসক দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং অ্যাম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত পালাক্রমে র‍্যাচেলকে সিপিআর দিতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর ম্যারাথনের নিজস্ব মেডিকেল টিম ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পৌঁছায় এবং দ্রুত মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা টানা ছয় ঘণ্টা লড়াই করার পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, শিরোপা জিতেছে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ

র‍্যাচেলের বাবা স্টিভ অ্যাপা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, চিকিৎসকদের মতে র‍্যাচেলের মৃত্যুর কারণ ছিল ‘র‍্যাবডোমায়োলাইসিস’। এটি একটি বিরল ও মারাত্মক শারীরিক অবস্থা, যেখানে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাংসপেশি দ্রুত ভেঙে রক্তে ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে দেয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্টিভ অ্যাপা বলেন, ‘এটি ভাবাই যায় না। মাত্র ২৪ বছর বয়স, সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর এবং নিখুঁত ফিটনেস ছিল ওর।’ পেনসিলভেনিয়ার বাসিন্দা র‍্যাচেল বাকনেল ইউনিভার্সিটির একজন সাবেক ডিভিশন-১ ফিল্ড হকি খেলোয়াড় ছিলেন।

এটি ছিল তার জীবনের প্রথম ম্যারাথন। ২০২২ সালে পার্কিনসন্স রোগে মারা যাওয়া তার প্রিয় দাদার স্মরণে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি এই রেসে অংশ নিয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগে রেসের ২৪ নম্বর মাইলে পৌঁছানোর পর তিনি তার বাবাকে শেষ টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘ফাইনাল স্ট্রেচ’ (শেষ মুহূর্ত)। কিন্তু সেই ফিনিশ লাইন আর স্পর্শ করা হলো না র‍্যাচেলের।

আরও পড়ুন: ডুলি: ঘরের মাঠে দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটানো আকাশকুসুম কল্পনা নয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপি আজিজের ছেলের সারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


এমপি আজিজের ছেলের সারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি উঠেছে

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম উল্লেখ করে সারের ডিলারশিপ নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠেছে।

এই দাবি নিয়ে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন উপজেলার একাধিক সার ডিলার ও গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে যোগ্যতা উপেক্ষা করে এসব নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে, ৭ অক্টোবর প্রকাশিত গুরুদাসপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সারের ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতা উপেক্ষিত হয়েছে।

সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) এবং তার ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও অর্থনৈতিক লেনদেনের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে যে, ধারাবারিষা ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সংসদ সদস্যের ভাগ্নের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের মালিকানাধীন রাজ বিজনেস সেন্টার এবং ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের ভায়রা ভাইসহ ঘনিষ্ঠজনদেরও সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্দোষ দাবি সন্দেহভাজনের: শাকিল হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইরফান নিয়াজ ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে সাত মিনিট সাত সেকেন্ডের বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবিতে বিএনপির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে চলছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর এবার তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমান মাদবর এ হুমকি দেন। এ সময় তার পাশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আমান মাদবর। বক্তব্যের একপর্যায়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, "হুইপ অপু ভাইকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছি এবং সেই সঙ্গে ওই সব কুলাঙ্গারকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার দাবি জানিয়ে আমরা সড়ক ব্যারিকেড দিয়েছি। জেলা বিএনপি নেতারা আমাদের রোড ব্লকেডটি উঠিয়ে নিতে বলেছেন। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করবে এবং গ্রেফতার করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, যুবদল- মিয়া নুরুদ্দিন অপু ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনোরকম ষড়যন্ত্র হলে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশের সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে, সে যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক, তার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’ এবং তাকে এই শরীয়তপুর থেকে অবাঞ্ছিত করব। আমরা কোনোভাবেই ওই কুলাঙ্গারদের বরদাশত করব না।"

এ বক্তব্যের ওই অংশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর দুপুরে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে তারা টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন তারা।

এদিকে টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে আমান মাদবরের দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভেতরে দ্বিধা-বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পাশাপাশি, প্রকাশ্যে এমন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে এক উঠান বৈঠকে টিপু মাদবরকে বলতে শোনা যায়, "বিভিন্ন জায়গায় আমার ছবি বানাইয়া পুইড়া ফালাইতাছে, আমার ঘাড় নামাইয়া দিব বক্তৃতা দিতাছে। অথচ গত ১৭ বছর টিপু না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল নামাইতে সাহস পায় নাই। ১৮ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকালে শফিকুর রহমান কিরণ (২ আসনের সংসদ সদস্য), সাঈদ আহমেদ আসলাম (১ আসনের সংসদ সদস্য), কালু সরদারের (সাবেক ১ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে সেদিন সাঈদ আহমেদ আসলাম মারা যেত, শফিকুর রহমান কিরণ মারা যেত, কালু সরদারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিত। আমি টিপু সেদিন বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করে তাদের বাঁচিয়েছি। আমার জীবনটা যুদ্ধে কেটেছে, কেউ আমাকে যুদ্ধের হুংকার দেবেন না। আমি চাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হবে এটাই আমাদের দাবি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নাই।"

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি, আপনারা ভালো করে শোনেন।" যদিও এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, "আমাকে উদ্দেশ করে হুমকি দেওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। আমি এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে: জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ এম


মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে: জিল্লুর রহমান

মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য অপরাধীদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো: জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মো: জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান আরও বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহণের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করছে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবেলা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু বাহককে গ্রেফতার করলেই হবে না। কারা মাদকের চালান সংগ্রহ করছে, কারা অর্থায়ন করছে এবং কারা এর পেছনে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরী করতে হবে, যেখানে আইনপ্রয়োগকারী সকল সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধুমাত্র শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়। মানুষের হতাশা কাটাতে হলে মূল্যেবোধে ফিরতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। শুধু দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয় ঢাকা জেলা প্রশাসন হ্যালো ডিসি নামে একটি নাগরিক সেবার প্লাটফর্ম তৈরী করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক্সপ্রেসওয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তাগিদ সেতু সচিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


এক্সপ্রেসওয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তাগিদ সেতু সচিবের

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা জরুরি ভিত্তিতে দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।

আজ সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রকল্পের রুট অ্যালাইনমেন্টে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন অপসারণ ও স্থানান্তর, জমিসংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণকাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত স্থাপনার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। কমলাপুর আইসিডি-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে কমলাপুর আপ-র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রাক স্ট্যান্ডটি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

এছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টিটিপাড়া থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত সকল সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা, ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইসিবির প্রতিনিধি, প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) এবং প্রকল্প দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%