ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চকবাজারে চাঁদাবাজির শিকার ব্যবসায়ীরা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের প্রতি আলটিমেটাম


চকবাজারে চাঁদাবাজির শিকার ব্যবসায়ীরা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের প্রতি আলটিমেটাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, পুরান ঢাকার চকবাজারে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম নাজেহাল অবস্থায় রয়েছেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের পাশাপাশি এই চাঁদাবাজি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি এসব সংকট ও জনদুর্ভোগের সমাধান করা না হয়, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো হবে।

এনসিপি রাজধানীজুড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি রোধসহ চার দফা দাবিতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমের জেরে ব্যবসায়ী হত্যা

চকবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘চকবাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এখানকার ব্যবসায়ীরা অব্যাহত চাঁদাবাজির শিকার হয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের তরুণেরা। অতিদ্রুত এসব স্থানীয় সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’

এনসিপি নেতা সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘বিদ্যমান গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও সার সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে বিএনপি সরকারকে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানো হবে।’

গণসংযোগ চলাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাধারণ পথচারী ও দোকানদারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং চলমান বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপির ৯০ এমপির মেধা-যোগ্যতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাশেদ খান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তায় মালিক-প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তায় মালিক-প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ববি হাজ্জাজ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।

শনিবার ধানমন্ডির একটি হোটেলে গার্মেন্টস ওনার্স গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

সভায় ঢাকা-১৩ আসনের মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার গার্মেন্টস কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধ, এবং কারখানাকেন্দ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

গার্মেন্টস মালিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে চারটি টহলযান ব্যবহার করা হবে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং কারখানার প্রবেশপথ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া, কারখানার নিরাপত্তাঝুঁকি চিহ্নিত করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় শিল্পমালিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব মনোযোগ সহকারে শোনা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও এর সম্ভাবনাকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও শিল্পী দায়ী’ পোস্ট করা এসিল্যান্ড এখন কেমন আছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও শিল্পী দায়ী’ পোস্ট করা এসিল্যান্ড এখন কেমন আছেন?

‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এমন একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট ফেসবুকে দেওয়ার পর জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ঢাকার ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি রোববার বিকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন, এ তথ্য জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।

রোববার বিকালে যুগান্তরকে তিনি বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ আছেন। ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি তার চট্টগ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছেন। সেখানে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসবেন।

‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ শিরোনামে ফেসবুকে পোস্ট দুটি দিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে পোস্ট দুটি দেওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।

এদিকে, ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের সঙ্গে এসিল্যান্ডের বিরোধের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড ও ইউএনওকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার সমস্ত কিছু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইউএনওর সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার মতো কোনো বিষয় ছিল না। এসিল্যান্ডের সঙ্গে ইউএনওর বিরোধের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কয়েক মিনিট আগে তিনি তার পরিবারসহ ইউএনওর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর পর লাশ দেখে তিনি মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, কর্মস্থলে ফেরার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতের ঘটনাটি কেন এবং কিভাবে ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানা যাবে। আমরা নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখছি।

জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘প্রথমে জানতে পারি এসিল্যান্ডের মোবাইল হ্যাক হয়েছে। পরে তার স্ত্রী জানান, মোবাইল হ্যাক হয়নি, পোস্টগুলো এসিল্যান্ডই করেছেন। পরে তার স্ত্রী সেগুলো মুছে ফেলেন।

তিনি বলেন, পোস্ট দেওয়ার ছয় মিনিট আগেও তিনি (এসিল্যান্ড) আমার বাসায় ছিলেন। উনি সুস্থ হয়ে ফিরে এলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে জামালগঞ্জের এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ প্রথম পোস্টটি দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর তিনি দ্বিতীয় পোস্ট দেন ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’। মুহূর্তের মধ্যে পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পোস্ট দেওয়ার পরপরই ইউএনও শিল্পী রানী মোদক তার ফেসবুক পেজে এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করে একটি পোস্ট দেন। এতে সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এসিল্যান্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দুটি মুছে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে ইউএনও জানান, আইডি হ্যাক হয়নি, এসিল্যান্ডের স্ত্রী পোস্টগুলো মুছে দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

জানা গেছে, আরিফুর রহমান শান্ত প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার পরিবার নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিটি নির্বাচনে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা অংশ নিতে পারবেন না: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


সিটি নির্বাচনে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা অংশ নিতে পারবেন না: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকারের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।

তিনি রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন।

নাহিদ অভিযোগ করেন যে, নিয়োগপ্রাপ্ত সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরকারের অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এনসিপির নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন যে, সরকার ভারতের সাথে গোপনে আঁতাত করে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করার চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে বিএনপি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চায়।

একই অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভে সকলকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পাশের দেশে অর্ধেক দামে এলপিজি গ্যাস পাওয়া গেলেও আমাদের দেশে কেন তা সম্ভব হচ্ছে না? সরকার জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এনসিপি ঐকমত্য কমিশনে নতুন ফর্মূলা দিয়েছিল। তবে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করার বিষয়ে ভাবছে বিএনপি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এটি কীভাবে নির্দলীয় হতে পারে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে স্টারলিংকের সেবা অনুমোদনে জটিলতা, গ্রাহকেরা অপেক্ষায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ভারতে স্টারলিংকের সেবা অনুমোদনে জটিলতা, গ্রাহকেরা অপেক্ষায়

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু নিয়ে ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানির মধ্যে বিরোধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা কবে নাগাদ স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পাবেন এবং এর জন্য তাদের কত খরচ করতে হবে। খবর গালফ নিউজ।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের সুযোগ থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করাও অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনুমোদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব থাকলে সেবা চালুর অগ্রগতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানায়, দেশে লাইসেন্স পাওয়া তিনটি স্যাটেলাইট অপারেটরের নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— ইলন মাস্কের স্টারলিংক, জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব। মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনটি প্রতিষ্ঠানই প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

স্টারলিংক ইতোমধ্যে টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স লাভ করেছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু করার জন্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। স্পেকট্রাম হলো বেতার তরঙ্গের নির্দিষ্ট অংশ, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগসেবা প্রদান করা হয়।

অতএব, স্টারলিংকের সেবা চালুতে বিলম্বকে শুধু লাইসেন্স না পাওয়ার সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনুমোদনপ্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপগুলোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আম্বানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রমাণ নেই

স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর বিলম্ব নিয়ে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন যে, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মহল এতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির নামও উল্লেখ করেছেন। তবে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

অন্যদিকে, রিলায়েন্স জানিয়েছে, তারা স্টারলিংকসহ স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানায়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, জিওর নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা চলছে।

ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ওপর সেবা চালুর অগ্রগতি নির্ভর করছে, এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

যে পর্যায়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন এবং আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপ বাকি রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে অনুমোদনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও অংশীদার

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রটি সহজ নয়। কারণ, দেশীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক সহযোগিতার উদ্যোগও রয়েছে।

গত বছরের মার্চে স্পেসএক্সের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় ভারতী এয়ারটেল। এর এক দিন পর একই ধরনের চুক্তির ঘোষণা দেয় রিলায়েন্স জিও। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এয়ারটেল জানিয়েছিল, তাদের বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে স্টারলিংকের সরঞ্জাম বিক্রি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সুযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

এ ধরনের উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছানো সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে এগুলো দেখায়, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে।

তবে এসব চুক্তি থেকে স্টারলিংকের কার্যক্রমে কেউ বাধা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বাজারের বাস্তবতা বুঝতে হলে প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং সেবা বিতরণের বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গ্রাহকেরা সরাসরি স্টারলিংকের কাছ থেকে সেবা কিনতে পারবেন কি না, বিভিন্ন প্যাকেজে কী সুবিধা থাকবে এবং প্রয়োজনে অন্য সেবাদাতার কাছে যাওয়ার সুযোগ কেমন হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

সেবার খরচই বড় প্রশ্ন

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে শুধু সংযোগের সুবিধা থাকলেই হবে না, এর ব্যয়ও গ্রাহকদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে।

ভারতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জোহোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী শ্রীধর ভেম্বু দেশটিতে কম খরচে মোবাইল ইন্টারনেট পাওয়ার সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন। ভ্রমণের সময় ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাজ করার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এই অভিজ্ঞতা দিয়ে ভারতের সব অঞ্চলে ইন্টারনেটের প্রাপ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার চিত্র বোঝা যায় না।

যেসব এলাকায় প্রচলিত ব্রডব্যান্ড সংযোগ নির্ভরযোগ্য, সেসব এলাকার গ্রাহকদের স্টারলিংকে যাওয়ার জন্য বাড়তি সুবিধা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যেসব গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় প্রচলিত নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

তবে নতুন সংযোগটি কতটা কার্যকর হবে এবং এর জন্য গ্রাহকদের কত ব্যয় করতে হবে, তা জানা জরুরি।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই) নির্দিষ্ট কিছু স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার জন্য সমন্বিত মোট আয়ের ৪ শতাংশ হারে স্পেকট্রাম চার্জ এবং শহরাঞ্চলের প্রতিটি গ্রাহকের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৫০০ রুপি ফি নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ফি মওকুফের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য সরঞ্জাম কেনায় ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশও করেছিল সংস্থাটি। তবে এসব ছিল সুপারিশ। চূড়ান্তভাবে কত টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হবে বা গ্রাহকদের মোট খরচ কত দাঁড়াবে, তা এসব প্রস্তাব থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে সরঞ্জাম কেনা, সংযোগ স্থাপন, মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি এবং চুক্তির শর্তের ওপর। ফলে সেবা সাশ্রয়ী হবে কি না, তা নির্ধারণে শুধু মাসিক প্যাকেজের মূল্য দেখলে চলবে না; মোট ব্যয়ের হিসাবও বিবেচনা করতে হবে।

নিরাপত্তা যাচাইয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলমান থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো অনিয়ম করেছে।

ট্রাইয়ের ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের সুপারিশে বলা হয়েছিল, নীতিগতভাবে নেটওয়ার্ক স্থাপনের অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। তা সম্ভব না হলে একই সময়ের মধ্যে আপত্তির বিষয়গুলো জানানো যেতে পারে। এটি স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়ার বাধ্যতামূলক সময়সীমা ছিল না; বরং প্রক্রিয়াটিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার একটি প্রস্তাব ছিল।

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ জরুরি।

কোম্পানিগুলোর উচিত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা। আর কর্তৃপক্ষের উচিত নিরাপত্তার স্বার্থে যতটুকু প্রকাশ করা সম্ভব, ততটুকু তথ্য দিয়ে অনুমোদনের বাকি ধাপগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার সুফল নির্ভর করবে গ্রাহকেরা কতটা সহজে সেবা পাচ্ছেন, এর খরচ তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকছে কি না এবং সংযোগটি কতটা নির্ভরযোগ্য হচ্ছে, তার ওপর। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা উচিত গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%