বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:১৫ পি.এম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী।এই ঘটনায় মসজিদের আদব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে অনেকে, ফলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামের মসজিদে এই দলীয় সভা আয়োজন করা হয়।জানা গেছে, নামাজের পর মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সভা শুরু করেন।সভায় মনোহর বাদশা নামের একজনকে ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।এ সময়ে জামায়াতের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে মোনাফেকগুলা।’ অন্য একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কিসের ভণ্ডামি, এরা ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু করে দিয়েছে।’
মিঠাপুকুরের হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা করা হয়ে থাকে, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ছে।মসজিদের ভেতরে তো গিবত করার সুযোগ নেই।এ ছাড়া চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় সভা করার ফলে মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধন না হয়ে সৌন্দর্যহানি ঘটলে, এটি মসজিদের আদবের লঙ্ঘন হয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, আমরা মসজিদভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো করি, তবে এভাবে প্রোগ্রাম করি না।মসজিদটি গ্রামের মধ্যে, একদম বাড়ির সঙ্গে।সেসময় সেখানে লোকজন ছিল না।এ কারণে আমরা মসজিদটি ব্যবহার করেছি।তিনি আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ।তবে এটাকে মানুষ ভালোভাবে নেয় না।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে যা আমিও দেখেছি।সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয় না।সামনের দিকে আমরা বিষয়টি খেয়াল রাখব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগে রিকশায় চড়তেন, এমন অনেকেই এখন প্রাডোতে (দামী গাড়ি) চড়ে জুলাই চেতনা বিক্রি করেন বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি, আমি নিজেও করেছি। আমাদের এখানে যারা আছেন অনেকেই জুলাই যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরা করেছেন। অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। কিন্তু, আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় না।
তিনি বলেন, অনেকেই রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন আর জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। আমি যে গাড়িতে চড়তাম সেই গাড়িটি নির্বাচনের সময় অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে, আমি এখনো সেই গাড়িতেই চড়ি। যারা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, আমি অনুরোধ করবো উনারা আগে কিসে চড়তেন আর এখন কিসে চড়েন, কোন বাসায় থাকেন, উনারা যেন মাঝেমধ্যে লাইভ করেন কোন বাসায় থাকেন ৷ একটু লাইভ করলেই জাতি দেখতো উনাদের কী (অবস্থা) এখন, আগে কোথায় ছিলেন এখন পরিবর্তনটা কী রকম হয়েছে।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, চিকিৎসা- আপনি দেখবেন সামাজিক সুরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়- আমরা এই দেশটিকে সিঙ্গাপুর, কানাডা বানাতে চাই। এই বাজেটে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকে। কর ছাড়ের সুযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিনিয়োগ করেন।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, সঠিক নেতৃত্ব, দূরদর্শী নেতৃত্ব একমাত্র তারেক রহমান। মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা যেমন মুক্তিযুদ্ধ ধারণ করি, আমরা জুলাইও ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের পর মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান যখন এ দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, এই দেশটিকে অর্থনীতির মুক্তির জন্যে তিনি দেশপ্রেমের উজ্জ্বল সততা, আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আমরা স্বাধীনতাকে জুলাই দিয়ে মুছতে চাই না, আমরা স্বাধীনতাকে অন্তরে ধারণ করি, জুলাইকেও অন্তরে ধারণ করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বসবাসরত ৫৪ শতাংশ বাঙালিসহ সব সম্প্রদায়ের জন্য একটি অভিন্ন কর নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কর্তৃক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৯৭ সালের চুক্তির মাধ্যমে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি সম্প্রতি চারজন সংসদ সদস্য কর্তৃক অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠির তীব্র প্রতিবাদ জানান। ওই চিঠিতে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে উপজাতিদের জন্য আগের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিতে চাই। যারা ট্যাক্স দেয় না, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না। তারা দেশের স্বাধীনতাও মানে না। ফলে তারা দেশ ও জাতির চরম শত্রু।’
পাহাড়ে সেনা শাসন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে কোনো সেনা শাসন চলে না। যদি চলত তাহলে জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য মন্ত্রী, হেডম্যান, সার্কেলচিফসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য পদে উপজাতিরা থাকত না, সেনাবাহিনীর লোক থাকতেন। আসলে সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটা গুজব ছড়ানোর জন্যই এটা বলা হচ্ছে।’
তিনি শান্তিচুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘শেখ হাসিনা নাই্, অথচ তার আইনেই এখন পাহাড় চলছে। আমরা চুক্তিকে সম্মান করি। কিন্তু ওই চুক্তি বিশ্বাস করি না, যা বৈষম্যমূলক এবং একটিমাত্র পক্ষকে সুবিধা দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড় নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক বুদ্ধিজীবী জড়িত। যারা জীবনেও পাহাড়ে যায়নি। অথচ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমরা পার্বত্যবাসী সরকারকে কর দিতে চাই। আমরা কোনো বৈষম্য চাই না। একই স্থানে দুই নীতি চলতে পারে না। কর সিস্টেম বাদ দিলে পাহাড়ের উপজাতি-বাঙালি সবারটাই বাদ দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড়ে কথিত শান্তিচুক্তির কালো আইনের বেড়াজালে পার্বত্য বাঙালিরা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত, সাংবিধানিক অধিকার বঞ্চিত। তার পরও পার্বত্য বাঙালিদের নিয়ে নানা অভিযোগ, নানা ষড়যন্ত্র করা হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল পয়েন্টগুলো হলো—
অর্থনৈতিক বৈষম্য: ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ চার দশক ধরে করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে উপজাতিদের একটি বড় অংশ আজ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তারা ব্যবসা, সরকারি চাকরি এবং ঠিকাদারি খাতের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ একই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালিরা নিয়মিত কর দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সচল রাখছেন। এতে সরকার একদিকে রাজস্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে উপজাতিদের কর না থাকায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা কর হারাচ্ছে সরকার।
সংবিধান ও সম-অধিকারের লঙ্ঘন: নাগরিক পরিষদের মতে, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে অনন্তকাল করমুক্ত রাখা সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকদের সম-অধিকার নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাহাড়ের অনগ্রসরতার দোহাই দিয়ে এই সুবিধা চিরস্থায়ী করার প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।
ভুল তথ্যের প্রতিবাদ: সংসদ সদস্যরা পাহাড়ের অনগ্রসরতার যে চিত্র (যেমন: সুপেয় পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবা ও সড়কের অভাব) তুলে ধরেছেন, তাকে ‘একপেশে ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। নাগরিক পরিষদের মতে, পাহাড়ে অনগ্রসরতা থাকলে তা বাঙালি ও উপজাতি উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু চিঠিতে বাঙালিদের দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষোভ: খাগড়াছড়ির বাঙালি সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া উপজাতি এমপিদের সঙ্গে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। একে স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী এবং ‘পিঠে ছুরি মারা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ভবিষ্যত শঙ্কা ও দাবি: নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, শুধু উপজাতিদের জন্য কর মওকুফ বহাল রাখলে পাহাড়ে বড় বড় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গড়ে উঠবে, যা দেশের মূল অর্থনৈতিক রাজস্ব নীতিকে পঙ্গু করে দেবে। এটি পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার একটি নীলনকশা বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সরকারের প্রতি কোনো প্রকার রাজনৈতিক হুমকিতে মাথা নত না করার অনুরোধও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আয়কর সংশোধনী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সব নাগরিকের জন্য একই নীতিতে কর আরোপ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংগঠনের লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক, শেখ আহমেদ রাজু, দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাত হোসেন কায়েশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ।
প্রসঙ্গত, আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৯নং অনুচ্ছেদে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের জন্য আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি বহাল রাখা হয়েছে। এটি মূলত ‘আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪’-এর ৬ষ্ঠ তফশিলের ২৭নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত সুবিধারই ধারাবাহিকতা। তবে বর্তমানে আয়কর আইন ২০২৩-এর ৬ষ্ঠ তফসিলে একটি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো উপজাতিদের জন্য পূর্বে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বাতিল করা বা পরিবর্তন আনা। যাতে উৎস অনুসারে, পাহাড়ে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে উপজাতি ও বাঙালি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন কর নীতি কার্যকর করা যায়।
প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বাতিলের জন্য গত ২১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের চার সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ চিঠি পাঠান। ফলে পাহাড়ে এই নিয়ে চরম বির্তক ও বৈষম্য বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আতঙ্কিত স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন মারিয়া আলেহান্দ্রা, যিনি কারাকাসের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের ভবনের ভেতরে ছিলেন এবং কিছু মুহূর্তের মধ্যে তার চারপাশ যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যায়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি কোনোমতে পোশাক পরতে পেরেছিলাম। এরই মধ্যে ভবনের সব দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। অনেক কষ্টে আমরা দরজা খুলতে সক্ষম হই। চারদিকে এত ধুলোর মেঘ ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “নিচে নেমে যা দেখেছি, তা যেন কোনো হরর সিনেমার দৃশ্য। ভবন থেকে বের হতে আমাদের ধ্বংসস্তূপ টপকে যেতে হয়েছে। আমি মাত্র একটি পরিবারকে সেখান থেকে বের হতে দেখেছি।”
মারিয়ার এই বর্ণনা ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়েছে, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোর্স: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক সময় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনে বলেছিলেন, ‘সব ইহুদি আপনার ওপর বিরক্ত।’ নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বইয়ে এটি দাবি করা হয়েছে।
আসলে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজার যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার দাবি করেন এবং তাঁকে বলেন, ইহুদিরা আপনার উপর বিরক্ত।
‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অফ ডনাল্ড ট্রাম্প’ শীর্ষক বইটিতে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে, যখন তিনি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন।
বইতে বলা হয়েছে, সেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় ট্রাম্পও বলেছিলেন, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই কলে থাকা দুজন ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত,’ তিনি এই মন্তব্যটি ইহুদি মার্কিন কর্মকর্তা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের দিকে লক্ষ্য রেখে বলেন।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ ছিল, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে সংঘটিত হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং উপত্যকাটি পুনর্গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
ওই মাসের শুরুতে তেল আবিব ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ইসরাইল কাতারে হামাসের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছিল। যদিও এই হামলায় হামাসের নেতারা নিহত হননি, তবে হামাসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একজন কাতারি রক্ষীও নিহত হন।
ফোনকলের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে তার ‘পিছিয়ে আসার’ অনুমতি নেই। তিনি নেতানিয়াহুকে জানান, ‘ইসরাইলের এযাবৎকালের সেরা বন্ধু আমি। সবাই আপনাকে ঘৃণা করে, আর আমি আপনার পাশে থেকেছি।’
বইটির একটি পৃথক অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় প্রশাসনের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে ‘প্রতারক’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।
এই বইটির উদ্ধৃতিগুলো এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অথবা অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক একটি ফোনকলে ট্রাম্প লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এটি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বিপন্নের হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
ট্রাম্প এই ফোনকলের সময় আরও দাবি করেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে জেল থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করেছেন — এটি ইসরাইলি নেতার দুর্নীতির বিচার চলাকালীন তার সমর্থনের প্রতি একটি ইঙ্গিত।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ